রওশনের সভায় আসেননি জাপার ‘বিদ্রোহীরা’ও

রওশন এরশাদ নিজেকে জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান ঘোষণা করলেও তার ডাকা জরুরি বৈঠকে সাড়া দেননি দলটির প্রেসিডিয়াম মেম্বার, সংসদ সদস্য ও শীর্ষস্থানীয় অন্য নেতারা। এমনকি এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না নির্বাচনের পর জিএম কাদেরের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক দেওয়া দলের কো-চেয়ারম্যান আবু হোসেন বাবলা, কাজী ফিরোজ রশীদ (বহিষ্কৃত), অতিরিক্ত মহাসচিব ও সাবেক সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকাসহ অন্য নেতারা।

রওশন এরশাদের ডাকা বৈঠকে কেবল জাপা থেকে বহিষ্কৃতদের কয়েকজন ও আগে থেকেই রওশন অনুসারী হিসেবে পরিচিত নেতারাই অংশ নেন। গতকাল শনিবার গুলশানে তার বাসভবনে এ সভা হয়।

সভায় রওশন এরশাদ বলেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পর আমি পার্টির শীর্ষ নেতা এবং অন্যান্য স্তরের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছি। বৈঠকে আমরা জাপার দশম জাতীয় সম্মেলন প্রসঙ্গে আলোচনা করেছি।’

তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ২ মার্চ সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করেছিলাম। কিন্তু পবিত্র রমজানের আগে রাজধানীতে নানা আনুষ্ঠানিকতা থাকায় এবং ওই দিন সম্মেলনের জন্য উপযুক্ত ভেন্যু না পাওয়ায় তারিখ পরিবর্তন করে ৯ মার্চ সম্মেলনের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।’

এরশাদের রেখে যাওয়া জাতীয় পার্টির জনপ্রিয়তায় চরম ধস নেমেছে উল্লেখ করে রওশন এরশাদ বলেন, যে দলটির লাখ লাখ নেতাকর্মী দক্ষতা ও যোগ্যতায় এখনো সরকার পরিচালনার স্বপ্ন দেখেন, সেই দলটির সাংগঠনিক অবস্থা বর্তমানে নাজুক। জাতীয় পার্টি থেকে এরশাদের নামটাও প্রায় মুছে ফেলা হয়েছে। দলের এই ক্রান্তিলগ্নে এরশাদ-পাগল নেতাকর্মীদের দাবির মুখে এক কঠিন পরিস্থিতিতে দলকে রক্ষার জন্য চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি।

এ সময় রওশন এরশাদ দলের সব স্তরের নেতাকর্মীদের দশম জাতীয় সম্মেলনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘সম্মেলন প্রসঙ্গে আপনাদের যদি কোনো কিছু জানার থাকে, তাহলে আপনাদের প্রশ্নের উত্তর দেবেন আমাদের মহাসচিব কাজী মামুনুর রশিদ।’

এর আগে গত ২৮ জানুয়ারি চেয়ারম্যান জিএম কাদের এবং মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুকে অব্যাহতি দিয়ে নিজেকে চেয়ারম্যান এবং কাজী মামুনুর রশিদকে মহাসচিব ঘোষণা করেন রওশন। যদিও শুরু থেকেই জিএম কাদের অনুসারী নেতাকর্মীরা দলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা রওশনের সিদ্ধান্তকে আমলে নেননি।

রওশনের ডাকা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এরশাদপুত্র রাহগির আল মাহি সাদ এরশাদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী গোলাম সরোয়ার মিলন, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, ফখরুজ্জামান জাহাঙ্গীর, জাফর ইকবাল সিদ্দিকী, উপদেষ্টা রফিকুল হক হাফিজ, অধ্যাপক ড. নুরুল ইসলাম মিলন, এমএ গোফরান, এমএ কুদ্দুস খান, পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম নূরু, জাহাঙ্গীর আলম পাঠান, ইয়াহ্ ইয়া চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার মামুনুর রশিদ প্রমুখ।

এরশাদের ডাকে জাপার শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে কাজী মামুনুর রশিদ বলেন, ‘এক দিন আগে বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে অনেকেই উপস্থিত থাকতে পারেননি। তাদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ আছে।’ দল রওশন এরশাদের নেতৃত্বেই ঐক্যবদ্ধ বলে দাবি করেন তিনি।