বঞ্চিত হওয়ায় মেসি-মায়ামিকে ঘৃণা করে হংকংয়ের মানুষ

প্রাক মৌসুম প্রস্তুতিতে হংকং একাদশের বিপক্ষে ম্যাচে লিওনেল মেসি বসে ছিলেন বেঞ্চে। তাই ক্ষোভে ফুসছিল হংকং। মেসিকে জাপানে খেলতে দেখে সেই আগুনেই আবার যেন ঘি পড়েছে।

হংকংয়ের সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও পর্যটন ব্যুরো এক বিবৃতিতে জানায়, ভক্তদের মতো তারাও হতাশ যে মেসিকে সেদিন মাঠে নামতে দেখা যায়নি। হংকংয়ে না খেললেও তিনদিন পর জাপানে খেলার বিষয়টি উল্লেখ করে ব্যখ্যা চেয়েছেন আয়োজক ও ইন্টার মায়ামির কাছে। 'সরকার আশা করছে, ম্যাচটির আয়োজকরা এবং তার দল এটির গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা দেবেন। হংকংয়ের নাগরিকদের অনেক প্রশ্ন আছে।'

হংকংয়ে সেদিন ৪০ হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতার স্টেডিয়াম পূর্ণ ছিল। চীনের গ্লোবাল টাইমস পত্রিকার খবর, মূল ভূখন্ড থেকে ১২ ঘণ্টা ভ্রমণ করে মেসিকে দেখতে গিয়েছিলেন অনেকে। উচ্চ মূল্যে টিকেট কেটে খেলা দেখেছেন অনেকে। গ্লোবাল টাইমস লিখেছে, 'হংকংয়ের সরকার ও ফুটবলপ্রেমীদের ক্ষোভ পুরোপুরি বোধগম্য। এই ঘটনার প্রভাব আসলে খেলাধুলার আঙিনাকে ছাড়িয়ে অনেকটা বিস্তৃত হয়ে গেছে।'

জাপান ন্যাশনাল স্টেডিয়াম প্রায় ৬৯ হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতার। সেখানে মেসিদের খেলা দেখতে দর্শক ছিলেন সাড়ে ২৮ হাজার। ম্যাচের ৬০ মিনিটে নামানো হয় বিশ্বকাপজয়ী মেসিকে।

হংকংয়ের ক্রীড়া আইনজীবি কেনেথ ফক এই ঘটনাকে বলছেন 'হংকংয়ের সমর্থকদের জন্য কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা।'

সরকারের সিনিয়র উপদেষ্টা রেজিনা আইপি সামাজিকমাধ্যমে লেখেন, ‘ইচ্ছাকৃত ও পরিকল্পিতভাবে হংকংকে বঞ্চিত করায় মেসি, ইন্টার মায়ামি ও তাদের পেছনের কালো হাতকে ঘৃণা করে হংকংয়ের মানুষ।'

হংকংয়ে মাঠে না নামার পর ক্ষোভ দেখে ম্যাচের পর চীনের সামাজিকমাধ্যম উইবোতে চীনা ও স্প্যানিশ ভাষায় ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন মেসি। সেটি যদি হংকংয়ের ক্ষোভ কিছুটা কমিয়েও থাকে, তা আবার উত্তাল হয়ে গেল মেসির জাপানে মাঠে নামার ঘটনায়।