সংসদ সদস্য হওয়ার খবর পেলে আসলে কী হবে জানি না, মনে হয় এক্সাইটেড হয়ে, খুশিতে প্রথমেই মাথা ঘুরে পড়ে যাব এভাবেই মজা করে বললেন অভিনেত্রী সোহানা সাবা। সংসদ সদস্য হলে প্রথমেই কী করবেন, এমন এক প্রশ্নের এমনই দ্রুততর জবাব ছিল তার। তবে সিরিয়াসলি যখন বললেন, তার ভাষ্য ছিল এমন, ‘আসলেই অনুভূতিটা কেমন হতে পারে তা ওই মুহূর্তেই হয়তো বলতে পারব।’
সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে সাবার কাজের ধরনটা হবে একেবারে আলাদা। সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম কিছু বিষয় নিয়ে এই অভিনেত্রী কাজ করতে চান। একটু বিষদে জানতে চাইলে সাবা বললেন, ‘সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে প্রথমেই আমার যে অঞ্চলে কাজ করার ইচ্ছে রয়েছে, তা হলো শিক্ষা। বেসিক শিক্ষা, সুশিক্ষা। আমাদের মোবাইল ফোন হোক, ইন্টারনেট হোক, যোগাযোগের মাধ্যম গত ১৫ বছরে র্যাপিডলি মানে চোখের সামনে তরতর করে বেড়েছে। কিন্তু এটার সচেতনতা নিয়ে কাজ করব। সুশিক্ষা, একটা ছেলের, মেয়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া, একটা মেয়ের ছেলের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া।’
সাবা নিজের কাজের পরিধিকে আরেকটি বিশ্লেষণ করে বললেন, ইচ্ছা, নেতিবাচকভাবে বলছি না, এটা ইতিবাচকভাবেই একটা মানুষের বাঁচার যে ইচ্ছা বা অধিকার সেটা যেন অধিকার মনে না হয়। অধিকার শব্দের প্রশ্নই আসবে না, মনে হবে বেঁচে থাকাটা খুবই স্বাভাবিক। নিজের মতো করে চলার অধিকার, সেখানেও একটা বর্ডার লাইন থাকবে। মেয়েদের নিয়ে কাজ করার বিষয়টা সবাই বলে ইউজুয়ালি। কিন্তু একজন নারী সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত হলে হয়তো সবাই মনে করে, ফোকাসটা নারীকেন্দ্রিক হবে। কিন্তু আমি মনে করি, একজন মেয়ের উন্নয়নের চেয়ে পাশাপাশি একজন ছেলের চিন্তাশক্তির উন্নয়নও খুব জরুরি। এজন্যই সুশিক্ষা জরুরি। ছেলেদের চিন্তাশক্তির উন্নয়ন নিয়েও কাজ করতে চাই। তাহলে সমাজে নারীকেন্দ্রিক হেনস্তা কিংবা হয়রানির ঘটনা ঘটবে।
জীবনযাপনকে সহজতর করতে চান সোহানা সাবা। এখন সাবা ইয়োগায় মনোযোগী। তাই অনুভব করেন সুস্থভাবে বেঁচে থাকাটা জরুরি। সাবা বললেন, ‘মানুষের সহজ জীবনযাপন, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করার বিষয়টি আমার মাথায় রয়েছে, যেহেতু আমি ইয়োগা নিয়ে কাজ করছি। যেন স্বাস্থ্যকরভাবে বাঁচা যায়, স্বাভাবিকভাবে বাঁচা যায়। কীভাবে চারপাশের পরিবেশ কম দূষণ করা যায় এসব নিয়ে আমার কাজ করার ইচ্ছে রয়েছে।’
সোহানা সাবা একজন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী। যদি তিনি রাজনৈতিক ক্ষমতা পেয়ে যান। মানে একজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই যান, সেক্ষেত্রে নিজের যে ক্ষেত্রটি, মানে চলচ্চিত্র অঙ্গন, সেটার জন্য নিশ্চয়ই কাজ করবেন। এমনটাই মনে করেন সবাই। সেটাই জানতে চাওয়া হয়েছিল সাবার কাছে। বললেন, ‘দেখুন আমি শিল্পী মানুষ। আমাদের শিল্পচর্চা একটা সমাজের জন্য খুব জরুরি। বিনোদন, আমাদের বেড়ে ওঠার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি আমাদের মানসিক বৃত্তি, প্রবৃত্তি বিকশিত করার জন্য, পরিবর্ধিত করার জন্য খুব জরুরি। এটা যত খাঁটিভাবে করা যায় ততই সমাজের জন্য ভালো। আমার সুযোগ হলে অবশ্যই এই জায়গাটা নিয়ে কাজ করব।’
এই মুহূর্তে সোহানা সাবা ব্যস্ত আছেন বেশ কিছু কাজ নিয়ে। সামনে বিজিএমই নির্বাচন-সেই নির্বাচনের একটি ফোরামের পাবলিক রিলেশনের বিভিন্ন দিক নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সোহানা বললেন, ‘এই ফোরামের শুটিং আমার ইয়োগা অফিসেই হচ্ছে, খামারবাড়ি প্রোডাকশন থেকে। আমার ইয়োগার কার্যক্রম ও খামারবাড়ি প্রোডাকশন এখন একই ছাতার নিচে; আমার বনানী অফিসে। আপাতত ডিরেকশন এবং প্রোডাশন এসব নিয়েই কাজ করছি। তবে সামনে কিছু চমকে দেওয়ার মতো কাজ আছে, এটার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।’