বাড়ি ফিরতে চায় না বউ, শ্বশুরবাড়ির সিঁধ কেটে ভেতরে ঢুকলেন স্বামী

শ্বশুর বাড়িতে সিঁধ কেটে ঢুকলেন স্বামী। তার পর স্ত্রীকে ছুরি দিয়ে কোপালেন। এমনই অভিযোগ উঠল তার বিরুদ্ধে। এ নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন আক্রান্ত ওই নারী। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার গোপালনগরের ঘটনা।

পুলিশ জানায়, ৮ বছর আগে গোপালনগরের অম্বরপুরের বাসিন্দা গৌতম বিশ্বাসের সঙ্গে বিয়ে হয় বাগদা থানার কাশীপুর মধ্যপাড়ার বাসিন্দা পায়েল বিশ্বাসের। দম্পতির দুই সন্তান। অভিযোগ, স্ত্রীকে বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনতে চাপ দিয়ে স্ত্রীকে প্রায়শই মারধর করতেন গৌতম। এ কারণে মাস দুয়েক আগে বাবার বাড়ি চলে যান পায়েল। স্ত্রীকে বাড়ি ফেরার জন্য ফোনে বেশ কয়েকবার অনুরোধ করেন স্বামী। কিন্তু পায়েল শ্বশুর বাড়িতে ফিরতে চাননি।

তার পরের ঘটনা গত ০৬ ফেব্রুয়ারির। সে দিন মধ্যরাতে পায়েলের বাবার বাড়ির রান্নাঘরের পেছনে সিঁধ কেটে ঘরে ঢোকেন গৌতম। রাতে পানি খেতে উঠে স্বামীকে দেখেই চমকে যান পায়েল। ঠিক তখনই তার ওপর ছুরি নিয়ে হামলা করা হয়। পায়েল জানান, ছিরি-হামলা ঠেকাতে গিয়ে তার হাতে-পায়ে আঘাত লেগেছে। পায়েলের চিৎকার শুনে পরিবারের বাকি সদস্যদের ঘুম ভেঙে যায়। আর সেটা বুঝতে পেরেই শ্বশুর বাড়ির সামনে মোটরসাইকেল ফেলেই পালিয়ে যান গৌতম।

গুরুতর আহত অবস্থায় পায়েলকে বাগদা গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। তিনি বাগদা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। তাতে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির পরিবারের চার সদস্যের নাম রয়েছে। তার ভিত্তিতে অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।

পায়লে বলেন, 'বাবার বাড়ি থেকে অনেকবার টাকা নিয়ে স্বামীকে দিয়েছি। কিন্তু তার পরেও টাকার জন্য আমাকে মারধর করত। আমি আর সহ্য করতে পারিনি। তাই বাবার বাড়ি চলে এসেছিলাম। কিন্তু গত ৬ তারিখ রাতে সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে ছুরি নিয়ে আমার ওপরে চড়াও হয় ও। আমি এই বিষয়ে থানায় অভিযোগ জানিয়েছি। আমি চাই, স্বামীর শাস্তি হোক।'