চন্ডিকা হাথুরুসিংহে যখন আগের মেয়াদে বাংলাদেশ দলের কোচ তখন প্রধান নির্বাচক ছিলেন ফারুক আহমেদ। ২০১৬ সালের ১৯ জানুয়ারি সেই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান ফারুক, কারণ ছিল দল নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নতুন নীতির সঙ্গে তার মতভিন্নতা। দল নির্বাচনে কোচ এবং ম্যানেজারকে সম্পৃক্ত করার প্রক্রিয়া মেনে নেননি ফারুক, পদের মোহে আপোষ না করে বিদায় নেয়াকেই শ্রেয়তর মনে করেছেন। এখনো ফারুক ক্রিকেট বোর্ডের কোন লোভনীয় পদে নেই, সে কারণেই তিনি বক্তব্যে স্বচ্ছ এবং সোচ্চার। শনিবার আবাহনী ক্রীড়া চক্রের প্রথম ক্রিকেট লিগ জয়ের ৫০ বছর পূর্তির অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে ফারুক কড়া সমালোচনা করলেন ভারত বিশ্বকাপে দল নির্বাচন এবং তার প্রতিক্রিয়া নিয়ে, সতর্ক করলেন আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল নির্বাচন নিয়েও।
জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ফারুক গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে বলেছেন, 'যে প্রক্রিয়া দল নির্বাচন হচ্ছে সেটা আমি আসলে মানতে পারছি না। যারা এই কাজগুলো করছেন তারা কম দূরদৃষ্টি সম্পন্ন। অথবা তাদেরকে অনেক বেশি বাহ্যিক হস্তক্ষেপের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।' কোচেরা জাতীয় দলের খেলার আগে আসেন, দলকে কোচিং করান এরপর দেশে ফিরে যান, আবার নতুন সিরিজের আগে আসেন। এই সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ফারুক, 'একজন কোচ কিন্তু এসে ৩ দিন নেটে দেখে একজন ব্যাটসম্যানকে পছন্দ করে ফেলে কারণ তার পক্ষে তো সবার সম্পর্কে জানা সম্ভব না। অনেক ছেলে আছে নেটে খুব ভাল কিন্তু মাঠে বাস্তব পরিস্থিতিতে খুব একটা ভাল না। এই সব ব্যপারে কোচকে ফিডব্যাক দিবে কে, ম্যানেজমেন্ট অর্থাৎ নির্বাচক কমিটি। কোচ এসেই অনেক বেশি কর্তৃত্ব পেয়ে যায় আর শোনে ভুল মানুষের কথা। যেটা বোঝাতে চাচ্ছি, কোচ নির্বাচকদের কথা শোনে না। হয়তো বোর্ডের কোন প্রভাবশালী পরিচালকের কথা শোনে। কারণ তার সঙ্গে হয়তো তার ভাল সম্পর্ক।'
কে কেন অধিনায়ক হচ্ছে এবং কেন দল থেকে বাদ পড়ে যাচ্ছে কিছুই বোধগম্য হচ্ছে না ফারুকের, 'মাহমুদউল্লাহ ছিল (টি২০) অধিনায়ক। কয়েকটা বাজে ম্যাচের পর সে নেতৃত্ব হারাল এরপর দলে জায়গাও হারিয়ে ফেলল। খুবই অদ্ভুত।' সাকিব আল হাসানের সঙ্গে তামিম ইকবালের সম্পর্কের রসায়ন নিয়েও দল ভুক্তভোগী, মনে করেন ফারুক, 'তামিম-সাকিব তাদের ব্যক্তিগত পছন্দ অপছন্দও অনেক প্রভাব রেখেছে। কেউ হয়তো কোন একজনকে অনেক পছন্দ করে, নির্বাচক পছন্দ করে অন্য কাউকে,কোন প্রভাবশালী কর্মকর্তা হয়তো কাউকে পছন্দ করে। কেউই পুরো দলের কথা চিন্তা করে না।'
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও একই রকম ভরাডুবির আশঙ্কা ফারুকের, 'এই যে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যাবে, কোন পরিকল্পনা কি আছে? ১৫-২৫ জনের একটা স্কোয়াড কি আছে? আমার মনে হয় না। কে অধিনায়ক হবে আমি জানি না। এসব ব্যাপার আমার কাজের ধরনের সঙ্গে যায়ই না। এই জন্যই আমি নাই, এই জন্যই আমি পদত্যাগ করেছি', জানিয়েছেন সাবেক প্রধান নির্বাচক।