হানিফ ফ্লাইওভারে যাত্রী ওঠানামা বন্ধ হবে কবে? 

রাজধানীর সবচেয়ে ব্যস্ততম মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারে মাঝ পথে যাত্রী ওঠানামা করায় দিনের পর দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে ফ্লাইওভারটি। ফ্লাইওভারের যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামার ফলে অন্য গাড়িও দুর্ঘটনার স্বীকার হচ্ছে। এই ফ্লাইওভার দিয়ে পথচারিদের হাঁটা চলা নিষেধ থাকলেও কেউ মানছে না নিয়ম।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ফ্লাইওভারটি উদ্বোধন করা হয় ২০১৩ সালের অক্টোবরে। চার লেনবিশিষ্ট এই ফ্লাইওভার বকশীবাজার মোড় থেকে শনিরআখড়া পর্যন্ত বিস্তৃত। গুলিস্থান থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত ১১ দশমিক ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভার’। সরকারি-বেসরকারী অংশীদারির (পিপিপি) ভিত্তিতে এই ফ্লাইওভার নির্মাণে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ওরিয়ন ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর এই ফ্লাইওভার দিয়ে গণপরিবহন চলাচলা কয়েক গুন বেড়েছে। তবে ফ্লাইওভার কর্তৃপক্ষের নজরদারি অভাবে ব্রীজ দিয়ে পথচারিদের চলাচল করতে দেখা যায়। হুটহাট বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠা-নামা করায় দিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। প্রতিনিয়ত এই সড়কে দুর্ঘটনা ঘটতে থাকে। মূলত মাঝ পথে কোনো নজরদারি না থাকায় বাসগুলো ইচ্ছেমতো যাত্রী ওঠানামা করে। 

সরেজমিনে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারে গেলে দেখা যায়, যাত্রাবাড়ী থেকে থেকে গুলিস্তান রুটে চলা বিভিন্ন কোম্পানির গাড়ি পুরো ফ্লাইওভারে ৪ থেকে ৫ জায়গায় গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করে। এসব যাত্রী এই ফ্লাইওভারে নেমে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার হয়। দ্রুত গতিতে চলা গাড়ি গুলো এসব পথচারিদের জন্য বিড়ম্বনায় পড়তে দেখা যায়। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের বেশি সমস্যায় পড়তে দেখা যায়।

হানিফ ফ্লাইওভারে পথচারি। ছবি: দেশ রূপান্তর

বরিশাল থেকে এনা পরিবহনে এসে হানিফ ফ্লাইওভারের মাঝ পথে নেমেছে মো. আসাদুজ্জামান নামের এক যাত্রী। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, বরিশাল থেকে যে বাসে আসলাম, সেটি সায়দাবাদ বাস স্টেশন চলে যাবে। আর আমার যেতে হবে ঢাকা মেডিকেলে। তাই ফ্লাইওভারের মাঝ পথে বাধ্য হয়ে নামলাম। যেন দ্রুত আরেকটি বাস দিয়ে যাওয়া যায়। তবে ফ্লাইওভারের মাঝ পথ দিয়ে নামা ঝুঁকিপূর্ণ বলে স্বীকার করেন ওই যাত্রী। 

ফ্লাইওভার দিয়ে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করা যাত্রাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা মো. নাইম বলেন, মোটরসাইকেল চালানোর সময় হঠাৎ মাঝ পথে হার্ড ব্রেক করতে হয় পথচারিদের জন্য। গত সপ্তাহে ফ্লাইওভারের ওয়ারী এলাকার অংশে এক পথচারীর জন্য মারাত্নক দূর্ঘটনা থেকে অল্পের জন্য সেদিন রক্ষা পেয়েছিলাম। আর মাঝেমধ্যেই এই সড়কে বড় রকমের দূর্ঘটনা লেগে থাকে। কিন্তু ফ্লাইওভারের যাত্রী ওঠানামা আর বন্ধ হয় না।

এই রোড দিয়ে চলাচল করা মাঝ পথে যাত্রী নেওয়া কোমল পরিবহন নামের একটি বাসের হেলপার কামাল মিয়া বলেন, মানুষজন দাঁড়িয়ে থাকে, তাই যাত্রী নেই। আর কিছু কিছু যাত্রী আছে তারা জোর করে নামতে চায়। যাত্রী যদি না নামতে চায় তাহলে তো আর আমাদের আর কিছু করার থাকে না। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফ্লাইওভারের নিরপত্তার কাজে নিয়োজিত একজন দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা সাইন বোর্ডে লিখে দিয়েছি এই ফ্লাইওভারে পথাচারিদের হাটাচলা  নিষেধ। তবুও অনেকেই হাটে। আবার গাড়িও মাঝ পথে যাত্রী ওঠানামা করে। এখন মানুষ যদি সচেতন না হয় তাহলে তো সব সময় আমাদের পক্ষে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না। তারপরও আমরা চেষ্টা করি গাড়িগুলো যেন না থামে মাঝ পথে।