ঢাকার বিরিয়ানি খেয়ে দুই কেজি ওজন বেড়ে গেছে

দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশে এসেছেন কৌশানি মুখার্জি। সম্প্রতি ঢাকায় আসেন এবং অংশ নেন মোস্তাফিজুর রহমান মানিক পরিচালিত ‘ডার্ক ওয়ার্ল্ড’ সিনেমায়। সিনেমাটি প্রথমে মাহিয়া মাহির করার কথা থাকলেও একদিন শুটিং করার পর সরে দাঁড়ান তিনি। এরপর তার পরিবর্তে সিনেমাটির হাল ধরেন কলকাতার এ অভিনেত্রী।

এই সিনেমায় কাজ করা প্রসঙ্গে দেশ রূপান্তরকে অভিনেত্রী বলেন, এক কিংবা দেড় বছর পর বাংলাদেশে এসেছি। এখানে প্রথম সিনেমাটি করার পর অনেকের কাছ থেকেই প্রস্তাব পেয়েছি। আমার কাছে মনে হয়েছে ‘ডার্ক ওয়ার্ল্ড’-এর গল্পটা ভালো। আমরা বলি না অনেক সময় যে সেই গল্প অর্থাৎ জোশ গল্প। এটাও ঠিক তাই। যে দুনিয়াটা পেছনে থাকে, কেউ দেখতে পায় না সেই দুনিয়া নিয়ে এটার গল্প। এটার একটা গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র আমি করছি। নিজের চরিত্র সম্পর্কে কিছুটা ধারণা দিয়ে কৌশানি বলেন, এখানে আমার চরিত্রটা বেশ ইন্টারেস্টিং এবং চ্যালেঞ্জিং। চরিত্রটির দুটো শেড রয়েছে যেখানে একটাতে আমাকে দেখা যাবে একটু গুণ্ডারূপী অর্থাৎ বস লেডি টাইপের আর অন্যদিকে একদমই শান্তশিষ্ট, চুপচাপ স্বভাবের যাকে কিনা কেউ ডমিনেট করলেও চুপ থাকে। একদমই ভার্সেটাইল একটা চরিত্র। মোট কথা এখানে অভিনয়ের সুযোগ রয়েছে, দর্শকদের সামনে নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপন করার সুযোগ পেয়েছি।

এই সিনেমায় কাজ করার পেছনে যুক্তি হিসেবে তিনি বলেন, প্রথম প্রায়োরিটি অবশ্যই গল্প। তারপর চরিত্রটিতে আমি প্রপ কি না সেটা আমার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের ওখানে সব সুপারস্টারদের সঙ্গে কাজ করেছি। নিশ্চিত করেছি যে সেখানে আমি নায়িকা হিসেবে জাস্ট গানের জন্য রয়েছি যেটা কি না আমার কোনো ক্যালিবার প্রমাণ করবে না, সে রকম ছবিতে আমার অংশ না নেওয়াটাই প্রেফার করি। সব শিল্পীর প্রতি সম্মান রেখে বলছি, নতুনদের অবশ্যই সুযোগ দেওয়া উচিত। এই সিনেমায় আমার বিপরীতে যিনি রয়েছেন মুন্না, এটাই তার অভিষেক। তার মধ্যে যদি চেষ্টা থাকে তাহলে সে তার জায়গা করে নিতে পারবে। যদি থাকে তাহলে হয়তো দুটো সিনেমা করার পর তাকে আর আমরা দেখব না। 

পরিচালকের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে কৌশানি বলেন, এত ভালো মানুষ আমি দেখিনি আগে। একজন পরিচালকের সঙ্গে শিল্পীর তালমিল হওয়াটা খুব জরুরি। নয়তো একটা সিনেমা হবেই না। একজন শিল্পীকে তার মতো করে কাজ করতে দেওয়া, প্রাধান্য দেওয়া এরপর যদি না হয় তাহলে পরিচালক তার মতো করে বলতে পারে। যেই সুযোগটা অনেকে দেয় না কিন্তু তিনি দিয়েছেন। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তিনি আমাকে আমার মতো করেই কাজ করতে দিয়েছেন। একটা বারও বলেননি যে সমস্যা আছে। তার একটাই কথা সমস্যা নেই। এরকম পরিচালক আসলে পাওয়া যায় না। আমার টিমের সবাই তো বলছিল, আমাদের প্রোডাকশনে কাজ করলে মানিক ভাইকে নিয়ে চলো।

ঢাকার খাবারে রীতিমতো মুগ্ধ কৌশানি। বললেন, ‘আমি এসেই এখানের বিরিয়ানি খেয়েছি। ঢাকার বিরিয়ানির নাম আমরা সবসময়ই কলকাতায় শুনি, সেটার প্রতি আগ্রহ তো থাকবে। তাই সবার আগে বিরিয়ানি খেয়েছি। এছাড়াও ঢাকার রসগোল্লা খেয়েছি। ভীষণ সুস্বাদু। এখানে এসে এত খাবার খাচ্ছি, এত আপ্যায়ন করানো হচ্ছে যে মেপে দেখেছি আমার দুই কেজি ওজন বেড়ে গেছে।’