আমার শৈশব ছিল অনেক রঙিন

দেশের মানুষ চিনেছে তাকে নাটক দিয়ে। এরপর চলচ্চিত্রে বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করে আলোচনায় এসেছেন বারবার। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে ১০টি চলচ্চিত্র ও দুটি ওয়েব ফিল্ম। কাজ শেষ করলেন রুখাসার, শুরু করবেন আলবানু লেন চলচ্চিত্রের শুটিং। ব্যক্তিগত ও অভিনয়জীবন নিয়ে রাশেদ মামুন অপুর মুখোমুখি হয়েছেন মাহতাব হোসেন

মঞ্চ আমার জননী

মঞ্চ আমার কাছে জননী, মঞ্চ আমাকে উঠে দাঁড়াতে শিখিয়েছে। আমাকে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। মঞ্চের কারণে আজ এ পর্যন্ত আমি। নাটক আমার কাছে স্বাচ্ছন্দ্যের জায়গা। দীর্ঘ সময় নাটকে অভিনয় আমাকে এ পর্যায়ে নিয়ে আসার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। নাটক করতে গিয়েই আমি চলচ্চিত্রের প্রস্তুতি নিয়েছি। নিজেকে তৈরি করেছি। চলচ্চিত্র আমার কাছে কাক্সিক্ষত জায়গা। মঞ্চ, নাটক, চলচ্চিত্র এই তিনটি আমার স্বাচ্ছন্দ্যের জায়গা।

এখনো সে রকম চরিত্র পাইনি

চলচ্চিত্র বা নাটকে কাজ করতে গিয়ে কোনো নির্দিষ্ট কাজে আমাকে সার্থক মনে হয়েছে, এভাবে আমি ভাবিইনি। কিছু কাজ করে আরাম পেয়েছি, এখনো নিজেকে সার্থক ভাবতে পারছি না। কারণ এখনো সে রকম চরিত্র আমি পাইনি, যেখানে নিজেকে বিকশিত করতে পেরেছি। এত তাড়াতাড়ি নিজেকে সার্থক মনে করতে চাই না। তবে দামাল, নবাব এলএলবি, সর্বশেষ প্রহেলিকাতে কাজ করে আরাম ও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেছি।

নিজের কাছে পরিতৃপ্ত

আমি যখন অভিনয় করব না, সরে আসব বা সামর্থ্য থাকবে না- তখন আমি যেন মানুষের চোখে অন্তত দেখতে পাই, মানুষ যেন বলে সে একজন ভালো অভিনেতা হওয়ার চেষ্টা করেছে। অভিনয় নিয়ে আমার ভাবনা ক্লিয়ার, যতদূর পারা যায় আমার সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করার চেষ্টা করে যাব। মৃত্যুর আগে অন্তত এতটুকু ভাবতে পারি যে, না আমি চেষ্টা করেছি। সফল হলাম কিংবা বিফল তাতে আমার কিছু যায় আসে না, অন্তত নিজের কাছে পরিতৃপ্ত থাকাটা জরুরি।

অবসরে বই সঙ্গী

অবসর সময়ে আমি বই পড়ার চেষ্টা করি। যা পাই তাই পড়ি, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ভালো লাগে, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, বুদ্ধদেব গুহ, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, হুমায়ূন আহমেদ ভালো লাগে। অনেকদিন পরে আহমদ ছফা পড়ছি, তার সেরা উপন্যাসগুলো পড়ছি, যতবার পড়ি ততবার ভালো লাগে। এছাড়াও সিনেমা দেখি।

বৈচিত্র্যময় শৈশব

আমার শৈশবটা অনেক মজাদার ছিল। বাবা-মা ব্যাংকে চাকরি করতেন। এ কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে বেড়ানো হতো। বাবা-মায়ের বদলি অধিকাংশ সময় একই সময়েই হতো। ফলে প্রচুর জায়গা আমার ঘোরা হয়েছে, প্রচুর মানুষকে দেখা হয়েছে। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আমার অনেক বন্ধু হয়েছে। বৈচিত্র্যময় পরিবেশের সান্নিধ্য পেয়েছি। বাবা যেহেতু

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন, কবি ছিলেন- সেহেতু সন্ধ্যার পরপরই বাসায় আড্ডা হতো, গান-বাজনার আসর বসত। বিভিন্ন দিবসের রিহার্সেল হতো। শৈশবটা আমার রঙিন কেটেছে। যাযাবর জীবনে এক ধরনের মজা রয়েছে। এই অভিজ্ঞতা আমার পরবর্তী জীবনে কাজে লেগেছে।

পরিচয়ের তিন মাসেই বিয়ে

প্রেম করার খুব বেশি সুযোগ পাইনি, যাকে ভালো লেগেছে, তাকেই তিন মাসের মাথায় বিয়ে করে ফেলেছি। প্রেম নিয়ে আমার কোনো চিন্তাভাবনাও ছিল না। একটা সময় পর্যন্ত থিয়েটার নিয়েই ব্যস্ত ছিলাম। থিয়েটারই আমার প্রেম ছিল।