বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর একুশে পদকে ভূষিত হয়েছেন দেশের ২১ জন বিশিষ্ট নাগরিক। তাদের মধ্যে মরণোত্তর এ সম্মাননা পাচ্ছেন ছয়জন। এদিকে মৃত্যুর ৩৩ বছর পর একুশে পদকে ভূষিত হলেন প্রয়াত কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ।
আজ মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আইরীন ফারজানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে পদকপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করা হয়।
কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর জন্ম বরিশালে৷ তিনি বরিশাল আমানত গঞ্জ রেডক্রস হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করেন৷ তার মূল বাড়ি বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলার সাহেবের মাঠ গ্রামে৷ তার বাবার নাম ডা. শেখ ওয়ালিউল্লাহ ও মায়ের নাম শিরিয়া বেগম৷ উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম৷ ছোটবেলা থেকেই সাহিত্যের প্রতি আলাদা একটা টান ছিল তার৷
ঢাকা ওয়েস্ট আন্ড হাইস্কুল থেকে ১৯৭৪ সালে এসএসসি পাস করেন তিনি৷ ছাত্র হিসেবে তিনি মেধাবী ছিলেন৷ চার বিষয়ে লেটার মার্কস পেয়েছিলেন এবং প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন৷ ঢাকা কলেজ থেকে ১৯৭৬ সালে এইচএসসি পাস করেন৷ পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন৷ ১৯৮০ সালে সম্মানসহ বিএ এবং ১৯৮৩ সালে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন৷
তিনি ছিলেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও জাতীয় কবিতা পরিষদ গঠনের অন্যতম উদ্যোক্তা এবং জাতীয় কবিতা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম সম্পাদক৷ ১৯৭৫ সালের পরের সবকটি সরকারবিরোধী ও স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন৷ প্রতিবাদী কবি হিসেবে খ্যাত৷ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, দেশাত্মবোধ, গণআন্দোলন, ধর্মনিরপেক্ষতা, ও অসাম্প্রদায়িকতা তার কবিতায় বলিষ্ঠভাবে উপস্থিত৷ তারুণ্য ও সংগ্রামের দীপ্ত প্রতীক কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ ৩৪ বছরের স্বল্পায়ু জীবনে সাতটি কাব্যগ্রন্থ ছাড়াও গল্প, কাব্যনাট্য এবং ভালো আছি ভালো থেকোসহ অর্ধশতাধিক গান রচনা ও সুরারোপ করেছেন৷
১৯৯১ সালের ২১ জুন ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাড়িতে তিনি মারা যান৷ বাগেরহাট জেলার মোংলা থানার মিঠাখালি মামার বাড়িতে কবি চিরনিদ্রায় শায়িত৷
এ বছর ভাষা আন্দোলনে অবদান রাখায় মৌ. আশরাফুদ্দীন আহমদ (মরণোত্তর) ও বীর মুক্তিযোদ্ধা হাতেম আলী মিয়াকে (মরণোত্তর) একুশে পদক দেওয়া হচ্ছে। শিল্পকলায় সংগীত ক্যাটাগরিতে একুশে পদক পাচ্ছেন জালাল উদ্দীন খাঁ (মরণোত্তর), বীর মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণী ঘোষ, বিদিত লাল দাস (মরণোত্তর), এন্ড্রু কিশোর (মরণোত্তর) ও শুভ্র দেব।
নৃত্যকলায় একুশে পদক পাচ্ছেন শিবলী মোহাম্মদ, অভিনয়ে ডলি জহুর, এম এ আলমগীর, আবৃত্তিতে খান মো. মুস্তাফা ওয়ালীদ (শিমুল মুস্তাফা) ও রূপা চক্রবর্তী। চিত্রকলায় শাহজাহান আহমেদ বিকাশ এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রামান্যচিত্র নির্মাণ ও আর্কাইভিংয়ে একুশে পদক পাচ্ছেন কাওসার চৌধুরী।
সমাজসেবায় মো. জিয়াউল হক ও রফিক আহামদ, ভাষা ও সাহিত্যে মুহাম্মদ সামাদ, লুৎফর রহমান রিটন ও মিনার মনসুর, রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ (মরণোত্তর) এবং শিক্ষায় একুশে পদক পাচ্ছেন অধ্যাপক ড. জিনবোধি ভিক্ষু।