সাভারে গৃহকর্তার 'কুপ্রস্তাবে' রাজি না হয়ে কাজ ছেড়ে দেওয়ায় সাজেদা বেগম নামে এক গৃহকর্মীকে চুরির অপবাদ দিয়ে মারধরসহ শরীরে প্লাস ও সুই বিঁধিয়ে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ওই গৃহকর্তা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। গুরুতর অবস্থায় সোমবার রাতে ভুক্তভোগী ওই গৃহকর্মীকে উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে স্থানীয়রা।
নির্যাতনের শিকার সাজেদা বেগম কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী থানার বোর্ড বাজার গ্রামের আব্দুল মালেকের স্ত্রী। তিনি সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের খড়ারচর এলাকায় মঞ্জুর গাজীর বাসায় ভাড়া থেকে এলাকায় গৃহকর্মীর কাজ করেন।
ভুক্তভোগী গৃহকর্মী সাজেদা বেগমের অভিযোগ, গৃহকর্তার কুপ্রস্তাবে রাজি না হয়ে কাজ ছেড়ে দেওয়ায় গৃহকর্তা তুহিন দম্পতি ও তাদের সহযোগীরা আমার ওপর অমানুষিক নির্যাতন করেছে। আমার স্বামী ভাঙ্গারির ব্যবসা করে। দুই ছেলে-মেয়ে নিয়ে আমরা ভাড়া বাসায় বসবাস করে স্থানীয় তুহিন ও সুমি দম্পতির ফ্ল্যাটে গৃহকর্মীর কাজ করতাম। কিছুদিন আগে গৃহকর্তা তুহিন আমাকে ১ হাজার টাকার লোভ দেখিয়ে কুপ্রস্তাব দিলে রাজি না হয়ে কয়েকদিন আগেই আমি চাকরি ছেড়ে দিই। পরে গত ৩১ তারিখ তাদের ফ্ল্যাট থেকে টাকা ও গয়না চুরি হয়েছে বলে সোমবার আমাকে রাস্তা থেকে স্বামী-স্ত্রী মিলে চুলির মুঠি ধরে টেনেহিঁচড়ে তাদের ফ্ল্যাটে নিয়ে আটকে রাখে।
ভুক্তভোগী আরও বলেন, আমি গরিব বলে মানুষের বাসায় কাজ করি। কিন্তু তুহিনের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সে আমাকে চোর বানাইছে। মিথ্যা চুরির অপবাদ দিয়ে তারা আমাকে অনেক মারছে। এছাড়া চুরির স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য সারাদিন তুহিন ও তার কারখানার ৪/৫ জন মিলে মোটা পাইপ দিয়ে আমার কাপড় খুলে সারা শরীরে পিটাইছে। গলা চিপে ধরে পায়ের আঙুলের ফাঁকে ফাঁকে সুই বিঁধিয়ে নির্যাতন করেছে। প্লাস দিয়ে হাতের আঙুলে চাপ দিয়ে জখম করে মোবাইলে চুরির স্বীকারোক্তি রেকর্ড করছে। একপর্যায়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আমাকে সোমবার রাতে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া মো. রুবেল বলেন, 'পাশাপাশি বাসায় ভাড়া থাকায় আমার জানালা দিয়ে ওই বাড়ির জানালা ২/৩ ফুট ব্যবধানের কারণে দেখা যায়। আমি ঘুম থেকে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চিল্লাচিল্লি শুনে উঠছি। তখন পাশে ওই কাজের মহিলাকে চোর সাব্যস্ত করছিল বাড়ির লোকজন। চুরি হইছে পাঁচ দিন আগে। একপর্যায়ে ওই মহিলাকে ওই বাড়ির লোকজনসহ পাশের লোকরাও অনেক মারধর করছিল। আমি অনেক মারধর থামাইছি। পরে আমি বাইরে গেলে কিছু লোকজন এসে ওই মহিলারে প্লাস দিয়ে পায়ের নখ তুলে ফেলছে, সেপটিপিন ফুটিয়ে শরীর ক্ষতবিক্ষত করছে। কিন্তু ওই লোক গুলারে আমি চিনি না।'
তবে গৃহকর্মীকে মারধর ও অমানবিক নির্যাতনকারী অভিযুক্ত গৃহকর্তা মো. তুহিন ও তার সঙ্গীদের সাথে এ বিষয়ে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সায়েমুল হুদা বলেন, সোমবার রাতে আহত খাদিজা বেগমকে গুরুতর অবস্থায় আমাদের হাসপাতালে আনা হয়। তার সারা শরীকে মারধর, সুই দিয়ে বিভিন্ন স্থানে আঘাতসহ প্লায়ার্স দিয়ে আঙুল চাপা হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত অমানবিক, এভাবেও কাউকে মারধর করা যায়! তবে আমরা পর্যাপ্ত চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি। খুব দ্রুতই তিনি সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরতে পারবেন।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকবর আলী খান বলেন, চুরির অপবাদে নির্যাতনের ঘটনায় আপনাদের কাছ থেকেই শুনলাম। কিন্তু এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেব।