ফসলি জমিতে অবৈধ ইটভাটা হুমকিতে পরিবেশ

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে আবাসিক এলাকায় ফসলি জমিতে গড়ে উঠেছে অবৈধ ইটভাটা। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে উপজেলার মৌকরা ইউনিয়নের তিলিপ মৌকরা গ্রামে ‘আজিজ ব্রিকস’ নামের এই ইটের ভাটাটি গড়ে তুলেছেন স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ওই মাসের শেষের দিকে ইটভাটাটি গুঁড়িয়ে দেয় পরিবেশ অধিদপ্তর। কিন্তু এর কিছুদিন পর আবার চালু হয় ভাটাটি। লোকালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছে নির্মিত এ ভাটায় ইট পোড়ানো চলছে পুরোদমে।

এলাকাবাসীর পক্ষে ভাটাটি বন্ধের দাবিতে ২০২৩ সালের জুন মাসে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন মৌকরা গ্রামের অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জামাল হোসাইন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তর কুমিল্লার উপপরিচালক মোসাব্বের হোসেন মোহাম্মদ রাজিব দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ওই ইটের ভাটাটি পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে কোনো ছাড়পত্র নেয়নি। তাই এটি অবৈধ। এ ছাড়া এটির বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর অভিযোগও রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এ ভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৩-তে বলা আছে, আবাসিক এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাটবাজার ও ফসলি জমির এক কিলোমিটারের মধ্যে ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না।

গতকাল বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তিলিপ মৌকরা গ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে ৩০ একর ফসলি জমিজুড়ে গড়ে উঠেছে ইটের ভাটাটি। এলজিইডির নাঙ্গলকোট-মৌকরা সড়কঘেঁষা এই ভাটার আধা কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে মৌকারা কামিল মাদ্রাসা, তিলিপ মাদ্রাসা, যোবায়দা-হামিদ নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়, ময়ূরা উচ্চ বিদ্যালয় ও ময়ূরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আল ওবায়েদ মেডিকেল সেন্টার। অন্যদিকে এ ভাটায় আশপাশের জমির মাটি কেটে সরবরাহ করায় আবাদি জমি দিন দিন কমছে। ফসলি জমির মাটি কেটে ট্রাক্টরে করে ভাটায় নেওয়ার ফলে একদিকে গ্রামীণ সড়কগুলো ভাঙছে। অন্যদিকে ধুলোবালিতে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, নাঙ্গলকোট উপজেলায় ২১টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে ১১টি অবৈধ।

মৌকারা দরবার শরিফের পীর শাহ মোহাম্মদ নেছারউদ্দীন ওয়ালিউলাহী বলেন, ‘এই ভাটাটি হওয়ার পর থেকে আশপাশের গাছে ফল ধরা বন্ধ হয়ে গেছে। ভাটার ধোঁয়ায় পরিবেশ দূষিত হয়ে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে।’

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গতকাল ভাটামালিক ফরহাদ হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিয়ে সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

জানতে চাইলে নাঙ্গলকোট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ইটভাটার বিষয়গুলো উপজেলা নির্বাহী (ইউএনও) মো. ইসমাইল হোসেন দেখেন। তার সঙ্গে যোগাযোগ করে দেখতে পারেন।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজনসহ দ্রুত সময়ের মধ্যে অবৈধ ইটভাটাগুলোতে অভিযান করব।’