পিডিবির কাছে পাওনা ১৮০০ কোটি টাকা

বেসরকারি খাতের ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এস এস পাওয়ার প্ল্যান্ট বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর পর এখনো কোনো টাকা পায়নি। গেল ডিসেম্বর পর্যন্ত সাড়ে তিন মাসে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কাছে তাদের পাওনা ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎকেন্দ্রের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর গ-ামারায় প্রায় ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে এস. আলম গ্রুপের অংশীদারত্বের পরিমাণ ৭০ শতাংশ এবং বাকি ৩০ শতাংশের মালিকানায় রয়েছে চীনা কোম্পানি সেপকো থ্রি ও এইচটিজি।

গত রবিবার সরেজমিন বাঁশখালী বিদ্যুৎকেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, ৬০৬ একর জমির ওপর ৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট নির্মিত হয়েছে সেখানে। দুটি ইউনিটেরই উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও কেন্দ্রটি থেকে ৪৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেওয়া হচ্ছে। সঞ্চালন লাইনের সীমাবদ্ধতার জন্য পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানো যাচ্ছে না। অবশ্য শীতকাল হওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকার ফলে কেন্দ্রটির একটি ইউনিট চালানোর প্রয়োজন পড়ছে। তবে গ্রীষ্মে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়বে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিচালক এসএম আলমগীর কবীর বলেন, ‘আগামী এপ্রিলের মধ্যে পিজিসিবি (পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ) সাবস্টেশনের কাজ শেষ হবে বলে আশা করছি। তাছাড়া তখন গরমের কারণে দেশে বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়ে যাবে। ফলে তখন চাহিদা অনুযায়ী দুটি কেন্দ্র থেকেই উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেওয়া সম্ভব হবে।’

বিদ্যুৎকেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, কয়লা ঢেকে দেওয়া বেল্টে জেটি থেকে কোল ইয়ার্ডে নেওয়া হচ্ছে। তবে কোল ইয়ার্ডের দুই-তৃতীয়াংশ উন্মুক্ত রয়েছে। এ বিষয়ে আলমগীর কবীর জানান, ইয়ার্ডের দুই পাশে ফেন্স (বেড়া) দিয়ে ঘিরে রাখা আছে। আর কয়লা খোলা থাকলে অগ্নিকা-ের ঝুঁকি কমে।

গত বছর ১৪ জানুয়ারি বিদ্যুৎকেন্দ্রটিকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হয়। ওই বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর প্রথম ইউনিট এবং ২৬ অক্টোবর দ্বিতীয় ইউনিট বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে। কিন্তু বিদ্যুৎ বিক্রি বাবদ এখন পর্যন্ত কোনো বিল তারা পায়নি।

গত ডিসেম্বর পর্যন্ত পিডিবির কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি বাবদ ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকার বিল জমা দিয়েছে এস এস পাওয়ার প্ল্যান্ট কর্তৃপক্ষ। জানুয়ারি মাসের বিল হিসাব করলে আরও ৫০০ থেকে ৫৫০ কোটি টাকা যোগ হবে। তবে পূর্ণ সক্ষমতায় কেন্দ্রটি চালালে প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিল হবে ৭০০ থেকে ৮০০ কোটি টাকা। ডলার সংকটের কারণে পিডিবি বকেয়া বিল শোধ করতে পারছে না বলে সূত্র জানিয়েছে।

এস এস পাওয়ারের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা এবাদত হোসেন ভূঁইয়া জানান, বর্তমানে কেন্দ্রটির প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ প্রায় ১২ টাকা পড়ছে। কয়লা আনা হচ্ছে ইন্দোনেশিয়া থেকে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি প্রতিদিন পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে প্রায় ১২ হাজার টন কয়লা লাগে। জেটিতে ৬ হাজার টন ধারণক্ষমতার জাহাজ ভিড়তে পারে।

বেসরকারি খাতের সবচেয়ে বড় এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি তুলনামূলক কম দামে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও ভূমিকা রাখছে কেন্দ্রটি। বর্তমানে কেন্দ্রটি পরিচালনায় ৫২৭ জন কর্মী রয়েছেন, যাদের ৪৭৪ জনই বাংলাদেশি। অন্যরা চীনা নাগরিক।

কর্মকর্তাদের দাবি, বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ শুরুর আগে প্রকল্প এলাকায় বেকারত্বের হার ছিল ৫০ শতাংশ। এখন বেকারত্বের হার ২০ শতাংশে নেমে এসেছে।