ইউএনওর হস্তক্ষেপে টেঁটাযুদ্ধের মীমাংসা

আর সংঘর্ষে জড়াবেন না ৭ গ্রামের মানুষ

নেত্রকোনার মদনে আধিপত্য বিস্তার ও তুচ্ছ ঘটনার জেরে উপজেলার নায়েকপুর ইউনিয়নের সাত গ্রামে টেঁটাযুদ্ধের বিরোধ উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মীমাংসা হয়েছে। গত শুক্রবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সম্মেলন কক্ষে জনপ্রতিনিধি, আওয়ামী লীগের নেতাসহ গণ্যমান্যদের উপস্থিতিতে এক আলোচনা সভায় এই বিরোধ মীমাংসা করা হয়। এতে সাত গ্রামের মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

জানা যায়, মদন উপজেলার নায়েকপুর ইউনিয়নের সাত গ্রামের লোক দুভাগে বিভক্ত হয়ে আধিপত্য বিস্তারসহ নানা তুচ্ছ ঘটনায় টেঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ত। একপক্ষে নোয়াগাঁও, পাছআলমশ্রী, বাউশা ও তালুককানাই গ্রাম। অন্যপক্ষে আলমশ্রী, দেওয়ানপাড়া ও মাখনা গ্রামের একাংশ। দীর্ঘদিন ধরে তাদের এই বিরোধ চলে আসছিল। সর্বশেষ গত বছরের সেপ্টেম্বরে উভয় পক্ষ মাইকে ঘোষণা দিয়ে দেশীয় অস্ত্র ও টেঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। এতে অর্ধশত লোক আহত হয়। দুপক্ষের মধ্যে একাধিক মামলাও চলমান। এ নিয়ে এলাকায় উভয় পক্ষের মধ্যে সব সময় উত্তেজনা বিরাজ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিন-চার মাস আগে সাত গ্রামে পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে। পরে পুলিশ বাদী হয়ে উভয় পক্ষের ৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে। বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা দুপক্ষ নিয়ে কয়েক দফা আলোচনা করেও সফল হয়নি। অবশেষে গত শুক্রবার বিকেলে ইউএনও শাহ আলম মিয়ার সভাপতিত্বে তার সম্মেলন কক্ষে এক সভায় বিরোধের নিষ্পত্তি হয়।

সভায় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান, পৌর মেয়র সাইফুল ইসলাম সাইফ, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মুফতি আনোয়ার হোসেন, মদন থানার ওসি উজ্জ্বল কান্তি সরকার, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কদ্দুছ, সাধারণ সম্পাদক আবদুল হান্নান তালুকদার শামীমসহ দুপক্ষের শতাধিক লোকজন উপস্থিত ছিল।

মদন থানার ওসি উজ্জ্বল কান্তি সরকার বলেন, ‘নায়েকপুর ইউনিয়নের সাত গ্রামের টেঁটাযুদ্ধ নিয়ে উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, আওয়ামী লীগ নেতা ও এলাকার গণ্যমান্য লোকজন আলোচনা করে বিষয়টি নিষ্পত্তি করেছেন।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি মো. শাহ আলম মিয়া বলেন, ‘নায়েকপুর ইউনিয়নের সাত গ্রামের লোকজনের মধ্যে বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছে।’