পাকিস্তানে বিয়োগ অঙ্কে ভুল

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শক্তিশালী সেনাবাহিনী আছে আর পাকিস্তানের শক্তিশালী সেনাবাহিনীর আছে একটি দেশ বিশ্বে বহুল প্রচলিত কথাটি বারবার সত্য প্রমাণ করে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। বারবার তাদের হস্তক্ষেপে মেয়াদ পূর্ণ করার আগেই নির্বাচিত সরকারকে ছাড়তে হয়েছে ক্ষমতা। স্বাধীনতার ৭৬ বছর পেরিয়ে গেলেও দেশটির সামরিক বাহিনীর নেপথ্য ক্ষমতা চর্চার এ ঘেরাটোপে আবর্তিত হচ্ছে পাকিস্তানের রাজনীতি। যার সবশেষ উদাহরণ তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতা ও পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের অপসারণ এবং তাকে ভোটের বাইরে রেখেই নতুন একটি নির্বাচনের আয়োজন করা। শুধু তাই নয়, সেনাবাহিনীর বিপক্ষে চলে যাওয়া ইমরানকে রাজনীতির ময়দান থেকে সরিয়ে দিতে দেশটির রাজনীতিতে আজীবন নিষিদ্ধ হওয়া নওয়াজ শরিফকেও ফিরিয়ে আনে। ইমরানকে ‘মাইনাস’ করে নওয়াজকে প্রধানমন্ত্রী করার মোটামুটি সব আয়োজনই নেপথ্যে থেকে করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির। অভিযোগ উঠেছে, গত বৃহস্পতিবার দেশটির ১৬তম সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিনও নওয়াজ শরিফের দল পাকিস্তান মুসলিম লিগকে (পিএমএল-এন) জেতাতেই দেশ জুড়ে বন্ধ রাখা হয় মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট সেবা। ভোটের ফল ঘোষণায়ও করা হয় অস্বাভাবিক বিলম্ব। তবে শেষ পর্যন্ত ইমরানের দলকে দাবিয়ে রাখতে পারেনি পাকিস্তানের রাষ্ট্রযন্ত্র। সরকার গঠনের মতো একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও পিএমএল-এন বা বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে আছে স্বতন্ত্র প্রার্থী দিয়ে হিসাবে ভোটে লড়া পিটিআই। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর গতকাল শুক্রবার রাত ৯টা পর্যন্ত জাতীয় পরিষদের (পার্লামেন্ট) ২৬৫টি আসনের মধ্যে ২৩৬টির ফল প্রকাশ করেছে পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন (ইসিপি)। এর মধ্যে পিটিআই সমর্থিত ও অন্যান্য স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন ৯৬টি আসন। নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন জিতেছে ৬৯টি আসনে আর বিলাওয়াল ভুট্টোর পিপিপি জিতেছে ৫২ আসনে। মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট (এমকিউএম) জয়ী হয়েছে ১৫টি আসনে। এ ছাড়া পাকিস্তান মুসলিম লিগ (পিএমএল-কিউ) তিনটি, জমিয়ত উলামায়ে ইসলাম (জেইউআই) দুটি ও ইমরান খানের দল থেকে বেরিয়ে গিয়ে গঠিত দল আইপিপি জিতেছে দুটি আসনে। এখনো ২৯ আসনে ফলাফল আসার বাকি। আর একটি আসনের ভোট স্থগিত করা হয়েছে এক প্রার্থী নিহতের ঘটনায়।

পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা জন্য একটি দলকে অন্তত ১৩৩টি আসনে জয় পেতে হবে। এর সঙ্গে সংরক্ষিত ৬০ নারী ও ১০ সংখ্যালঘু থেকে আসন অনুপাতে যোগ হবেন সংসদ সদস্যরা। কিন্তু ফলাফল যা বলছে, তাতে এবারের ভোটে কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। সে ক্ষেত্রে কোন কোন দল জোট বেঁধে নতুন সরকার গঠন করবে সেটাই দেখার বিষয়। সামরিক বাহিনীর সমর্থন বা চাপে পাকিস্তানের নতুন সরকার গঠিত হলেও তার স্থিতিশীলতা নিয়ে সংশয় রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে বলছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পিটিআই দলকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে দিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের জন্য যে সুবিধাজনক অবস্থা সৃষ্টি করা হয়েছিল, তার পরিপ্রেক্ষিতে দেশ-বিদেশে এই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছে। পরমাণু শক্তিধর দেশটিতে এমন লাগাতার সংকট তাই বিশ্বের কাছে বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে থাকতে পারে।

