চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটিতে বিতর্কিতদের নাম অন্তর্ভুক্ত করায় এক যুগ্ম আহ্বায়কসহ পাঁচ নেতা পদত্যাগ করেছে। গত ০৪ ফেব্রুয়ারি রাতে ৩১ সদস্যবিশিষ্ট যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি দেওয়া হলেও তার মধ্যে যুগ্ম আহ্বায়কসহ পাঁচ সদস্য পদত্যাগ করে বৃহস্পতিবার।
বাঁশখালী যুবলীগের যে কমিটি গঠন করা হয়েছে সেখানে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন, অতীতে কখনো দলীয় পদে না থাকলেও মিথ্যা পদবি দেখিয়ে অনেককে পদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে করা হয়। এছাড়া অর্থবাণিজ্যের মাধ্যমে তিন মাস মেয়াদি এ কমিটি করা হয়েছে বলে পদপ্রত্যাশী অনেকে অভিযোগ করেন। তাই বিতর্কিত সে কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন বলে জানিয়েছেন তারা।
চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের বাঁশখালী আসনের সদস্য নুরুল মোস্তফা সিকদার সংগ্রামকে নতুন এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। গন্ডামারা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিরোধে মোহাম্মদ আলী নামের একজনকে হত্যার ঘটনায় ১১ নম্বর চার্জশিটভুক্ত আসামি ছিলেন সংগ্রাম। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংশ্লিষ্টতায় কোটিপতি বনে যান সংগ্রাম। কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে মো. শাহদাত রশিদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে জায়গা জমি জবরদখলের অভিযোগ রয়েছে। দুই যুগ্ম আহ্বায়ক অতীতে দুটি সংগঠনের দায়িত্বে ছিলেন বলে ভুয়া রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে পদ বাগিয়ে নিয়েছেন। সদস্য পদে থাকা কমপক্ষে ১৪ জন নেতা ভুয়া রাজনৈতিক পদবি ব্যবহার করে নেতা হয়েছেন। অন্যের বাড়ি দখল করে সমালোচিত হওয়া মনসুর ও আছেন কমিটিতে। এছাড়া আরও বেশ কয়েকটি মামলাও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। গত মে মাসে সাতকানিয়ায় ইটভাটায় চাঁদাবাজির অভিযোগে র্যাবের হাতে আটক হওয়া নোমানকে সদস্য রাখা হয়েছে।
চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ফাহিমুল ইসলাম ইরফান নামে একজন নিজের ফেসবুকে লিখেছেন, 'চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী যুবলীগ কর্তৃক ঘোষিত সদ্য বাঁশখালী উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির ১৫ নম্বর সদস্য হয়েছেন মিশুক কান্তি দে মিশু নামের এক যুবক। তার রাজনৈতিক পরিচয় হিসেবে দেখানো হয়েছে সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সরকারি সিটি কলেজ ছাত্রলীগ। উক্ত নামে সিটি কলেজের ইতিহাসে কোনো যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিল না। এমনকি সিটি কলেজ ছাত্রলীগের সঙ্গে কথিত এই যুবক কোনো সময় জড়িত ছিল না। উল্লিখিত পদপদবি সম্পূর্ণ ভুয়া। সে একজন অনুপ্রবেশকারী।’
দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতা লিখেছেন, ‘অভিনন্দন টাকার কমিটি, বাঁশখালী উপজেলা যুবলীগ।’
এ ব্যাপারে নবগঠিত যুবলীগের আহ্বায়ক নুরুল মোস্তফা সিকদার সংগ্রামকে কল করা হলেও মোবাইল বন্ধ থাকায় কোনো বক্তব্য নেওয়া যায়নি।
এদিকে পদত্যাগকারীরা হলেন নবগঠিত কমিটির যুগ্ম আহবায়ক জসীম উদ্দিন চৌধুরী খোকন, সদস্য রায়হানুল হক চৌধুরী, মো. জহির উদ্দিন বাবর, মাঈনুদ্দিন হাসান চৌধুরী, সনেট দাশ।
পদত্যাগকারী নেতা রায়হানুল হক চৌধুরী বলেন, দীর্ঘ সাত বছর পর গত ০৪ ফেব্রুয়ারি বাঁশখালী যুবলীগের যে কমিটি গঠন করা হয়েছে সেখানে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করা হয়েছে। পাশাপাশি অতীতে কখনো দলীয় পদে না থাকলেও মিথ্যা পদবি দেখিয়ে অনেককে পদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও কোটি টাকার বাণিজ্যের মাধ্যমে তিন মাস মেয়াদি এ কমিটি করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। এই সংবাদ দৃষ্টিগোচর হওয়ায় বিতর্কের উর্ধ্বে থাকতে আমরা এই কমিটি থেকে পদত্যাগ করলাম। কখনো সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে ত্যাগী নেতাদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন হলে এ কমিটিকে স্বাগত জানাব আমরা।