ভুটানের জালে ‘এক হালি’ বাংলাদেশের

মঙ্গলবার ভুটানের বিপক্ষে মাঠে নামার আগেই ভারত যে ফাইনালের প্রতিপক্ষ, তা জেনে গিয়েছিলেন বাংলাদেশ কোচ সাইফুল বারী টিটু। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচের জন্য তাই কোন ঝুঁকি নেননি। দু'দিন আগে ভারতের বিপক্ষে খেলা একাদশের নয়জনকে বিশ্রাম দিয়ে ভুটানের ম্যাচের একাদশ সাজালেন বাংলাদেশ কোচ। ফাইনালের আগে বেঞ্চারদের পরখ করে দেখার সুযোগটাও কাজে লাগালেন টিটু। দ্বিতীয় সারির দল অবশ্য হতাশ করেনি। কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে ভুটানকে ৪-০ গোলে হারিয়ে লিগপর্বের শীর্ষ দল স্বাগতিকরা। বৃহস্পতিবার ছয়টায় শুরু হবে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ-ভারত ফাইনাল।

ভারতের বিপক্ষে ১-০ জয়ের ম্যাচে খেলা গোলকিপার স্বর্ণা রানী মন্ডল ও রাইট উইঙ্গার উমেলহা মারমা শুরু থেকে খেলেছেন কাল। আফিদা খন্দকার না থাকায় নেতৃত্ব দিয়েছেন স্বর্ণা। আগের দুই জয়ের নায়ক সাগরিকাসহ নিয়মিতরা ম্যাচটা দেখেছেন ম্যাচ থেকে। তাতে বেঞ্চাররা পেলেন নিজেদের প্রমাণের সুযোগ। সেটা সবচেয়ে বেশি কাজে লাগিয়েছেন ঐশী খাতুন। জোড়া গোল করার পাশাপাশি নুসরাত জাহান মিতু ও তৃষ্ণা রানীকে দিয়ে করিয়েছেন একটি করে গোল।

শুরুতে গুছিয়ে নিতে একটু সময় লেগেছে বাংলাদেশের। তবে গুছিয়ে নিয়ে ভুটানের অর্ধ্বেই বল রেখেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। ১৮ মিনিটে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেন মিতু। ঐশী বক্সের জটলায় বল ফেলেছিলেন। ফাঁকায় থাকা মিতু সেটা পেয়ে ডান পায়ের শটে গোলের আনুষ্ঠানিকতা সাড়েন। ৩১ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে বাংলাদেশ। মিতুর কর্নারে ঐশির হেড ভুটান কিপার দিকশা রায়ের মাথার ওপর দিয়ে জালে প্রবেশ করে।  দুই গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যাওয়া স্বাগতিকরা দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রাখে। ৫৮ মিনিটে ঐশী ডান দিক থেকে আড়াআড়ি পাস বাড়ান। তাতে আলতো করে পা ছুঁইয়ে গোলের আনুষ্ঠানিকতা সাড়েন তৃষ্ণা। নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়ার ভুলে ভুটানকে হজম করতে হয় চতুর্থ গোল। ৬২ মিনিটে ভুটান কিপার দিকশা পাস দিয়েছিলেন তিসেরিং পেলজমকে। এই ডিফেন্ডারের দুর্বল ব্যাক পাস দিকশার কাছে পৌঁছানোর আগেই ডানপায়ের শটে বল জালে জড়ান ঐশী।

দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে বড় জয় পাওয়ায় ভীষণ খুশি টিটু কৃতিত্ব দিলেন খেলোয়াড়দের, 'আমি সত্যি ওদের নিয়ে গর্বিত। ফাইনাল নিশ্চিত হওয়ার পর আমার পরিকল্পনাই ছিল দলের বাকিদের দেখে নেওয়ার। তাদের একটা কথাই বলেছি, তোমরা নিজেদের সেরা দিয়ে খেলো। গোলের চিন্তা করো না। কারণ ভুটান গোল দেওয়ার চেয়ে কম গোল খাওয়ার চেষ্টা করবে। সবচেয়ে ইতিবাচক হলো ওরা চারটি ভালো গোল করেছে।' একটা জমজমাট ফাইনালের আশা করে টিটুর প্রত্যাশা বিশ্রাম পাওয়া মূল একাদশের খেলোয়াড়রা নিজেদের জন্যই চাইবে শিরোপা জিততে, 'একটা শিরোপায় অনেক স্বীকৃতি মিলে। আমার মনে হয় ফাইনালটা যে কারও হতে পারে। তবে যেহেতু নিয়মিতরা কিছুটা বিশ্রামের সুযোগ পাবে, তারা তাদের সেরাটা দিবে। তবে মনে রাখতে হবে এখানে মানসিক প্রস্তুতিটা জরুরি। ফাইনালের জন্য সেভাবেই তাদের প্রস্তুত করার চেষ্টা থাকবে।'