গতকাল সর্বশেষ ফল প্রকাশ করে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ বলেছে, গত বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রথম বেসরকারি ফল পাওয়া যাবে আর শুক্রবারের সকালের মধ্যে ফলাফলের পরিষ্কার একটি চিত্র পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু তেমনটি হয়নি। ফলাফল প্রকাশে যে বিলম্ব ঘটছে তা অস্বাভাবিক। যে কারণে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলেছে ইমরানের দল। তারা ফল প্রকাশে বিলম্ব হওয়াকে ভোট কারচুপির লক্ষণ বলে অভিহিত করেছে। তবে ফল প্রকাশে বিলম্বের জন্য ‘ইন্টারনেট ইস্যু’কে দায়ী করেছেন নির্বাচন কমিশনের স্পেশাল সেক্রেটারি জাফর ইকবাল। কিন্তু বিস্তারিত আর কিছু জানাননি তিনি। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যোগাযোগে গোলযোগের কারণে ভোট গণনায় দেরি হচ্ছে।

নির্বাচনের দিন নিñিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভোটগ্রহণ শুরুর মাত্র ১০ মিনিট আগে মোবাইল পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল পাকিস্তানে। কল ও ডেটা সেবা, কোনোটিই সচল ছিল না। দীর্ঘ সময় ধরে মোবাইল পরিষেবা বন্ধ থাকায় নির্বাচনের ফল আসতে দেরি হচ্ছে বলে ভাষ্য সাংবাদিকদেরও। তবে সংশয় ও উদ্বেগ কাটিয়ে ধীরে ধীরে আসছে ভোটের ফল। কিন্তু ফলের প্রবণতায় এটা নিশ্চিত হওয়া গেছে, এককভাবে কোনো দলই ক্ষমতায় যেতে পারছে না। এখনো সবচেয়ে বেশি আসন জেতা পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা হলেও ইমরান খান কারাগারে থাকায় কে হবেন পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

বিবিসি বলছে, এখন পর্যন্ত যেসব আসনের ফল দিয়েছে, তাতে টানটান উত্তেজনা দেখা যাচ্ছে। কারণ আসনসংখ্যার দিক থেকে দলগুলো প্রায় কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ভোটের ফল দিতে দেরি হলেও দেশটির প্রায় ১২ কোটি ৮০ লাখ ভোটার এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন যে, কে হতে যাচ্ছেন তাদের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী।

এবারের নির্বাচনে ভোট কারচুপি হোক বা না হোক, সেনাবাহিনীর সুনজরে থাকার কারণে চতুর্থবারের মতো ফের নওয়াজ শরিফ ক্ষমতায় বসতে যাচ্ছেন বলে ধারণা করছেন অনেক বিশ্লেষক। তবে তারা এও বলছে, নির্বাচনের পরদিন পূর্ণাঙ্গ ফল পাওয়াটা অস্বাভাবিক না হলেও পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনের ফল নিয়ে অনিশ্চয়তার মাত্রা নজিরবিহীন। ইউএস ইনস্টিটিউট অব পিসের তামান্না সালিকুদ্দিন বিবিসিকে বলেন, এই নির্বাচনের ফল একপ্রকার ‘হয়ে যাওয়া চুক্তি’। তার মতে, এ চুক্তি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ ও তার দল পিএমএল-এর বিজয়ের পথ অনেকটা পরিষ্কার করা হয়েছিল। এখনো সে চেষ্টা চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, খুব কম অফিশিয়াল ফল প্রকাশ হচ্ছে এবং ইসিপি তথ্য প্রকাশ করছে না। আমার মনে হয়, এটা অস্বাভাবিক। যারা এ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছেন, তাদের জন্য এটি একটি বড় বিস্ময়। তিনি বলেন, যে নির্বাচনে এখন পর্যন্ত যে ফল আসছে, তাতে কোনো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ ও তার দল পিএমএল-এন এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থায় আছে বলে মনে করা হচ্ছিল। যদিও তার এমন উন্নতি কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। কারণ গত নির্বাচনের সময় দুর্নীতির দায়ে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল তাকে। স্বেচ্ছা নির্বাসনে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীকে ১৯৯৯ সালে সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছিল। এরপর ২০১৭ সালে তার তৃতীয় মেয়াদের সময়সীমা কমিয়ে আনা হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি তিনি নির্বাসন থেকে ফিরেছেন। গত বছর তার বিরুদ্ধে দেওয়া ক্ষমতায় আসতে আজীবন নিষেধাজ্ঞা বাতিল করা হয়েছে। সরিয়ে ফেলা হয়েছে তার সব অপরাধের রেকর্ডও। সব মিলিয়ে সেনাবাহিনীর সমর্থনে তিনি আবারও নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।

এরপর রয়েছেন বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি। যিনি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো এবং প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারির ছেলে। বেনজির ২০০৭ সালে পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে ৫৪ বছর বয়সে এক আত্মঘাতী হামলায় নিহত হন। ২০২২ সালে ইমরান খানকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন বিলাওয়াল ভুট্টো।

যে রাজনীতিবিদ এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছেন, সেই ইমরান খান গত বছর থেকে কারাগারে থাকলেও ভোটের মাঠে এখনো তার ব্যাপক জনসমর্থন রয়েছে। গত সপ্তাহে তাকে আবার কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি ভোটে লড়তে না পারলেও বৃহস্পতিবার কারাগারে থেকেই ভোট দিয়েছেন।

