দুঃখই ছিল জন্ম সহোদর, কবরই হলো আপন

জন্মের সময় ওজন ছিল কম। সিজারে জন্মের কিছুদিন পর ছাড়পত্র পেয়ে তাকে নিয়ে আসা হয় বাড়িতে। তখন থেকেই নানা জটিলতায় ভুগছিল তামান্না ইসলাম তুবা। তার বয়স যখন আড়াই মাস তখন ধরা পড়ে হার্নিয়া। ডাক্তার পরামর্শ দেন অপারেশন করানোর। পরে আরও কয়েকটি পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তুবার হার্টে তিনটি ছিদ্র রয়েছে বলে জানান চিকিৎসক। শিশুটির পরিবারকে ডাক্তার বলেছিলেন, দেশে তুবার চিকিৎসা সম্ভব নয়। তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনার কথা বলেন মাত্র ২%। তবে ভারতের নামকরা ডাক্তার দেবী শেঠীকে দিয়ে চিকিৎসা করাতে পারলে ৫০% বেঁচে থাকার সম্ভাবনা আছে। এমনি বলেছিলেন অনেক চিকিৎসক ও সচেতন মহল। একমাত্র সন্তানকে বাঁচাতে ভারতে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য দরকার ছিল ৮ লাখ টাকা।

অভাবের সংসারে গরিব বাবা-মায়ের সেই টাকার যোগানো সম্ভব ছিল না। একমাত্র মেয়েকে বাঁচাতে অনেক বিত্তশালী মানুষ ও সংগঠনের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে তুবার পরিবার। শিশু তুবাকে বাঁচাতে অনেক ব্যক্তি ও  সংগঠন এগিয়ে আসে। টাকা ম্যানেজ করে ভারতে চিকিৎসা শেষে দেশে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু সকল চেষ্টা ব্যর্থ করে গত রবিবার সন্ধ্যায় তার নানা বাড়িতে মৃত্যু বরণ করে তুবা।

আজ (১২ ফেব্রুয়ারি) সোমবার দুপুর ১টায়  তুবার বাবার বাড়িতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। মাত্র ১৫ মাস বয়সেই নিভে যায় ফুটফুটে তুবার জীবন প্রদীপ। তাই বলা যায়- দুঃখই ছিল তুবার জন্ম সহোদর, কবরই হলো তার আপন।

তামান্না ইসলাম তুবার বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের হরিপুর দ্বিতীয় গ্রামে। সে একই গ্রামের তরিকুল ইসলামের মেয়ে। একমাত্র শিশুকন্যার নিথর দেহ দেখে মা তানজিম ইসলাম বিথী আর স্বজনদের বুকফাটা কান্না কেউ থামাতে পারছে না। ১৬ মাস বয়সী তুবাকে হারিয়ে মা ও স্বজনদের আহাজারিতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

তুবার চিকিৎসায় এগিয়ে এসেছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জনতার ঈশ্বরগঞ্জ। সংগঠনের মডারেটর মাহবুব হোসেন রাজু বলেন, ছোট্ট তুবার মৃত্যুর খবরটি শুনে খুব কষ্ট পেয়েছি। 

জনতার ঈশ্বরগঞ্জ গ্রুপের উপদেষ্টা ও ঈশ্বরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ফেরদৌস কোরাইশী টিটু বলেন, শিশুটির বাড়ি আমার ইউনিয়নে। জনতার ঈশ্বরগঞ্জ গ্রুপের পক্ষ থেকে চিকিৎসার জন্য কিছু সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছিল। কিন্তু তুবার মৃত্যুর খবরটি শুনে হৃদয়টা কেঁপে ওঠে। বাবার কাঁধে সন্তানের লাশ বহন করতে হয়েছে- এর চেয়ে বড় কষ্ট আর কি হতে পারে? দোয়া করি নিষ্পাপ তুবাকে যেন আল্লাহ জান্নাত নসিব করেন, তার বাবা-মা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারকে যেন এই শোক সইবার তাওফিক দান করেন।