ভালোবাসার মানুষ নিয়ে পালিয়ে বিয়ে করেছিলেন মো. এনায়েত হোসাইন। এই বিয়ে মেনে নেয়নি শ্বশুরবাড়ির লোকজন। তবুও হাল ছাড়েননি এনায়েত। সুখের সংসার গড়েছেন স্ত্রীকে নিয়ে। একে একে কেটে গেছে পাঁচ বছর। ঘরে এসেছে সন্তান। ছেলে মো. সামি মাতুব্বরের বয়সও এখন চার বছর।
এতো দিন পর এনায়েতকে মেনে নেয় স্ত্রীর পরিবার। শ্বশুরবাড়ির লোকজন মেনে নেওয়ায় ফের বরযাত্রী নিয়ে শ্বশুরালয়ে যান এনায়েত। আর সেই বরযাত্রীদের মধ্যমণি ছিল ছেলে সামি মাতুব্বর।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি অভিনব এ ঘটনা ঘটেছে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া গ্রামে। সেই বরযাত্রীর ছবি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।
এনায়েত ফরিদপুরের সালথার আটঘর ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া গ্রামের মোতালেব মাতুব্বরের ছেলে। আর তার সহধর্মিণীর বাড়িও একই গ্রামে। এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন আটঘর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. শহিদুল হাসান খান সোহাগ।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ২০১৮ সালে ভালোবেসে পালিয়ে বিয়ে করেছিলেন এনায়েত হোসাইন। বিয়ের পরে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন এ বিয়ে মেনে নেয়নি। এভাবে কেটে যায় পাঁচটি বছর। মামলাও হয় ছেলেসহ পরিবারের বিরুদ্ধে। ছেলে জেলও খাটেন। অবশেষে বিষয়টি সমাধান হয়। পরে ওই বিয়ে মেনে নেয় মেয়ের পরিবার। গত বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বরযাত্রী দাওয়াত করে মেয়েকে স্বামীর হাতে তুলে দেন। এ বরযাত্রীতে ছিল ছেলে পক্ষের ১৬৩ জন।
বর মো. এনায়েত হোসাইন বলেন, আসলে অনেক কষ্টের পরে আমাদের বিয়ে মেনে নেয় শ্বশুরবাড়ির লোকজন। অনেক কষ্ট ও সাধনায় আমাদের ভালোবাসাকে স্বীকৃতি দেওয়ায় অনেক আনন্দিত।
পালিয়ে বিয়ের পাঁচ বছর পর শ্বশুরবাড়ির লোকজন মেনে নেওয়ায় ফের বরযাত্রী নিয়ে শ্বশুরালয়ে গেলেন যুবক। আর সেই বরযাত্রীদের মধ্যমণি হয়ে ছিল তারই ৪ বছরের ছেলে মো. সামি মাতুব্বর।