পিটিআই প্রার্থীরা ‘ক্রিকেট ব্যাট’ প্রতীকের অধীনে নির্বাচন করতে পারবেন না, নির্বাচন কমিশন এরকম একটা আইন জারি করায় এ প্রার্থীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বাধ্য হয়েছেন এবং তারা জয়ও পাচ্ছেন। এ অবস্থায় পিএমএল-এন নেতারা বলছেন, তারা সরকার গঠন করতে পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তাদের দলের প্রধান নওয়াজ শরিফ বিজয়ী ভাষণ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সামাজিকমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) পিএমএল-এনের প্রধান সংগঠক মরিয়ম নাওয়াজ লেখেন, একশ্রেণির গণমাধ্যমের ভুয়া পূর্বাভাস মিথ্যা প্রমাণ করে পিএমএল-এন কেন্দ্র ও পাঞ্জাবে বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় মরিয়ম লিখেছেন, ‘আরও ফল আসছে। শিগগিরই দলীয় প্রধান বিজয় ভাষণ দিতে পিএমএল-এনের সদর দপ্তরে যাবেন।’

মরিয়মের এই টুইটের পর গতকাল স্থানীয় সময় সন্ধ্যার দিকে লাহোরে পিএমএল-এনের কেন্দ্রীয় অফিস থেকে বিজয় ভাষণ দেন তার বাবা নওয়াজ শরিফ। বিজয় ভাষণ হিসেবে দাবি করা বক্তব্যে নওয়াজ শরিফ বলেছেন, শাহবাজ শরিফকে দায়িত্ব দিয়েছি ফজলুর রহমান, খালিদ মকবুল সিদ্দিকি ও আসিফ আলি জারদারির সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য। ভোটের পর পিএমএল-এন দেশের একক বৃহত্তম দল। দেশকে সংকট থেকে উত্তরণের দায়িত্ব তার দলের। আমাদের একমাত্র এজেন্ডা সমৃদ্ধ পাকিস্তান।

যদিও আসিফ আলি জারদারি বা বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির পক্ষ থেকে কোয়ালিশন করার বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

এদিকে সরকার গঠনের জন্য নওয়াজ শরিফের দল বা বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির দলের সঙ্গে জোট গড়বে না বলে জানিয়েছে পিটিআই চেয়ারম্যান গহর আলি খান। সরকার গঠনের দৌড়ে তার দল পিটিআই এগিয়ে বলে দাবি করেছেন তিনি। জিও নিউজকে গহর আলি বলেন, ‘পিএমএল-এন ও পিপিপির সঙ্গে আমরা যোগাযোগ রাখছি না।’

পাশাপাশি দলটির পক্ষ থেকে নওয়াজ শরিফকে পরাজয় মেনে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পিটিআই তাদের অফিশিয়াল এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে লিখেছে, ‘একটু দয়া করুন, হার মেনে নিন। পাকিস্তানের জনগণ কখনো আপনাকে মেনে নেবে না। একজন গণতন্ত্রী হিসেবে কিছুটা বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরে পাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ এটি। দিন-দুপুরে ডাকাতি প্রত্যাখ্যান করতে যাচ্ছে পাকিস্তান! পিটিআই জিতছে, রায়কে সম্মান জানান।’

এদিকে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কাটিয়ে যে সরকারই পাকিস্তানের হাল ধরুক না কেন, অর্থনীতির বেহাল অবস্থা সামাল দেওয়া তাদের জন্য কঠিন হবে। অপ্রিয় সংস্কার, বাড়তি কর ও রাজস্ব আদায় জনরোষের কারণ হতে পারে। সামরিক বাহিনীর সমর্থন পেলেও পাকিস্তানের নতুন সরকারের স্থিতিশীলতা নিয়ে সংশয় রয়েছে। সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির নতুন সরকারেরও নেপথ্যে থেকে কলকাঠি নাড়লেও কিংবা নতুন যোগ-বিয়োগের হিসাব কষলেও তার ফল নাও মিলতে পারে। ফলে তার জন্য দুর্ভোগ পোহাতে হবে দেশটির জনগণকে। দেশটির লাগাতার সংকট বিশ্বের কাছে বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে থাকতে পারে।

প্রাদেশিক পরিষদ

পাঞ্জাব ২৯৬ (প্রাপ্ত ফল ২৭৪)

পিএমএল-এন-১২৯

স্বতন্ত্র পিটিআই -১১৭

পিপিপি-১০

সিন্ধু-১৩০ (প্রাপ্ত ফল ১১৯)

পিপিপি-৮২

স্বতন্ত্র পিটিআই-১৩

এমকিউএম-২০

খাইবার পাখতুনখাওয়া-১১৩ (প্রাপ্ত ফল ১০৩)

স্বতন্ত্র ও পিটিআই-৭৭

পিপিপি-৪

পিএমএল-এন-৫

বালুচিস্তান-৫১ (প্রাপ্ত ফল ২৮)

পিএমএল-এন-৮

পিপিপি-১০

জমিয়ত উলামায়ে ইসলাম-৮