যশোরের অভয়নগরের নাজমুল সরদারের সব স্বপ্ন দুই ছেলে-মেয়েকে নিয়ে। সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ভ্যান চালিয়ে দিনে গড়ে ৭০০ টাকা পান। এ টাকা দিয়ে কোনোমতে সংসার চলে। সম্পত্তি বলতে কেবল চার শতক বসতভিটা। অনেক কষ্ট করে কোনোভাবে ছেলে-মেয়ে দুটোর লেখাপড়া করিয়েছেন। তার স্বপ্নপূরণ করেছে ছেলে রাজু সরদার। এবার নেত্রকোনা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন তিনি।
ছোট থেকে মেধাবী রাজু অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তি পান। ২০২১ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অভয়নগর উপজেলার মাগুরা শান্তিলতা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে পেয়েছেন জিপিএ-৫। ২০২৩ সালে যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে জিপিএ-৪ দশমিক ৯২ পেয়ে এইচএসসি পাস করেন তিনি।
রাজুর এই সাফল্যে পরিবারের সবার চোখেমুখে আনন্দ। কিন্তু এর আড়ালে দেখা দিয়েছে দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তা। মেডিকেলে ভর্তির টাকা জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছে তার পরিবার। অর্থের অভাবে মেধাবী এই তরুণের স্বপ্নপূরণে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
রাজু সরদারের বাড়ি যশোরের অভয়নগর উপজেলার প্রেমবাগ ইউনিয়নের মাগুরা গ্রামে। বাবা নাজমুল সরদার (৪৩) ভ্যানচালক। তিনি এলাকার বিভিন্ন সড়কে যাত্রী ও মালামাল পরিবহন করেন। মা কাকলি খাতুন (৩৮) গৃহিণী। দুই ভাই-বোনের মধ্যে রাজু ছোট। বড় বোন নাজমা খাতুন (২৩) খুলনার বয়রা সরকারি মহিলা কলেজে ইংরেজি বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত।
রাজু সরদার বলেন, ‘মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছি। চিকিৎসক হয়ে মা-বাবার দুঃখ ঘোচাতে চাই। বিনা মূল্যে গরিব মানুষের চিকিৎসাসেবা দিতে চাই। কিন্তু টাকার অভাবে আমার সেই স্বপ্নপূরণ হবে কি না, জানি না।’
আগামীকাল (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে মেডিকেলে ভর্তি শুরু রাজুর। তার বাবা নাজমুল বলেন, ‘রাজুর মেডিকেলে ভর্তি হতে কমপক্ষে ২৩ হাজার টাকার দরকার, যা সংগ্রহ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। ভর্তির পর বই কিনতে অনেক টাকা লাগবে। এরপর পাঁচ বছর মেডিকেলে লেখাপড়ার অনেক খরচ। অত টাকা আমি কোথায় পাব?’
যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজের রসায়ন বিভাগের প্রভাষক মহিউদ্দিন আহমেদ রাজুকে ব্যক্তিভাবে চেনেন। তিনি বলেন, ‘ছেলেটা অত্যন্ত মেধাবী, পরিশ্রমী কিন্তু গরিব। আমি ওকে টাকাপয়সা ছাড়াই প্রাইভেট পড়িয়েছি। আর্থিক সহায়তা পেলে ও অনেক ভালো করবে।’
প্রেমবাগ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মফিজ উদ্দীন বলেন, ‘নাজমুলের একার পক্ষে ভ্যান চালানোর মজুরি দিয়ে ছেলেটাকে মেডিকেল কলেজে পড়ানো সম্ভব না। আর্থিক সহায়তা পেলে ছেলেটা মেডিকেলে পড়তে পারবে।’