রোজার আগেই ঈদ প্রস্তুতি কেরানীগঞ্জ পোশাক পল্লীতে

আসন্ন রমজানের ঈদ সামনে রেখে কেরানীগঞ্জের পোশাক পল্লীর কয়েক লাখ শ্রমিক পোশাক তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এখানে তৈরি হচ্ছে নানান রঙের, নানান ডিজাইনের জিনস প্যান্ট, শার্ট, পাঞ্জাবি এবং বাচ্চাদের হরেক রকমের বাহারি পোশাক। শীতের মৌসুমে ভালো ব্যবসা না হওয়ার খরা আসন্ন ঈদ মৌসুমে পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় পোশাক তৈরিতে ব্যস্ত এখানকার কারখানা মালিক ও শ্রমিকরা। শোরুমগুলোতেও ইতিমধ্যে তোলা হয়েছে ঈদের পোশাক। ঈদে ভালো ব্যবসা করার নতুন আশায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়ার চেষ্টা করছেন কেরানীগঞ্জ পোশাক পল্লীর ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিন কেরানীগঞ্জ পোশাক পল্লীর একাধিক কারখানা ঘুরে দেখা যায়, আসন্ন ঈদ মৌসুম সামনে রেখে নাওয়াখাওয়া ভুলে পোশাক তৈরিতে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন এখানকার পোশাক শ্রমিকরা। কারখানাগুলোতে একপাশে চলছে কাপড় কাটার কাজ, আরেক পাশে চলছে সেলাইয়ের কাজ। ঈদের পোশাক তৈরিতে ক্লান্তিহীন কাজ করে যাচ্ছেন এখানকার শ্রমিকরা।

মো. গাফ্ফার নামে এক শ্রমিক জানান, ‘দীর্ঘ ২০ বছর ধরে আমি কালিগঞ্জের কয়েকটি কারখানায় কাজ করেছি। করোনার আগে আমাদের ভালোই আয় হতো। কিন্তু করোনার পরে সব ওলট-পালট হয়ে গেছে। শীতে মহাজনের শোরুমে বেচাকেনা কম হওয়ায় ঠিকমতো আমাদের টাকাপয়সা দিতে পারেনি। আশা করছি, ঈদে ভালো বেচাকেনা হবে। এ কারণে এখন আমরা ডিউটির পাশাপাশি বাড়তি পরিশ্রম করছি পোশাক উৎপাদনে।’

শেখ সাদী কারখানারর স্বত্বাধিকারী ফারুক হাসান বলেন, ‘আসন্ন ঈদ সামনে রেখে আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছি। পাইকারি বাজারটা সামনেই শুরু হবে, আমরা পর্যাপ্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। শীত কমে গেছে, এখন আমাদের ঈদের বিক্রি শুরু হবে।’

নবরাজ গার্মেন্টসের স্বত্বাধিকারী মো. জাহাঙ্গীর হাসান বলেন, ‘শীতে চায়না থেকে যে মাল আমদানি করেছি, অনেক মাল রয়ে গেছে। এতে আমাদের চালানের টাকাও ওঠেনি। শীতের যে ক্ষতি হয়েছে তা আগামী ঈদে পুষিয়ে নেওয়ার আশায় বিভিন্নভাবে ধারদেনা করে ঈদের মৌসুমে ব্যবসায়ের প্রস্তুতি নিয়েছি। আশা করছি রমজানে ব্যবসা ভালো হবে, ধারদেনা পরিশোধ করতে পারব, শ্রমিকদের মুখেও হাসি ফোটাতে পারব।’

কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ও দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুসলিম ঢালী বলেন, ‘দেশের তৈরি পোশাকের ৭০ ভাগের চাহিদা আমরা কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লী থেকে মিটিয়ে থাকি। এ বছর শীতে আমাদের ব্যবসা তেমন ভালো হয়নি। সামনে রমজানের সিজন। আশা করছি রমজানে ভালো ব্যবসা করে শীতের ক্ষতি পুষিয়ে নেব। দেশে প্রাকৃতিক বা রাজনৈতিক কোনো সমস্যা না হলে ব্যবসা ভালো হবে।’

কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ও দোকান মালিক সমিতির সভাপতি স্বাধীন শেখ বলেন, ‘রমজান ও শীত নিয়ে আমাদের এই এলাকার ব্যবসা। এবার শীত দেরিতে পড়ার কারণে ব্যবসায়ীরা ভালো ব্যবসা করতে পারেননি। অনেকের গোডাউনে প্রচুর মাল রয়ে গেছে। সামনে রমজানের ঈদ আমাদের মূল সিজন। আশা করি ব্যবসা ভালো হবে।’