শুক্রবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হবে ৪৭তম জাতীয় অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপ। নতুন টার্ফে, নতুন ইলেকট্রনিক টাইমিংয়ে দু'দিনের এই প্রতিযোগিতার সকল প্রস্তুতি শেষ করেছে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন। নিজেদের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানাতে বৃহস্পতিবার তারা আয়োজন করে সংবাদ সম্মেলনে। তবে জাতীয় অ্যাথলেটিকস ছাঁপিয়ে কাল আলোচনার প্রধান বিষয়বস্তু হয়ে উঠলো গত বছর সাত কোটি টাকা খরচায় দেশব্যাপী শেখ কামাল আন্তঃস্কুল ও মাদ্রাসা প্রতিযোগিতা। মূলত তৃণমূল থেকে প্রতিভা তুলে আনতেই হয়েছিল এই আয়োজন। অথচ সাড়ে তিন লাখ ছাত্র-ছাত্রী অংশ নিলেও প্রতিভা মিলেছে মাত্র ৩৫জন। আবার এই ৩৫ জনকেই দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে ফেডারেশন সময় নিয়েছে বেশ। তাদের যুক্তি স্কুল ও মাদ্রাসাগুলোর বার্ষিক পরীক্ষা এরপর জাতীয় নির্বাচন থাকায় আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া দীর্ঘমেয়াদী ক্যাম্প আগে শুরু করা যায়নি। তাছাড়া দীর্ঘমেয়াদী ক্যাম্প করার মতো সুযোগ সুবিধাও নেই ফেডারেশনের। এখানেই প্রশ্ন জাগে, মাত্র ৩৫ জন প্রতিভা বাঁছতে যদি সাত কোটি টাকা খরচ করে প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে পারে ফেডারেশন, তবে কেন তারা এই কজনের জন্য দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে পারেনি?
মূলত চূড়ান্তপর্বে উঠে আসাদের মধ্য থেকে এই ৩৫ অ্যাথলেটকে বাছাই করেছিল ফেডারেশন। এক বছর আগে বাছাই করাদের কেন এত দেরীতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হলো- জানতে চাইলে ফেডারেশনের সহ-সভাপতি জায়েদুল আলম বলেন, 'স্কুল-মাদ্রাসা বার্ষিক পরীক্ষা ও জাতীয় নির্বাচনের কারণে দেরী হয়েছে।' ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রকিব মন্টু নিজেদের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন, 'ক্যাম্প করার মতো সব ধরণের সুযোগ-সুবিধা আমাদের নেই। বিকেএসপির সহায়তা লাগে। এর বাইরেও আরও অনেক সমস্যা ছিল।' ওয়াটনের স্পন্সরে সাত কোটি টাকার এই আয়োজন থেকে এত কম সংখ্যক প্রতিভাকে উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য বেঁছে নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন ছিল অনেক। তাদের জন্য সব ধরণের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত না করেই বাছাই করা নিয়েও সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। ফেডারেশনের সহ-সভাপতিও সেটা মেনে নিয়েছেন, 'আপনাদের প্রশ্নগুলো যৌক্তিক। আমাদের পরিকল্পনা সামনে আরও বিশদভাবে করব।'
এদিকে এক বছর বিরতির পর জাতীয় অ্যাথলেটিক্স হতে যাচ্ছে নতুন আঙ্গিকে। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের সংস্কার কাজ শেষ না হলেও নতুন ট্র্যাক বসেছে অনেক আগে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে নতুন ইলেকট্রনিক সিস্টেম। ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক বলেন, 'এই মিটের জন্য সকলেই অধীর আগ্রহে আছেন। আমরাও প্রস্তুত। এবারের প্রতিযোগিতায় ফটোফিনিশিং, ইলেকট্রনিক টাইমিং সবই থাকছে। এর মধ্য দিয়ে আমরা নতুন ট্র্যাকেরও উদ্বোধন করতে পারবো।’
এর মধ্যেই জাথীয় অ্যাথলেটিকসে অংশ নিতে যুক্তরাজ্য থেকে ঢাকায় এসেছেন দ্রুততম মানব খেতাবজয়ী ইমরানুর রহমান। আজই ১০০ মিটারের মুকুট ধরে রাখতে ট্র্যাকে নামবেন এশিয়ান ইনডোর চ্যাম্পিয়নশিপে সোনাজয়ী ইমরানুর।