মাত্র ছয় বছরের পথচলাতেই আলোচিত প্রকাশনা হয়ে উঠেছে চন্দ্রবিন্দু। প্রকাশক কবি চৌধুরী ফাহাদ বললেন, প্রকাশনায় আসার পেছনে শুরু থেকে স্পেসিফিক ভাবনা ছিল না। নিজের বইগুলো যখন বিভিন্ন প্রকাশনী থেকে বের হচ্ছিল, অন্যান্য কিছু বাদ দিলেও আমি আসলে বইটার প্রোডাকশন যেমন মনে মনে প্রত্যাশা করতাম, সেভাবে পাচ্ছিলাম না। এই জায়গা থেকেই কয়েকজনের কয়েকটা বই নিজে করার চেষ্টা থেকে ২০১৮ সালে প্রকাশনা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে চন্দ্রবিন্দু। বলতে পারেন, একটা প্যাশন থেকেই প্রকাশনায় আসা।’
মানুষের ফিডব্যাক, ভালোবাসাকে ছয় বছরের পথচলায় বড় অর্জন বলে মনে করেন চৌধুরী ফাহাদ। অর্থনৈতিকভাবে চন্দ্রবিন্দু লাভজনক কি না? এমন প্রশ্নে চৌধুরী ফাহাদ বলেন, ‘লাভজনক বলা যাবে না। প্রপার বিজনেসের চেয়ে আমাদের কাছে প্যাশনটাই বড়। বইয়ের প্রতি একটা মোহ তৈরি হয়ে গেছে।
চৌধুরী ফাহাদ বলছিলেন, ‘এপ্রিসিয়েশন দিয়ে আসলে মানসিক তৃপ্তি পাওয়া যায়। এপ্রিসিয়েশন কখনো ক্যাশ ইন হয় না, কখনো আর্থিক মূল্য দিয়ে আসলে বইয়ের কাজকে জাজ করা যাবে না। আমাদের একটা বিজনেস রান করার জন্য খুব জেনারেলি আউটপুট দরকার আছে। ইনপুট-আউটপুট তো আমরা দিচ্ছি। যেহেতু ইটস আওয়ার বিজনেস। আউটপুটটা আসলে ওই পর্যায়ের না। বাংলাদেশে বেশিরভাগ প্রকাশনার অবস্থা আসলে এ রকমই।’
প্রশংসার পাশাপাশি নিন্দাও তো আছে। সেটা কীভাবে সামলানএ প্রসঙ্গে চৌধুরী ফাহাদ বলেন, ‘আমাদের দেশের নিন্দা কালচারটা খুব গড়পড়তা। স্পেসিফিক কোনো কিছু নিয়ে ব্লেইম না করে আমি একদম গণহারে সবাইকে নিয়ে ব্লেম করছি। এটাই ট্রেন্ড, যেকোনো সেক্টরে যান এসব নিয়ে আমরা মাথা ঘামাতে চাই না।’
প্রতি বছর চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় বইমেলায় স্টল নিয়ে আসেন। একুশে বইমেলাকে আপনি কতটা সহায়ক মনে করেন, বিশেষ করে আপনাদের মতো ভালোবাসার টানে যারা কাজ করেন এমন প্রকাশকদের জন্য? এ প্রসঙ্গে ফাহাদ বলেন, ‘আমরা আঞ্চলিক প্রকাশনা, এটা আসলে আমি ঠিক মনে করি না। আমরা সমগ্র দেশেরই প্রকাশনা। আমাদের লেখকরা সারা দেশে ছড়িয়ে আছে। চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশ করছি, কিন্তু সারা দেশেই প্রায়োরিটি দিয়ে আমরা লেখক চুজ করছি। বইমেলা আসলে সহায়ক। আমরা যদি রকমারির কথা বলি, ওরা যে বিজনেস স্ট্র্যাটেজিতে বিজনেস করছে, এটা তো আগে ছিল না। তো এই কারণে সেলিংটা আসলে ভাগ হয়ে গেছে। সরাসরি প্রকাশনী যতটা সেল করছে অনলাইনের মাধ্যমে বেশি সেল হয়। বইমেলা সরাসরি প্রকাশনী কানেকটেড। সরাসরি ফিডব্যাক থেকে শুরু করে, রিটেলিংটাও আমরা সরাসরি করতে পারছি। আর বড় বিষয় হচ্ছে এখান থেকে আলাপে আলাপে অনেক ভালো রাইটার যাদের আমি চিনতাম না, তাদের পেয়ে যাচ্ছি। অনেকগুলো দিক থেকেই আসলে মেলা সহায়ক।’
চন্দ্রবিন্দু বইয়ের প্রচার ও বিপণনে কী ধরনের কাজ করে আর লেখকদের ওপর প্রচারণার দায়িত্ব চাপিয়ে দেয় কি না জানতে চাইলে ফাহাদ খুব প্রাউডলি বলেন, ‘আমাদের প্রকাশিত কোনো বইয়ের লেখককে আমি বা প্রকাশনীর পক্ষ থেকে কখনোই তাগাদা, জোর এগুলো করিনি এবং আমার রাইটারও খুব একমত হবেন এ বিষয়ে। প্রত্যাশা থাকতে পারে রাইটারের প্রচারণার। রাইটার তো তাদের জায়গা থেকে প্রচার অবশ্যই করে। এটা তাদের ব্যক্তিগত। এখানে আমাদের কোনো রকম ইনফ্লুয়েন্স নাই। আমরা রেগুলার প্রমোশন করার ট্রাই করছি। সারা বছরই আমরা অনলাইন, অফলাইন অ্যাকটিভিটি থাকে এবং আমাদের চেষ্টা থাকে প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতেও কমার্শিয়ালি সাউন্ড না হলেও আমরা প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেলাগুলোয় যাওয়ার চেষ্টা করছি। এ ক্ষেত্রে আমরা এটাকে দেখছি আসলে প্রকাশনীর ও লেখকের নাম প্রতিটি অঞ্চলের মানুষের কাছে যাওয়ার ওয়ে হিসেবে। আমরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ইয়াংদের নিয়ে কাজ করেছি। ইয়াংদের নামটা আপামর মানুষের কাছে যেতে একটু সময় লাগে। এই চেষ্টাটা আমরা করছি।’
ফাহাদ জানান, চন্দ্রবিন্দুর রয়েছে সম্পাদনা পরিষদ। পা-ুলিপি পড়েই তারা বই নির্বাচন করেন, লেখকদেরও প্রতি বছরই রয়্যালিটি ও বিক্রির হিসাব বুঝিয়ে দিতে চেষ্টা করেন।