সিনেমা দেখানো হলো, কিন্তু থাকতে পারলেন না আহমেদ রুবেল। সিনেপ্লেক্সের পার্কিংলট থেকে ফিরে যেতে হলো নিথর দেহে।‘পেয়ারার সুবাস’- চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ার শো ছিল কাল। জয়া আহসান ও আহমেদ রুবেল মূখ্য ভূমিকায় ছিলেন এই ছবিতে। জয়া আহসানের সঙ্গে যখন দুপুরে কথা হয় তখন বলেছিলেন, সংবেদনশীল মানুষদের সিনেমাটা দেখা উচিৎ। আপনারা সাংবাদিকেরা দেখবেন, সিনেমাটি নিয়ে লিখবেন।
সেই মতে সাংবাদিকেরা উপস্থিত হয়েছিলেন সিনেপ্লেক্সের বারান্দায়। সেই মুহূর্তে খবর আসলো এবং দ্রুত সিনেমা সংশ্লিষ্ট কয়েকজন পার্কিংলটে চলে যান। সেখানে গাড়িতে আহুমেদ রুবেল অসুস্থ। তাকে দ্রুত সিএনজিতে করে হাসপাতালে নেওয়া হলো। সিএনজিতে নেওয়ার পথেই নিস্তেজ হয়ে পড়েন রুবেল।
অতিথি ও সাংবাদিকেরাও জানতেন আসলে ঘটনা কী ঘটেছে। খবর এলো রুবেল নেই। সেখানে উপস্থিত সকলেই বিস্মিত। বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না কেউ। আহমেদ রুবেলের সিনেমা দেখানো হবে অথচ আহমেদ রুবেল নেই। মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়লো শোক।
পরিচালক নূরুল আলম আতিক হাসপাতাল থেকে তখন জানালেন, সিনেমা যেন দেখানো হয়। রুবেল সিনেমাটা ভালোবাসতেন, অভিনয় ভালোবাসতেন। রুবেলের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে এই সিনেমার মধ্য দিয়ে।
যদিও কেউ কেউ আপত্তি জানিয়েছিলেন। কিন্তু পরিচালক নূরুল আলম আতিক হাসপাতাল থেকে তখন জানালেন, সিনেমা যেন দেখানো হয়। রুবেল সিনেমাটা ভালোবাসতেন, অভিনয় ভালোবাসতেন। রুবেলের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে এই সিনেমার মধ্য দিয়ে।
নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু পরে এসে বললেন, ‘যেহেতু এই শোটা চলতে যাচ্ছে। সেহেতু আমরা রুবেলকেই উৎসর্গ করছি। শো মাস্ট গো অন।’
চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস বিষয়টিকে স্পর্শকাতর হিসেবে দেখছেন। তিনি এক মন্তব্যে বললেন, ‘বিষয়টা অত্যন্ত স্পর্শকাতর, সেখানেই তার সহশিল্পীদের গুণের পরিচয় নিয়ে আসলেই ভাবতে হবে দুবার, পরপারে তার মঙ্গল হোক।’
এই শো-এর বিপক্ষে কথা বললেন সুরকার মুরাদ নূর। তিনি বলছেন, এই সামান্য মেধা, বিবেক না থাকলে কেনো এরা সিনেমা বানাতে আসে? এই শো বন্ধ না করার কি যুক্তি থাকতে পারে? যতোসব মূর্খ আর প্রতিবন্ধীদের সমন্বয়ে সিনেমা চলছে। পেয়ারার সুবাস সিনেমার পরিচালক এর কোনো কাজ আমি দেখি নাই। কিন্তু তাঁর নামের সাথে খুবই পরিচিত। মেধাবী হিসেবেই জানতাম। আজ দেখি গণ্ডমূর্খ! তীব্র নিন্দা জানাই
গণমাধ্যমকর্মী আহমেদ তাওকীর বলছেন,‘শিল্পীরা হাসপাতালে দ্রুতই গেছে জানি। আর আজকের শোয়ের সাথে অনেক মানুষ জড়িত ছিলো। সব দিক বাদ দিয়ে সত্যি তার কাজের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শো হলে লাল সালাম। তবে সিনেমার কাটতি বাড়াতে তা হলে নিন্দনীয়! যদিও বাণিজ্যের বাইরে কেউ নই আমরা।’
তবে বিষয়টিকে একদম ছেলে মানুষী বললেন চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি কাজী হায়াত। তিনি বলেন, ‘ছেলেটা মারা গেছে, আমি কষ্ট পেয়েছি। সে খুবই ভালো অভিনয় করতো সেন্সর বোর্ডে তার আমি সিনেমা দেখেছি। তবে শোক প্রকাশের বিষয়ে আমি কিছু বলবো না, ওসব ছেলে মানুষী। আমার কাছে আহমেদ রুবেল ভালো মানুষ।’
সংগীতশিল্পী প্রীতম আহমেদ বললেন, ‘শিল্পী হওয়ার প্রথম শর্ত শো মাস্ট গো অন।’
অভিনয়শিল্পী সংঘের সভাপতি আহসান হাবিব নাসিম বিষয়টিকে খুব অল্প কথায় ভালোভাবে বিশ্লেষণ করলেন। তিনি জানালেন, থিয়েটারে কেউ অসুস্থ হলে কিংবা মারা গেলেও দর্শক যেহেতু চলে এসেছে সেহেতু নাটক প্রদর্শন অব্যাহত থাকে। নাসিম বললেন, ‘অনেক আগে থেকেই চলে আসছে শো মাস্ট গো অন কনসেপ্ট। সেই কনসেপ্টটাই ওরা ব্যবহার করেছে। আবার যারা বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন, যারা বলছেন এই শো চালানো ঠিক হয়নি, তারাও ঠিক বলছেন। আবেগের জায়গা থেকে বিষয়টি কষ্টদায়ক। শো মাস্ট গোন-ই হচ্ছে শিল্পীর জীবন।’