ভালো বই পথের দিশা

মানবজাতির জন্য বিশ্ব জাহানের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে প্রথম আদেশ, ‘পড়ো, তোমার রবের নামে। যিনি সৃষ্টি করেছেন।’ সর্বশেষ নবী ও রাসুল মুহাম্মদ (সা.)-এর কাছে নাজিল হওয়া আসমানি গ্রন্থ পবিত্র কোরআন। এটি আল্লাহ প্রদত্ত সর্বশেষ গ্রন্থ। এরপর আর কোনো নবী ও রাসুল নেই এবং সংগত কারণেই আর কোনো আসমানি গ্রন্থ মানবজাতির হেদায়েতের জন্য আসবে না।

মক্কা নগরীতে নবী মুহাম্মদ (সা.) যেসময় জন্মগ্রহণ করেন, তার আগমনের আগের সময়কে বলা হয় অন্ধকার যুগ। সেই অন্ধকার যুগের মানুষকে আলোর পথে পরিচালিত করতে আল্লাহতায়ালা তাদের তার নামে পড়ার আদেশ দিয়েছেন পবিত্র কোরআনের প্রথম নাজিল হওয়া বাণীর মাধ্যমে।

আমরা জানি, সত্য অনুসন্ধানের জন্য পড়া অর্থাৎ অধ্যয়ন ও গবেষণার বিকল্প নেই। বইয়ের সঙ্গে যে জাতির সম্পর্ক যত গভীর, তারা তত উন্নত।

গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে অমর একুশে বইমেলা। প্রতি বছর বইমেলা উপলক্ষে হাজার হাজার নতুন বই মুদ্রিত হয়। এ তালিকায় থাকে প্রাজ্ঞ, বিজ্ঞ, প্রবীণ লেখকের বইয়ের সঙ্গে সঙ্গে নবীন ও নতুন লেখকদের বই। এর মাধ্যমে অনেক নতুন প্রতিভার সঙ্গে দেশের মানুষ পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান। সবচেয়ে বড়কথা প্রতিভা বিকাশে একুশে বইমেলার গুরুত্ব সর্বজনস্বীকৃত। তবে ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রসারে ছাপানো বইয়ের বিক্রি দেশে কমেছে। যদিও দুনিয়াব্যাপী পরিচালিত অন্য একটি জরিপে এর বিপরীত চিত্র দেখা গেছে।

গত ২০২২ সালের তুলনায় অমর একুশে বইমেলায় ২০২৩ সালে ৫ কোটি টাকার বই কম বিক্রি হয়েছে। এবার আমরা এর ব্যতিক্রম আশা করি। তবে এক্ষেত্রে একুশে বইমেলার আয়োজক বাংলা একাডেমির আরও ইতিবাচক ভূমিকার প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার উপায় নেই। তাদের বিরুদ্ধে বৈষম্যের যে অভিযোগ আছে, বিশেষ করে ইসলামি বইয়ের প্রকাশকদের স্টল বরাদ্দ না দেওয়ার ব্যাপারে, তা কারও কাম্য নয়।

কর্র্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন। কারণ অনলাইন বুক শপগুলোর জরিপে দেখা যায়, দেশে ইসলামি বইয়ের চাহিদা অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন অনেক বেশি। এ বাস্তবতার সঙ্গে জড়িত দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের আবেগ এ কথা ভুলে গেলে চলবে না।

একটি ভালো বইয়ের চেয়ে ভালো সঙ্গী আর হয় না। বই আলোকিত পথের দিশা দেয়। বই হলো অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ দেখার খোলা জানালা। তাই সবার চেষ্টা করা উচিত আলোকিত জীবনের জন্য আদর্শিক, নৈতিকতার বিচারে উত্তীর্ণ ধর্ম, ইতিহাস, দর্শন, গল্প, উপন্যাস, কবিতা, ছড়াসহ বৈচিত্র্যময় বইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা। তবে ইদানিং অর্থ-বিত্তের মালিকরা অনেকে বুদ্ধিজীবীর খাতায় নাম লেখাতে নিম্ন চিন্তা ও রুচি মলাটবদ্ধ করে বই বা গ্রন্থ নামে বাজারজাত করছেন। বিভ্রান্তি বিস্তার ও প্রসারে বিজাতীয় কৃষ্টি-কালচার ছড়িয়ে দিতে আগ্রাসী শক্তির দোসররাও এ কাজে জড়িত। তাদের থেকে সাবধান থাকতে হবে। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের হাতে আমরা সবসময় ভালো বই তুলে দেওয়ার চেষ্টা করব।

কথায় আছে, ফুলে মধুও থাকে আবার বিষও থাকে। মৌমাছি সংগ্রহ করে মধু আর মাকড়সা নেয় বিষ। বই পড়ার সময় একজন পাঠক এ উদাহরণ মনে রাখলে বিভ্রান্ত হবেন না আশা করি। আসুন, সবাই বেশি বেশি বই পড়ি আলোকিত দেশ গড়ি।