বাংলাদেশের সীমান্তের কাছে মিয়ানমারের সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত 

মিয়ানমারের চিন রাজ্যের পালেতোয়া শহরে সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার গুলি করে ভূপাতিত করেছে রাখাইনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের খুব কাছে একটি পাহাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি কয়েকদিন আগে ঘটলেও গতকাল বুধবার তারা এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে গণমাধ্যম দ্য ইরাবতি।  

 প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পালেতোয়া শহরে গত বছরের শেষে এবং এ বছরের শুরুতে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে তাদের তীব্র যুদ্ধ হয়। এরই একপর্যায়ে ওই হেলিকপ্টারটি ভূপাতিত করেছে তারা। কয়েকদিন আগে একটি সামরিক হেলিকপ্টারের ধ্বংসাবশেষ ঘিরে দাঁড়িয়ে থাকা আরাকান আর্মির একটি ছবি পোস্ট করা হয়। গতকাল বুধবার আরাকান আর্মি বিষয়টি নিশ্চিত করে। 

আরাকান আর্মির নেতা খাইং থুখা বলেছেন, পালেতো টাউনে তীব্র যুদ্ধকালে আমরা একটি হেলিকপ্টার গুলি করে ভূপাতিত করেছি। পাই পাহাড়ে একটি সামরিক আউটপোস্টের কাছে ঘন জঙ্গলে তা বিধ্বস্ত হয়। ১৩ই জানুয়ারি কাংহা পাহাড়ে সামরিক বাহিনীর কৌশলগত কমান্ড ঘাঁটি দখলের পরই আমরা এই ধ্বংসাবশেষ শনাক্ত করি।

এই দুটি পাহাড়ই পালেতোয়া শহরের উত্তরে মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তে। দুই মাস যুদ্ধের পর জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে পালেতোয়া শহর দখল করেছে আরাকান আর্মি। এই শহরটি চিন ও রাখাইন রাজ্যের সীমান্তে। 

জানুয়ারিতে সশস্ত্র কারেন বিদ্রোহী গোষ্ঠী সেনাবাহিনীর আরেকটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত করে। তারা কারেন রাজ্যের মিত্র প্রতিরোধ বাহিনীর সঙ্গে একত্রে কাজ করছে। ওই হামলায় নিহত হন একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এবং হেলিকপ্টারে থাকা চারজন সেনা কর্মকর্তা। এ নিয়ে এক মাসে শাসকগোষ্ঠী বিরোধী প্রতিরোধ যোদ্ধাদের হাতে সামরিক জান্তা তিনটি এয়ারক্রাফট হারিয়েছে। এ পর্যন্ত প্রতিরোধ যোদ্ধারা সারাদেশে তিনটি যুদ্ধবিমান ও ৬টি সামরিক হেলিকপ্টার গুলি করে ভূপাতিত করেছে।