এক ইউনিয়নেই ১৫ ইটভাটা বিনাশ করছে কৃষিজমি

প্রতিদিন প্রায় ২২টি এক্সকাভেটর দিয়ে কাটা হচ্ছে কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি (টপ সয়েল)। এসব মাটি দুই শতাধিক ট্রাক্টরে এবং ১৫টি ড্রাম ট্রাকে করে নেওয়া হচ্ছে ১৫টি ইটভাটায়। এভাবে প্রতিনিয়ত মাটি কাটার ফলে এলাকার প্রায় পাঁচ বর্গকিলোমিটার কৃষিজমি নিচু জমিতে পরিণত হয়েছে। পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার দন্ডপাল ইউনিয়নের চিত্র এটি। জেলার ৫১ ইটভাটার ১৫টিই এই ইউনিয়নে অবস্থিত। এসব ইটভাটা থাকায় এলাকার কৃষিজমি বিনাশের পথে। মাটি বিক্রি করতে ইউনিয়নের বাসিন্দাদের এক প্রকার বাধ্য করেন ভাটা মালিকরা। তবে এতকিছুর পরও প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে। ভাটা মালিকরা বলছেন, সবাইকে ম্যানেজ করেই তারা ইটভাটা চালাচ্ছেন।

জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, পঞ্চগড়ে ৫১টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১০টির পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র আছে। বাকিগুলো অবৈধ। জেলার ৫১টি ইটভাটার ২২টি দেবীগঞ্জ উপজেলায়। অধিকসংখ্যক ১৫টি ইটভাটা দন্ডপাল ইউনিয়নে, বাকিগুলো সুন্দরদীঘি, পামুলী, শালডাঙ্গা ও চেংঠি হাজরাডাঙ্গা ইউনিয়নে। প্রতিনিয়ত মাটি কাটার ফলে কয়েকটি গ্রামের আবাদি জমি বর্তমানে অকৃষি জমিতে পরিণত হওয়ার পথে।

এলাকাবাসী জানায়, প্রায় ২০ বছর থেকে এলাকার কৃষিজমি থেকে এভাবে মাটি কাটা হচ্ছে। তবে আগে ইটভাটার সংখ্যা কম ছিল, এখন বেশি হয়েছে, তাই মাটির চাহিদাও বেশি। নগদ টাকার প্রয়োজনে জমির মালিকরা কৃষিজমির মাটি বিক্রি করছেন। তিন ফুট গভীরতার এক বিঘা জমির মাটি ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। ইতিমধ্যে দ-পাল ইউনিয়নের প্রায় পাঁচ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিচু জমিতে পরিণত হয়েছে।

দ-পাল ইউনিয়নের ধনমন্ডল গ্রামের ইউনুছ আলী জানান, তার জমির চারপাশের মাটি বিক্রি হয়ে গেছে। মাঝখানে চাষ অনুপযোগী হয়ে গেছে তার প্লট। বাধ্য হয়েই ভাটায় জমির মাটি বিক্রি করেছেন।

স্থানীয় ট্রাক্টর ও ড্রাম ট্রাক নিয়ন্ত্রণকারী শ্রমিক সংগঠনের নেতা রবিউল ইসলাম জানান, দন্ডপাল ইউনিয়নে প্রায় ২২টি এক্সকাভেটর, ২০০টি ট্রাক্টর এবং ১৫টি ড্রাম ট্রাক প্রতিদিন মাটি সরবরাহ করছে। ভাটা মালিকদের চাহিদা মতো তিনি মাটি সরবরাহ করেন। এই কাজে বৈধতার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে ইটভাটার মালিকদের সঙ্গে কথা বলেন আপনারা।’

উপজেলার ইটভাটা সমিতির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘মাটি কাটার কারণে জমির তেমন ক্ষতি হয় না। সরকার আমাদের ব্যবসার স্বার্থে মাটি কাটার বিকল্প ব্যবস্থা না করলে আমরা কী করব। আমরা তো গণমাধ্যমকর্মী, পরিবেশ অধিদপ্তর, উপজেলা-জেলা প্রশাসনসহ সবাইকে ম্যানেজ করেই চলছি।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফুল আলম বলেন, ‘জমির টপ সয়েল কাটা আইনত দন্ডনীয়। এই কাজের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সব ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

ভাটা মালিক কর্তৃক ম্যানেজ হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ইউসুফ আলী। তিনি বলেন, ‘এ বছর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে চারটি ইটভাটা মালিককে জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া দুটি ইটভাটা মালিকের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। তিনটির বিরুদ্ধে অভিযোগ অধিদপ্তরে পাঠানো হয়।’