বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সরকারি খাস পুকুরে জাল টানা দিয়ে প্রায় অর্ধকোটি টাকার পোনা মাছ জব্দ করেছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফিরোজ হোসেন। পুকুর থেকে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে জনগণের তোপের মুখে পড়তে হয় এই কর্মকতাকে।
আজ শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে আদমদীঘি সদরের ডহরপুর গ্রামের ৯৪ শতকের বেলগাড়ী নামক পুকুর থেকে এ মাছগুলো জব্দ করার সময় স্থানীয়রা এসিলান্ডের ওপর চড়াও হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা উপজেলার গো-হাটি ব্রিজের পাশে নওগাঁ-বগুড়া মহাসড়ক অবরোধ করে। এসময় মহাসড়কের দুই পাশের যানবাহন চলাচল প্রায় ২০ মিনিট বন্ধ থাকে।
জানা যায়, উপজেলা জলমহাল কমিটি ডালম্বা পুর্বপাড়া বেকার যুব সমবায় সমিতি লিমিটেড কর্তৃপক্ষকে বেলগাড়ী পুকুরটি অনুমোদন দিয়ে লিজ প্রদান করে। লিজ-মতে ২ বছর ১০ মাস ধরে ওই পুকুরে সমিতি কর্তৃপক্ষ মাছ চাষ করেও আসছে।
আদমদীঘি ডালম্বা পূর্বপাড়া বেকার যুব সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, লিজের চার হাজার পাঁচশ টাকা বকেয়ার অজুহাত দেখিয়ে সমিতি কর্তৃপক্ষকে কোনো প্রকার নোটিশ না করে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেট ফিরোজ হোসেন ফোর্সসহ আমাদের সমিতির নামে লিজ নেওয়া ডহরপুর বেলগাড়ী সরকারি খাস পুকুরে জাল টানা দিয়ে প্রায় অর্ধকোটি টাকার পোনা মাছ জব্দ করেন। বাংলা ১৪২৮ হতে ১৪৩০ সাল পর্যন্ত খাস পুকুরটি বৈধভাবে লিজ নেওয়া রয়েছে বলেও জানান তিনি।
আদমদীঘি সদর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা রায়হানা জান্নাত বলেন, গত তিন বছরের এই পুকুরটির লিজের কোনো কাগজ আমরা পাই নাই। সমিতির লোকেরা বলছে, তারা ডিসিআর কেটেছে কিন্তু আমাদের এখনো ডিসিআর বের হয় নাই। যার কারণে গত তিন বছর যাবৎ এই পুকুরটি কেউ লিজ নেয়নি।
অভিযানের সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফিরোজ হোসেন বলেন, পুকুরটি কারো নামেই লিজ হয় নাই। সরকারি এই পুকুরটি বিনা লিজে দীর্ঘদিন যাবৎ পড়ে ছিল। যার কারণে পুকুরের মাছ ধরে তা বিক্রি করে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।
তবে পরবর্তীতে তাকে একাধিক বার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় পরবর্তীতে তার কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয় নাই।
অভিযানের সময় উপজেলা সহকারী কমিশনারের ওপর জনগণ চড়াও হয়েছিল ও মহাসড়ক অবরোধের বিষয়ে
আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ ফোনে বলেন, উপজেলা সহকারী কমিশনারের ওপর চড়াও হওয়ার বিষয়টি জেনেছি।