রংপুরের তারাগঞ্জে নির্মাণাধীন একটি সেতুর কাজ শেষ না করেই লোকবল নিয়ে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। সেতুটি নির্মাণের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেছে গত বছরের আগস্টে। লোকসানের অজুহাতে ঠিকাদার কাজ বন্ধ রাখায় চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে রংপুরের তারাগঞ্জ ও সদর উপজেলার ২৫ গ্রামের মানুষ।
উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তারাগঞ্জের হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের নেকিরহাট ও সদর উপজেলার মমিনপুর ইউনিয়নের খারুবাদ গ্রামের মধ্যবর্তী খারুভাজ নদের ওপর ১৯৯৬ সালে নেকিরহাট সেতু নির্মাণ করা হয়। কিন্তু ২০১৯ সালে পানির স্রোতে সেতুটির পশ্চিম অংশ ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। এরপর ২০২২ সালে একই স্থানে ৫১ মিটার দৈর্ঘ্য ও সাড়ে ৫ মিটার প্রস্থের সেতু নির্মাণে ৪ কোটি ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। সেতু নির্মাণের কাজ পায় চট্টগ্রামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স। সিডিউল অনুযায়ী ২০২৩ সালের ৩১ আগস্ট কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু যথাসময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় পরে সময় বাড়িয়ে চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু সময় বাড়িয়েও কাজের অগ্রগতি আসেনি।
স্থানীয়রা জানান, সেতু নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রংপুর সদর ও তারাগঞ্জ উপজেলার ২৫টি গ্রামের মানুষ। যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় কৃষকরা উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করতে পারছেন না। ১০ কিলোমিটার পথ ঘুরে শহরে যেতে হচ্ছে তাদের।
তারাগঞ্জের হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের তৌহিদুর রহমান বলেন, ‘ঠিকাদার অর্ধেক কাজ করে লোকবল নিয়ে চলে গেছেন। এখন কবে সেতু নির্মাণ শেষ হবে, কেউ বলতে পারছে না।’
ঠিকাদার ইউনুস আলী মোবাইল ফোনে বলেন, ‘কমদামে সেতুটির কাজ নেওয়া ছিল। বর্তমানে রডসহ অন্যান্য উপকরণের দাম বাড়ায় সেতুটির কাজ করলে প্রায় ২০ লাখ টাকা লোকসান হচ্ছে। এ কারণে কাজ বন্ধ আছে।’
উপজেলা প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার বলেন, ‘ঠিকাদারকে কাজ শেষ করার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। সেতুর প্রায় ৬০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে।’