জলমহালে আ.লীগ জামায়াত জোট!

নেত্রকোনার খালিয়াজুরীর ধলিমাটি জলমহাল দখল করে অবৈধভাবে মাছ ধরার অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী দুটি পক্ষের বিরুদ্ধে। মামলা জটিলতায় ইজারা স্থগিত থাকায় এই দুটি পক্ষই সুযোগ নিয়েছে। এক পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপজেলা আওয়মী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুয়েল চৌধুরী। অন্যপক্ষে আছেন জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক জসিম মিয়া।

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, ইজারা ছাড়া মাছ ধরা চললেও উপজেলা প্রশাসন এ ক্ষেত্রে নীরব ভূমিকা পালন করছে। তাদের দাবি, প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করেই বল্লী গ্রামের প্রভাবশালী জুয়েল ও জসিম পক্ষ জলমহালটি দখলে রেখে কোটি টাকার মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে।

জেলা প্রশাসক কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছর জেলা প্রশাসন খালিয়াজুরীর ধলিমাটি জলমহালের ইজারার বিজ্ঞপ্তি দেয়। তখন উপজেলার চাকুয়া ইউনিয়নের বল্লী গ্রামের দুটি সমবায় সমিতি দরপত্র কেনে। দুই সমিতির একটি ঝিলিক মৎস্যজীবী সমিতির নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুয়েল চৌধুরী। অন্যটি জসিম মিয়ার গ্রুপ মদিনা মৎস্যজীবী সমিতির নামে দরপত্র কিনে। ঝিলিক মৎস্যজীবী সমিতি ভ্যাটসহ ৮৪ লাখ টাকা ও মদিনা মৎস্যজীবী সমিতি ভ্যাটসহ ৬৬ লাখ টাকা দর দিয়ে দরপত্র জমা দেয়। কিন্তু ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে ইজারার চিঠি আসে মদিনা মৎস্যজীবী সমিতির নামে। এতে সংক্ষুব্ধ হয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ১২ জনকে বিবাদী করে হাইকোর্টে একটি রিট করে ঝিলিক মৎস্যজীবী সমিতি। এতে করে ইজারা প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায়। কিন্তু এখন দুই সমিতির লোকজন জলমহাল থেকে মাছ ধরে নিচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার জলমহাল এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রশাসনকে জানানোর পরেও তারা কোনো দিন জলমহালে আসেনি। মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু সরকার রাজস্ব পাচ্ছে না। সাধারণ মানুষও জলমহালে নামতে পারে না।

এ ব্যাপারে জসিম মিয়া বলেন, ‘জলমহাল আমরা ইজারা পেয়েছিলাম। ঝিলিক মৎস্যজীবী সমিতির লোকজন হাইকোর্টে মামলা করে আটকে দিয়েছে।’ ঝিলিক সমিতির লোকজনের সঙ্গে মিলে অবৈধভাবে ধলিমাটি জলমহালে মাছ ধরার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

মাছ ধরার কথা অস্বীকার করলেও জলমহালটি তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়টি স্বীকার করে ঝিলিক সমিতির জুয়েল চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জসিম ডিসি অফিসে কারসাজি করে আমার সমিতির ফাইল ভূমি মন্ত্রণালয় ফরওয়ার্ডিং আটকে রেখে জলমহাল ইজারা নেন। আমাদের রিট আবেদন এখন বিচারাধীন আছে।’

জসিমকে সঙ্গে নিয়ে মাছ ধরার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগ করি, আর জসিম জামায়াত করে। তার সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই।’

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জলমহালে অবৈধভাবে মাছ ধরার বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও জেলা প্রশাসককে (ডিসি) জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি।’

খালিয়াজুরীর ইউএনও মো. সেলিম মিয়া ‘আমি নতুন যোগদান করেছি’ বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।