পীরের আদেশে মৃত্যুর আগেই নিজের কবরের জায়গায় ঘর বানিয়ে বসবাস করছেন কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার মোহাম্মদ আলী নামে সত্তর বছর বয়সী এক বৃদ্ধ। পীরের কথানুযায়ী সে পরিবারের সবাইকে বলে রাখছেন, মৃত্যুর পর যেন এখানেই তাকে দাফন করা হয় এটা নাকি তার পীরের আদেশ। ৭০ বছর আগে গাজীপুরের চাঁনপুরের আব্দুস সামাদ চানপুরীর কাছে বাইয়াত নিয়েছিলেন মোহাম্মদ আলী।
পীরের আদেশেই মৃত্যুর আগে কবরস্থান নির্মাণ করে রেখেছেন তিনি। এবং কি সেখানে তিনি রীতিমতো থাকছেন। মোহাম্মদ আলী উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের চরকাটিহারী গ্রামের আসমাঈল শেখের ছেলে। তিনি দুটি বিয়ে করেছেন। তার পাঁচ ছেলে ও ছয় মেয়ে রয়েছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়ির সামনেই ১১ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৮ ফুট প্রস্থের একটি পাকা ঘর নির্মাণ করেছেন মোহাম্মদ আলী। ঘরে লাগানো রঙিন বাতি। দ্বিতীয় স্ত্রী জীবিত থাকলেও গত চারদিন ধরে এ ঘরেই বসবাস করছেন তিনি। তার এই ঘর দেখতে ছুটে আসছেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ। মোহাম্মদ আলীর ইচ্ছা, মৃত্যুর পরে যেন তাকে এ ঘরেই দাফন করা হয়।
একই গ্রামের প্রতিবেশী মামুন খান বলেন, এর আগে মোহাম্মদ আলী দাদা এখানে মাজার তৈরি করেছিলেন। কয়েকদিন ধরে এখানেই বসবাস করছেন তিনি। পরিবারের কাছে তার দাবি মৃত্যুর পর যেন এখানেই তাকে কবর দেওয়া হয়।
এ সর্ম্পকে জানতে চাইলে পুত্রবধূ আঁখি বেগম বলেন, শ্বশুর আগে আমাদের সঙ্গেই বাড়িতে থাকতেন। এখন বাড়ি ছেড়ে কবরের ওপর ঘর তৈরি করে বসবাস করছেন তিনি।
এ ব্যাপারে মোহাম্মদ আলীর দ্বিতীয় স্ত্রী রাশিদা বেগমের (৬০) সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, আমার স্বামী দুই বছর ধরে এই ঘর তৈরি করছেন। নিজের ঘর রেখে গত চারদিন ধরে এখানে বসবাস করছেন। তার দাবি, মৃত্যুও পর তাকে যেন এ ঘরেই দাফন করা হয়।
এ বিষয়ে মোহাম্মদ আলী জানান, পীরের অসিয়ত ছিল তাই ঘরটি নির্মাণ করেছি। এতে খরচ হয়েছে প্রায় চার লাখ টাকা। এখন আমার একটাই দাবি মৃত্যুর পরে যেন আমাকে এই ঘরেই দাফন করা হয়।