যমুনা নদীতে অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে চরের বালু বি‌ক্রি

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যমুনা নদীতে অবৈধভাবে বাঁধ (রাস্তা) নির্মাণ করে জেগে উঠা চরের বালু বি‌ক্রির অভিযোগ উঠে‌ছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার বিরু‌দ্ধে। উপজেলার চিতুলিয়াপাড়া ও কোনাবা‌ড়ি মৌজায় যমুনা নদী‌তে জে‌গে উঠা চর কেটে বি‌ক্রি কর‌ছেন নিকরাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লী‌গের সহ-সভাপ‌তি জুরান মন্ডল, আব্দুল্লাসহ স্থানীয় যুবলীগ নেতাকর্মীরা।

স‌রেজ‌মি‌নে দেখা গে‌ছে, চিতু‌লিয়াপাড়া এলাকার যমুনা নদীর বাঁধের সড়‌কে সতর্কীকরণ এক‌টি সাইনবোর্ড টাঙিয়েছে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড। তা‌তে বলা হ‌য়ে‌ছে, ‘বাঁধের উপরে স্থাপিত জিও ব্যাগ/জিও সীট (কাপড়) যাতে নষ্ট না হয় সেজন্য কোনো প্রকার নৌকার এ্যাংকর, ধাড়ালো কোদাল, কাঁচি, দা, কুড়াল সিগারেট/বিড়ির আগুন, ইত্যাদি দ্বারা কাটা বা ক্ষতিগ্রস্ত না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।’ কিন্তু এসব কিছুই মান‌ছেন না বালু ব্যসায়ীরা। অবা‌দে দিনরাত চর কেটে বালু বি‌ক্রির মহোৎসব চলছে।

বালু বি‌ক্রির কার‌ণে সম্প্রতি এল‌জিইডি কর্তৃক নির্মিত নদী রক্ষা বাঁধের সড়ক ভে‌ঙে যা‌চ্ছে। সেই সাথে ভাঙন রো‌ধে নদীতে ফেলা জিও ব্যাগ সরি‌য়ে বালুবাহী ট্রাক চলাচ‌লের রাস্তা করা হ‌য়ে‌ছে। এক‌দি‌কে জে‌গে উঠা চর কেটে বি‌ক্রি করায় নদী‌তে অপ‌রিক‌ল্পিতভ‌া‌বে গভীরতার সৃ‌ষ্টি হ‌চ্ছে। ফ‌লে বর্ষা মৌসু‌মে ওই এলাকাগু‌লো‌তে ব্যাপক ভাঙ‌নের আশঙ্কা কর‌ছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী‌রা প্রশাস‌নের সহযোগিতায় অবৈধভাবে বালুর ব্যবসা প‌রিচালনা করছে বলে ভয়ে এলাকার কেউ প্রতিবাদ কর‌তে সাহস পায় না।

যমুনা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন। ছবি: দেশ রূপান্তর

জানা গেছে, উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের ভালকুটিয়া ও চিতু‌লিয়াপাড়া এলাকায় বর্ষা মৌসুমে ব্যাপক নদী ভাঙন দেখা দেয়। গত বর্ষায় ভ‌াঙ‌নে ওই দু‌ইটি গ্রা‌মের শতা‌ধিক ঘরবাড়িসহ ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়। সেসময় তাৎক্ষণিক পানি উন্নয়ন বোর্ড জিওব্যাগ ফেলে ভাঙনরোধ করে। এরপর শুষ্ক মৌসু‌মে অসাধু প্রভাবশালী স্থানীয় নিকরাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা জুরান আলী মন্ডল, তার ছেলে সুমন ও তার প্রতিবেশী আব্দুল্লাহসহ বেশ কয়েকজন মি‌লে সেখানকার জিওব্যাগ সরিয়ে ও পাকা সড়ক কেটে নদীতে রাস্তা (বাঁধ) তৈরি করে অবাধে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করছে।

স্থানীয় অনেকেই নাম প্রকাশ না করার শ‌র্তে ব‌লেন, যেখা‌নে সরকার দলীয় লোকজন স্থানীয় প্রশাসন‌কে ম্যানেজ ক‌রে বালু বি‌ক্রি কর‌ছে সেখা‌নে প্রতিবাদ কর‌লে নিজের ক্ষ‌তি ছাড়া কিছুই হ‌বে না। যারা ব্যবস্থা গ্রহণ কর‌বেন তা‌দের মাসোহারা দেয়া হয় নিয়‌মিত। এছাড়া জনপ্রতিনিধিরাও বালু উত্তোলনে জড়িত। দ্রুত জে‌গে উঠা চর কাটা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ভাঙনের শিকার এলাকাবাসী।

বালু ব্যবসায়ী আওয়ামী লীগ নেতা জুরান আলী মন্ডল বলেন, ওখানে আমি নি‌জে বালু উত্তোলন করি না। স্থানীয় সা‌বেক ইউপি সদস্য কালামসহ বেশ ক‌য়েকজন ব্যবসা ক‌রেন। আপনারা কি আমাকেই দেখেন। অন্যদের ঘাট চোখে পড়ে না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদুর রহমান বলেন, নদী থেকে ফসলি জমি কেটে অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। ইতোমধ্যে আমরা দু’টি অভিযান চালিয়ে অর্থদণ্ড করেছি। বালু উত্তোলন বন্ধে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে।