২ সেতুর কাজ ফেলে পালিয়েছে ঠিকাদার

রংপুরের পীরগঞ্জে করতোয়া নদীর ওপর প্রায় ৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি সেতুর নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় ভোগান্তি পোহাচ্ছেন দুই জেলার প্রায় আট লক্ষাধিক মানুষ। সেতু দুটির নির্মাণকাজ ২৮ মাসে শেষ করার কথা থাকলেও ৬৪ মাসে মাত্র অর্ধেক কাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্যেই কাজ বন্ধ রেখে পালিয়ে গেছে ঠিকাদার। ফলে গত প্রায় নয় মাস ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে নৌকা ও সাঁকোয় চড়ে পার হচ্ছে রংপুর ও দিনাজপুর জেলার পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষজন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ তদারকির অভাব ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছাচারিতায় তাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পীরগঞ্জ উপজেলার পশ্চিমাঞ্চল এবং দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট, নবাবগঞ্জ ও বিরামপুর উপজেলার মানুষের উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিতের লক্ষে পীরগঞ্জের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী করতোয়া নদীর ওপর সেতু দুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেন। পরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ সিআইবি প্রজেক্টের মাধ্যমে জয়ন্তীপুর ঘাটে গোপিনাথপুর সড়কে ২৯৪ মিটার দৈর্ঘ্যরে সেতু নির্মাণের জন্য ২৯ কোটি ৪৮ লাখ ৯৪ হাজার ২০৩ টাকা বরাদ্দ দেয়। একই প্রকল্পের আওতায় চতরা জিসি গিলাবাড়ি ঘাট ভায়া নিশ্চিন্তবাটি প্রাথমিক বিদ্যালয় সড়কের নুনদহঘাট পর্যন্ত করতোয়া নদীতে ৩০১ মিটার দৈর্ঘ্যরে আরেকটি সেতু নির্মাণের জন্য ২৬ কোটি ৮২ লাখ ৩৩ হাজার ৮৭৮ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। টেন্ডারে সেতু দুটির কাজ পায় চট্টগ্রামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘পি পি এল জে ভি ৫২ ছাত্তার ম্যানসন ও প্যান্স লাইনস’। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে ২৮ মাস মেয়াদী এ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। শর্তানুযায়ী ২০২০ সালের ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা। কিন্ত অদ্যাবধি সেতু দুটির প্রায় অর্ধেক কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নির্মাণকাজের মধ্যেই ২০২৩ সালের মে মাসে নুনদহঘাট সেতুর পিয়ারক্যাপে ফাটল দেখা দিলে এলাকাবাসীর মধ্যে কাজের মান নিয়ে চরম অসন্তোষ দেখা দেয়। বিভিন্ন মাধ্যমে এ খবর প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট দপ্তর বিশেষ আঠা দিয়ে পিয়ারক্যাপের ফাটল বন্ধ করেন। এতে ফুঁসে ওঠে এলাকাবাসী। তখনই কাজ ফেলে রেখে ঠিকাদার পালিয়ে যায়। তারপর গত প্রায় নয় মাস ধরে সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, জয়ন্তীপুর ঘাটে বাঁশের সাঁকো বেয়ে এবং নুনদহঘাট সেতুতে নৌকায় পারাপার হচ্ছেন মানুষজন। ভারী মালামালসহ বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে ওই পথে যাওয়া যায় না। এ ক্ষেত্রে ঘুরতে হচ্ছে দীর্ঘ পথ। এ ছাড়া যানবাহন চলাচল না করায় অসুস্থ রোগীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

ঘোড়াঘাট উপজেলার ভেলামারী গ্রামের শিক্ষার্থী শাহিন বলেন, ‘আমার বাড়ি নদীর ওপারে হলেও লেখাপড়ার জন্য গিলাবাড়ি স্কুলে যাই। প্রতিদিন নৌকা দিয়ে পার হতে হয়। বৃষ্টি হলে স্কুলে যাওয়া যায় না।’

গিলাবাড়ি গ্রামের শাফিউল নামে এক শিক্ষক বলেন, ‘এ পথ দিয়ে রোগী, ফসলাদিসহ ভারী কোনো মালামাল নেওয়া যায় না। কর্তৃপক্ষের অবহেলায় আজ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’ নবাবগঞ্জ উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের রফিকুলের ছেলে নুর ইসলাম বলেন, ‘পাঁচ বছর ধরে সেতুর কাজ চলছে। এখন পর্যন্ত শেষ হয়েছে মাত্র অর্ধেক কাজ। এ অবস্থায় স্কুল-কলেজের বাচ্চা ও বৃদ্ধসহ সবার চলাচল খুব কষ্টকর হয়ে পড়েছে।’

পীরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. মশিউর রহমান বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নুনদহঘাট সেতুর চুক্তির ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্নের হিসাব দিয়েছে। এ সেতুর রিটেন্ডার প্রক্রিয়াধীন। জয়ন্তীঘাট সেতুর রিটেন্ডার হয়েছে। এ সেতুর কাজ প্রায় ৬০ শতাংশ হয়েছে। ওই ঠিকাদার যতটুকু কাজ করেছে তাকে সে পরিমাণ বিল দেওয়া হয়েছে।’