লিপু ভাইয়ের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া সামলানো চ্যালেঞ্জের হবে: হাবিবুল বাশার

বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান হাবিবুল বাশার। তার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ জিতেছিল প্রথম টেস্ট। ২০০৮ সালে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করা হাবিবুল ২০১১ সালে নির্বাচক হয়ে কাটিয়েছেন এক যুগেরও বেশি। নতুন নির্বাচক প্যানেলে আর নেই হাবিবুল। কাল দেশ রূপান্তর এর সঙ্গে আলাপে বলছিলেন, 'এখন আরাম করে খেলা দেখতে পারব।' নতুন প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপুকে শুভকামনা জানিয়ে হাবিবুল বলেছেন, 'অধিনায়ক থাকলে নির্বাচকের কাজটা সহজ হয়। আশা করছি লিপু ভাই খুব ভাল ভাবে তার কাজটা করতে পারবেন।'

এক যুগ একটা কঠিন দায়িত্ব পালনের পর এখন কি ভারমুক্ত- এমন প্রশ্নের জবাবে হাবিবুল জানালেন, 'আমি খুবই ভাগ্যবান যে খেলা ছাড়ার পরও লম্বা একটা সময় ক্রিকেটের সঙ্গে জড়িয়ে ছিলাম। ক্রিকেটের সঙ্গেই বড় হয়েছি তো, ক্রিকেটের কাজই করেছি। নির্বাচক হিসেবে আমার সময়টা অনেক উপভোগ করেছি। এখন হয়তো ব্যস্ততা একটু কমবে, যেমন এখন বিপিএল দেখছি…আগে দেখতাম একভাবে এখন দেখছি আরেক ভাবে। আগে নির্বাচকের চোখে দেখতাম, এখন দর্শকের চোখে দেখছি।'

গাজী আশরাফ হোসেন লিপু বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক ছিলেন, পরবর্তীতে জাতীয় দলের ম্যানেজার, ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক এবং বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যানও ছিলেন। নতুন ভূমিকায় তিনি কেমন করতে পারেন বলে মনে করেন হাবিবুল? 'উনি জাতীয় দলের অধিনায়ক ছিলেন। অধিনায়ক থাকলে আসলে সিদ্ধান্ত নেয়ার কাজগুলো অনেক সহজ হয়। উনি যেহেতু অনেক ভূমিকায় ছিলেন, উনি জানেন কি করতে হবে। এখনকার সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি বলব এই ব্যাপারটা হ্যান্ডেল করতে হবে' বলেন হাবিবুল। 

লিপু যখন খেলোয়াড় বা ক্রিকেট প্রশাসনে ছিলেন, তখন ভিন্ন ভিন্ন সংস্করণের আলাদা দল, ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের জন্য জাতীয় দলের খেলোয়াড় না পাওয়া এমন অনেক কিছুরই অস্তিত্ব ছিল না যা এখন নিরেট বাস্তব। এই ব্যাপারগুলো সামলানোর পথ বাতলে দেন হাবিবুল লিপুকে, 'ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা অনেক সাহায্য করে। ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা অনেক সাহায্য করে, অধিনায়ক থাকলে অনেক সুবিধা হয়।'

২০১১ থেকে ২০২৪, এই সময়টায় অনেক ক্রিকেটারই বাংলাদেশ দলের জার্সি গায়ে চড়িয়েছেন যাদের বাছাই করেছেন হাবিবুল। নিজের নির্বাচক জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে বললেন, কেউ খুব বেশি অবাক না করলেও বেশ কয়েকজন তাকে হতাশ করেছে, 'আমার নির্বাচক জীবনে এরকম আসলে হয় নাই যে যাদেরকে আমি মন থেকে নির্বাচিত করেছি তারা ব্যর্থ হয়েছে। আমার নিজের কাছে কমই ব্যর্থ হয়েছে। তবে কয়েকটা হতাশার জায়গা আছে। আমি বাছাই করেছি এমন অনেক ক্রিকেটার যাদের আমি মনে করেছি অনেকদূর যেতে পারত তারা নিজেদের কারণে যেতে পারেনি। সংখ্যাটা বেশি না। প্রত্যাশার চেয়ে বেশি করেছে এমন চমক কেউ দেখায়নি। যার কাছে যা প্রত্যাশা করেছি, বলা যায় আমার নিজের বাছাই ব্যর্থ কম হয়েছে।'