মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে এক পথচারী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় পুলিশ সদস্যসহ আরো অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ককটেল বিষ্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয়রা।
রবিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শহরের ইটেরপুল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ সোহাগ তালুকদার (৩০) শহরের হরিকুমারিয়া এলাকার দেলোয়ার তালুকদারের ছেলে। তিনি পেশায় একজন অটোরিকশাচালক।
আহত পুলিশ সদস্য রাজিবকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রাজীব সদর মডেল থানার ওসির দেহরক্ষী।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, দুপুরে মাদারীপুর আদালত প্রাঙ্গনে পূর্বের মামলার কাজে যান ছাত্রলীগ নেতা সজীব সরদার ও সুমন কাজী গ্রুপের লোকজন। দুই পক্ষ আদালত প্রাঙ্গনে মুখোমুখি হওয়ায় তাদের মধ্যে প্রথমে তর্ক-বিতর্ক ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে শহরের ইটেরপুল এলাকায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। থেমে থেমে ঘণ্টাব্যাপী চলে এ সংঘর্ষ।
এ সময় বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে যাত্রী ও পথচারীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। খবর পেয়ে পুলিশ ফাঁকাগুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
আহত সোহাগ তালুকদারের স্ত্রী মাকসুদা বেগম বলেন, আমার ছেলেকে স্কুল থেকে আনতে আমার স্বামী বাসা থেকে বের হয়। এ সময় সংঘর্ষের মধ্যে সে পড়ে যায়। পরে পুলিশের গুলিতে সে আহত হয়। যারা প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়, তাদের কিছুই বলে না। অথচ পুলিশ পথচারীদের ওপর এমন গুলি করে, এর বিচার হওয়া উচিত।
রাবার বুলেট বিদ্ধ অটোচালক সোহাগ তালুকদার বলেন, ‘আমি রাস্তায় দাঁড়ানো ছিলাম। হঠাৎ করে আমার গায়ে গুলি লাগে।
মাদারীপুর জেলা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. রিয়াদ মাহমুদ জানান, হাসপাতালে কয়েকজন ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে এক পুলিশ সদস্য ও এক ইজিবাইক চালকও রয়েছে।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এইচ এম সালাউদ্দিন জানান, আধিপত্যের জেরেই এই সংঘর্ষের ঘটনা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে থানা পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে। সংঘর্ষে ৭-৮ জন আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে এক পুলিশ সদস্যও রয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।