সানজিদার ৪০ গজ দূরের গোল নিয়ে যা বললেন আসলাম

খেলার সময় গড়িয়েছিল ৪৮ মিনিটে। তখনও ইস্টবেঙ্গল ২-০ গোলে পিছিয়ে। কিকস্টার্ট এফসির এক খেলোয়াড় ফাউল করলে ফ্রি কিক পায় লাল হলুদের দলটি। গোল পোস্টের ৪০ গজ পেছনে দূর থেকে লম্বা শট নেন বাংলাদেশি ফুটবলার সানজিদা আক্তার। কিকস্টার্টের গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে জালে জড়ায়। বাংলাদেশের সানজিদার ঐ এক গোলেই ব্যবধান কমিয়ে উল্লাসে মেতে উঠে সল্টলেকের দলটি।

যদিও সানজিদার ঐ গোল জেতাতে পারেনি তার দলকে। ৫৬ মিনিটে কিকস্টার্টের তৃতীয় গোলে আরও পিছিয়ে পড়ে ইস্টবেঙ্গল। তারপর ৩-১ গোলের পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়। তবে হারলেও সানজিদার ঐ গোল হৃদয় ছুঁয়ে গেছে সাবেক ফুটবলার শেখ মোহাম্মদ আসলামের।

দেশভাগের সময় কলকাতায় পাড়ি জমানো পূর্ব বঙ্গের বাঙালি ভাবাবেগকে প্রাধান্য নিয়ে গড়ে ওঠা ইস্ট বেঙ্গল ক্লাবটিতে খেলেছেন এই আসলামরাও। নব্বইয়ের দশকে এই ক্লাব লিগ শিল্ডে মুখ থুবড়ে পড়েছিল। টিকে থাকার লড়াই থেকেও ছিটকে যাচ্ছিল। আর সেই সময় তাদের নজর পড়ে ঢাকার ক্লাব আবাহনীর দিকে। শেখ মোহাম্মদ আসলামকে তারা প্রস্তাব দেয়। কিন্তু আসলাম একা যেতে রাজি হননি। সঙ্গে নিয়ে যান মোনেম মুন্না, রিজভি করিম রুমি ও গোলাম গাউসকে। ময়দানে সেদিন তিন ঢাকাই ফুটবলারের পা পড়তেই বদলে যায় ইস্টবেঙ্গলের ভাগ্য। এই ইস্টবেঙ্গল মাঠেই ফুল ফোটাতেন তারা। তাদের নাম ফিরত সমর্থকদের মুখে মুখে। গ্যালারিতে জয়ধ্বনি আর ম্যাচ জেতার পর উচ্ছ্বাস ছিল নিত্যদিনের বিষয়।

সেই আসলামদের পথ অনুসরণ করে যাওয়া সানজিদাকে নিয়ে আসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সাম্প্রতিককালে ফুটবলের বিপ্লব হয়েছে, তা মেয়েদের হাত ধরেই। ফুটবলের যত বড় শিরোনাম হয়েছে, সেখানেও কৃতিত্ব এই মেয়েদের। আমাদের গর্বের বিষয় যে সানজিদা ও সাবিনারা বিদেশের মাটিতে গেছে ফুটবল খেলতে।’

সানজিদার গোল নিয়ে আসলামের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘বলটা সেখানে পৌঁছানোর আগেই গোলকিপার লাফ দেয়। এতেই কাজ সহজ হয় সানজিদার। কৃতিত্বটা অবশ্য তারই, কারণ গোলকিপারকে বোকা বানিয়েই তো গোল আদায় করতে হয়। সেখানে নিশ্চয়ই সে প্রশংসার দাবি রাখে।’