কাজের চাপে ভালো থাকি

ইমরান মাহমুদুল। ২০০৮ সালে চ্যানেল আই সেরা কণ্ঠের মাধ্যমে সংগীতে পদার্পণ। যেন এলেন দেখলেন আর জয় করলেন। এরপর আর থেমে থাকতে হয়নি। সংগীতের প্রায় সব মাধ্যমেই একের পর এক আলোচিত কাজ করেছেন তিনি। নতুন গান ও সমসাময়িক অন্যান্য বিষয় নিয়ে তার আদ্যোপান্ত তুলে এনেছেন ইমরুল নূর

ব্যস্ততা কেমন এবং ভালোবাসা দিবসে শ্রোতা-দর্শকরা নতুন কী পেতে যাচ্ছে?

জানুয়ারি মাস পুরোটাই স্টেজ শোর ব্যস্ততা নিয়েই কেটেছে। এখন ফেব্রুয়ারি মাস, এ মাসেও ভালো ব্যস্ততা আছে। এখন টানা শো রয়েছে। এ দিবসটিতে আমার বস হাবিব ওয়াহিদের সঙ্গে ‘বোকা মন’ শিরোনামে একটা গান আসছে, যেটা আমার ড্রিম প্রজেক্ট। এ গানটির কারণে ভালোবাসা দিবসে আমার অন্য কোনো সলো গান ছাড়িনি। একটা ভালো প্রজেক্ট শ্রোতা-দর্শকদের উপহার দেওয়ার জন্য এক থেকে দেড় বছরের বেশি সময় নিয়ে প্রজেক্টটি করেছি।

একক গানে বেশি সময় দেওয়া হচ্ছে, নাকি নাটক-সিনেমার গানে? যেহেতু গায়কের পাশাপাশি সংগীত পরিচালনাও করেন, চাপ কতটা থাকে বা অনুভব করেন?

আমি সব জায়গাতেই প্যারালালভাবে কাজ করছি। নাটকের গান আমার সচরাচর করা হয় না কিন্তু এবার অনেকগুলো নাটকের গানেই ভয়েজ দিয়েছি। তা ছাড়া নিজের সংগীতায়নেও করা হয় না, অন্যের সংগীতে গেয়েছি। আমার বেসিকটাই হচ্ছে সিনেমার গান। সিনেমা এবং অডিও দুটোই আমি করে থাকি। আর আমি চাপ অনুভব করি না কখনো, এটাকে আমি উপভোগ করি। কাজের প্রেশার থাকলে আমার ভালো লাগে। আমি তখন ভালো থাকি।

গেল কয়েক বছরে অডিও গানের সংখ্যা কমেছে, অস্তিত্ব হারাচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে। সবাই এখন নাটকের গানে বেশি ঝুঁকছে। এ বিষয়টা কীভাবে দেখেন?

আমি সব সময় আমার মতো করে, আমার গতিতেই কাজ করে আসছি। আমার জায়গা থেকে প্রয়োজন বা চাহিদা কমেছে কি না, এটা কখনো অনুভব করিনি। আমার যারা ভক্ত রয়েছেন, তারা যেভাবে আমাকে চায় ঠিক সেভাবেই পায় বা আমি যেভাবে দিই, তারাও ঠিক সেভাবেই গ্রহণ করে। প্রতি বছরই আমার তিন-চারটা অডিও এবং দুই-তিনটা সিনেমার গান থাকে। যার কারণে সেভাবে আমি কখনো কমতি অনুভব করিনি। সার্বিকভাবে কমছে কি না, সেটা আমি ঠিক বলতে পারব না।

গানের মডেলের পাশাপাশি বিজ্ঞাপনেও আপনাকে পাওয়া যায়। অভিনয়ে কখনো দেখা যেতে পারে কি?

গানের মডেল হওয়া একরকম আবার বিজ্ঞাপনের মডেল হওয়া আরেক রকম অভিজ্ঞতা। অভিনয়টা আমাকে টানে না। বুঝি না, শিখিওনি কখনো। তবে দেখতে ভালোবাসি অনেক, সেটা নাটক হোক কিংবা সিনেমা কিন্তু অভিনয় করা নিয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই।

একটা গান টিকে থাকার মূল মন্ত্র কী বলে আপনি মনে করেন?

একটা গান টিকে থাকার মূল মন্ত্র আমার কাছে মনে হয় তিনটি। গানের গায়কি, সুর এবং কথা। অনেক গানই জনপ্রিয় হয় কিংবা হচ্ছে, সেটা ভিন্ন বিষয়। কিন্তু যদি কোনো গান টিকে থাকার প্রশ্ন আসে, সে ক্ষেত্রে অবশ্যই এ তিনটি বিষয় খুব খেয়াল করতে হবে। কারণ একটা গান কত দিন টিকবে, সেটা গানের কথা, সুর, গায়কি থেকেই বোঝা যায়।

আপনি বরাবরই নতুনদের সুযোগ দেন, তাদের নিয়ে কাজ করেন। এখনকার নতুনদের মধ্যে কাকে আগামীর সম্ভাবনাময় মনে হয় আপনার?

বরাবরই নতুনদের সঙ্গে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। ভালো কণ্ঠ কিংবা ভালো সংগীত পরিচালক পেলে আমি নিজেই তাদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করি এবং কাজ করতে পছন্দ করি। এখনকার সময়ে অনেকেই ভালো কাজ করছে। বিশেষভাবে যদি বলি, কম্পোজারদের মধ্যে সজিব, শাহরিয়ার মার্সেল, জাহিদ নীরব, আকাশ মাহমুদ খুব ভালো করছে। আর শিল্পীদের মধ্যে অনেকের গানই শুনেছি, শুনি। এখন মারুফা তৃষার গান ভালো লাগে, সে খুব ভালো করছে। আতিয়া আনিসা, অবন্তী সিঁথির গান ভালো লাগে। এদের বাইরেও অনেকেই ভালো করছে কিন্তু নাম ঠিক মনে নেই।