রাজধানীর পোস্তগোলা সেতুর (বুড়িগঙ্গা-১) সংস্কার ঘিরে বাড়তি যানজটের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিষয়টি মাথায় রেখে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগসহ সাতটি সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা একটি বৈঠক করেছেন। বৈঠকে ঢাকাসহ ২১টি জেলার যান চলাচলে বাড়তি যানজট মোকাবিলায় ও বিকল্প সড়ক নির্ধারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংস্কার কাজ চলার সময় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করা হবে।
রবিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ডিএমপির সদর দপ্তরে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের উদ্যোগে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে পোস্তগোলা সেতুর (বুড়িগঙ্গা—১) সংস্কার শুরু হবে। যা চলবে আগামী ৮ মার্চ পর্যন্ত।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. মুনিবুর রহমান বলেন, সেতুর সংস্কার কাজ চলার সময় ঢাকা মহানগরীর বাইরে থেকে ভারী যানবাহনগুলো কোন পথে আসবে সম্ভব্য কোন রুট দিয়ে আসতে পারে, যেতে পারে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আমরা বৈঠক করেছি। এ বিষয়ে একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়েছে। এ বিষয়ে ডিএমপি কীভাবে কাজ করতে পারে, ডিএমপিকে অন্যান্য অংশীদারীরা কীভাবে সহযোগিতা করতে পারে তা আলোচনা করা হয়েছে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে সম্ভাব্য রুটগুলোকে দুই ধরণের ক্যাটাগরিতে করা হয়েছে। একটি ক্যাটাগরির হচ্ছে ভারী যানবাহন আরেকটি হালকা যানবাহন। এছাড়া বিকল্প যেসব রুট আছে সেগুলো নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বিজ্ঞপ্তিতে যে রুটগুলো বলা হয়েছে সেগুতে কোনো ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হলে বিকল্প কী রুট রয়েছে সে বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং পোস্তগোলা ব্রীজের বিকল্প কী রুট নির্ধারণ করা হয়েছে এ বিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেহেতু একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়েছে এবং যে দুইটি ক্যাটাগরি করা হয়েছে হালকা যানবাহন এবং ভারী যানবাহন সেই বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি। আজকের বৈঠকে ৭ টি সংস্থা অংশগ্রহণ করেছে, যারা এর সাথে সংশ্লিষ্ট। বাবুবাজার কেন্দ্রিক ভারী যানবাহনের চলাচলের রুটের বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এসএসসি পরীক্ষাসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানের কথা বিবেচনায় রেখে গণবিজ্ঞপ্তির রুটগুলো আমরা অনুসরণ করার চেষ্টা করব। এছাড়া বিকল্প রুটগুলো মাথায় আছে।
সড়ক জনপথ অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলায়, পোত্তগোলা সেতুর (বুড়িগঙ্গা সেতু-১) সংস্কার কাজ ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ চলমান থাকবে। এ অবস্থায়
সাময়িকভাবে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় ওই সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের বিকল্প সড়ক ব্যবহারের সাধারণ নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে।
বরিশাল বিভাগের ৬ জেলা (বরিশাল, ভোলা, বরগুনা, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, পিরোজপুর), খুলনা বিভাগের ১০ জেলা (খুলনা, বাগেগ্রহাট, সাতক্ষীরা, যশোর, কুষ্টিয়া, নড়াইল, মাগুরা, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর), ও বৃহত্তর ফরিদপুর অংশের ৫ জেলা (ফরিদপুর, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজবাড়ী) থেকে দেশের অন্যত্র যানবাহন চলাচলের (গমন ও আগমন) ক্ষেত্রে ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে নিম্নের সাধারণ নির্দেশিকা মেনে চলার জন্য অনুরোধ করা হলো।
১। ঢাকা মহানগরীতে (ডিএমপি) যানবাহন প্রবেশ ও বাহিরের ক্ষেত্রে দৌলতদিয়া, পাটুরিয়া, নবীনগর, আমিনবাজার, গাবতলী এই রুট অনুসরন করতে বলা হলো। সায়েদাবাদের পরিবর্তে গাবতলীতে যাত্রীবাহি বাস থামবে ।
২। ঢাকা বিভাগের অন্যান্য জেলায় (ঢাকা (আংশিক), মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী, নারায়নগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, টাংগাইল (আংশিক)) যানবাহন যাতায়াতের জন্য দৌলতদিয়া ঐ পাটুরিয়া, নবীনগর, বাইপাইল, চন্দ্রা, ভোগড়া চৌরাপ্ত হয়ে এশিয়ান হাইওয়ে ব্যবহার করে যাতায়াত করতে বলা হয়েছে।
৩। রাজশাহী, রংপুর বিভাগমূখী যানবাহন গুলোকে লালনশাহ সেতু (কুষ্টিয়া, পাবনা) ব্যবহার করে যাতায়াত করতে বলা হলো ।
৪। ময়মনসিংহ বিভাগ ও টাংগাইল জেলা (আংশিক) যাতায়াতের ক্ষেত্রে লালনশাহ সেতু (কুষ্টিয়া, পাবনা) ও বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে যাতায়াত করতে বলা হলো ।
৫। সিলেট বিভাগ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় যানবাহন যাতায়াতের জন্য দৌলতদিয়া, পাটুরিয়া ঐ নবীনগর, বাইপাইল, চন্দ্রা, ভোগড়া চৌরাস্থা হয়ে এশিয়ান হাইওয়ে ব্যবহার করে যাতায়াত কতে বলা হলো।
৬। চট্টগ্রাম বিভাগে যাতায়াতের জন্য পদ্মা সেতু হয়ে শ্রীনগর ঐ মুন্সীগঞ্জ ঐ মুক্তারপুর সেতু, ৩য় শীতলক্ষ্যা সেতু, মদনপুর, যাতায়াত করতে বলা হলো।
৭। অথবা চট্টগ্রাম বিভাগে যাতায়াতের জন শরীয়তপুর ঐ চাঁদপুর ফেরী ব্যবহার করে যাতায়াত করতে বলা হলো ।