‘নতুন’ রংপুরে বিধ্বস্ত চট্টগ্রাম

আসরের অষ্টম ম্যাচ হলেও এই রংপুর রাইডার্স দলটাকে নতুনই বলা যায়! কারণ একাদশে যে চারজন বিদেশি ক্রিকেটার নেমেছিলেন তাদের প্রত্যেকেরই প্রথম ম্যাচ। রেজা হেনড্রিকস, ইমরান তাহির, জেমস নিশাম আর টম মুরস কাল খেলেছেন রংপুরের হয়ে প্রথম ম্যাচ। কারণ এতদিন ধরে রাইডার্সের হয়ে জয়ের লড়াই লড়ে যাওয়া মোহাম্মদ নবী, আজমতউল্লাহ ওমরজাই, বাবর আজমরা ফিরে গেছেন নিজ নিজ গন্তব্যে। নতুন চার বিদেশির তিনজনই প্রথম ম্যাচে দারুণ সফল; হেনড্রিকস করেছেন ৪১ বলে ৫৮ রান, নিশাম ২৬ বলে ৫১ রানের সঙ্গে জোড়া শিকার আর ইমরান তাহিরের ২৮ রানে ১ উইকেট। ৫৩ রানের বড় জয়ে নিশামের অলরাউন্ড নৈপুণ্যই গড়ে দিয়েছে বড় ব্যবধান।

টস জিতে রংপুর অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান নিয়েছেন ব্যাটিং। রনি তালুকদারের সঙ্গে রেজা হেনড্রিকসের উদ্বোধনী জুটিটা ৬১ রানের, পাওয়ার প্লে-তে আসে বিনা উইকেটে ৫২ রান। ১৭ বলে ২৪ রানে রনির বিদায়ের পর সাকিব আল হাসানের ১৬ বলে ২৭ রানের ইনিংস রান রেটটা কমতে দেয়নি। অন্যপ্রান্তে হেনড্রিকস তো ছিলেনই। নুরুল হাসান সোহানের ২১ বলে ৩১* রানের ইনিংসটা বেশ কার্যকর, তবে নিশামের ২৬ বলে ৫১ রানের ইনিংসটাই রংপুরকে নিয়ে যায় দলীয় ২০০ রানের ওপারে। আগের রাতেই তাওহিদ হৃদয়ের ব্যাটে এবারের বিপিএল দেখেছে প্রথম ব্যক্তিগত ১০০, রাত পোহাতেই দেখা গেল প্রথম দলীয় ২০০। ৩ উইকেটে ২১১ রানে শেষ হয় রংপুরের ইনিংস।

১৫ ওভার শেষে রংপুরের রান ছিল ১৩৬/৩, সেখান থেকে তারা শেষ করেছে ২১১/৩ এ, অর্থাৎ শেষ ৩০ বলে (৫ ওভারে) নিশাম ও সোহান মিলে নিয়েছেন ৭৫ রান! শুধু ১৬তম ওভারটায় এসেছে ১০ রান, এরপর ১৭তম ওভারে ১৪ রান, ১৮তম ওভারে ১৪ রান, ১৯তম ওভারে ১৭ রান আর শেষ ওভারে রংপুর তুলেছে ২০ রান। নিশামের শেষ বলে মারা ছক্কায় পূর্ণ হয়েছে হাফসেঞ্চুরি, ২৬ বলে ৫ বাউন্ডারি আর ৩ ছক্কায় অপরাজিত ৫১ এই কিউই অলরাউন্ডার। দক্ষিণ আফ্রিকার টি-টোয়েন্টি লিগ খেলে সদ্যই ঢাকায় এসেছেন, নেমেই অমন ইনিংস। কন্ডিশনিংয়ের বালাই নেই! নিশামের ইনিংসটাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় পেশাদার টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটারদের শক্তির জায়গাটা কোথায় আর বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা কতখানি পিছিয়ে। ম্যাচশেষে সংবাদ সম্মেলনে আসা নিশাম জানালেন, ‘দেখুন এটা নতুন কিছু নয়। গত কয়েকটা বছর ধরে ক্রিকেট মানেই ভ্রমণ, এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়া আর টুর্নামেন্ট জেতা। অতীতে এটাই করেছি আর এই কাজের সঙ্গে আমি খুবই অভ্যস্ত। এটা আসলে স্রেফ নিজের অতীত অভিজ্ঞতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির মূল্যায়ন করে সেটা কাজে লাগানো। আমার কাছে মনে হয়ে ব্যক্তিগত প্রস্তুতিটা অনেক বড়, পেশাগত প্রস্তুতির চেয়ে। কোথায় যাচ্ছি সেটা জানা, কী হতে পারে সেখানে সেটা ভেবে আগাম তৈরি থাকা। আমাকে তৈরি করা কোচ, সহকারী কোচ বা অধিনায়কের কাজ নয়। আমাদের হাতে সব প্রযুক্তি আছে, আমরা জানি কারা আমাদের সঙ্গে খেলছে এবং কারা প্রতিপক্ষ। কাউকে চিনব, কাউকে চিনব না, এটাই স্বাভাবিক। নিজের খেলায় আস্থা রাখতে হবে’।

২১২ রান তাড়া করে জেতার খুব একটা সদিচ্ছা দেখায়নি চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। বিগব্যাশ এর সুবাদে নাম কামানো জশ ব্রাউন ৯ বলে ১০ রানে আর টম ব্রুস ১৩ বলে ১৪ রানে বিদায় নেওয়ার পরই বোঝা হয়ে যায় যে এই ম্যাচে আর কারও কিছুই করার নেই। সৈকত আলী এই ২০০’র বেশি রান তাড়ার ম্যাচেও একটা সময় ২৯ বলে ১৭ রানে ব্যাট করছিলেন। পরের দিকে যখন তিনি ব্যবধান কমানোর চেষ্টায় তখন জয়ের সঙ্গেই চট্টগ্রামের ব্যবধান অনেকখানি বেড়ে গেছে। শুভাগত হোমের ১৩ বলে ৩১ বা কার্টিস ক্যাম্ফারের ২১ বলে ২৪ রানের  ইনিংসগুলো স্রেফ ব্যবধানই কমিয়েছে। ৬ উইকেটে ১৫৮ রানে থেমেছে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। টি-টোয়েন্টিতে ড্র বলে কিছু নেই, ২১২ রান তাড়া করে এই মাঝামাঝি রানের একটাই লক্ষ্য হতে পারে, রান রেটে বেশি পিছিয়ে না যাওয়া। কারণ তাতে প্লে-অফের সমীকরণে প্রভাব পড়তে পারে।

৮ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রংপুর রাইডার্স, ১ ম্যাচ কম খেলে ১০ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস। ৮ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের, তাদের রান-রেট -০.৫০৫। ৭ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত চারে খুলনা।