মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বালুয়াকান্দি ইউনিয়নের বিছিন্ন গ্রাম আবদুল্লাহপুর। আড়ালিয়া ও আব্দুল্লাহপুর গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে বুলির খাল নামে পরিচিতি একটি নদী। এই নদীর ওপর একটি সেতু না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির শিকার ইউনিয়নবাসী। অবশেষে ইউনিয়নবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ওই নদীর ওপর সেতু নির্মাণের কাজও শুরু হয় দুই বছর আগে। কিন্তু দেড় বছর আগে কাজ থমকে গেছে তো গেছেই। এখন কবে ওই সেতুর কাজ শেষ হবে, তা নিয়ে স্থানীয় লোকজন চিন্তায় আছেন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে বর্তমান সরকার ৬০ মিটার দীর্ঘ আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের জন্য ৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। কাজটি পান আহমেদ স্টিল ইন্ডাস্ট্রি নামে এক প্রতিষ্ঠান।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেড় বছর ধরে ওই নদীর ওপর সেতুর নির্মাণ কাজ থেমে আছে।
কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়া একাধিক শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বললে তারা জানান, ‘নদীর ওপর সেতু না থাকায় মানুষের যে কষ্ট তা বলে বোঝানো যাবে না। সেতু না থাকায় এলাকার মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। উপজেলা পরিষদের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ রক্ষা করতে পারি না আমরা। অসুখ-বিসুখে এলাকার মানুষকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা করানোটাও অসম্ভব। আশা করেছিলাম দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই কাজ দ্রুতই শেষ হবে। কিন্তু কিছুটা কাজ হওয়ার পর নির্মাণকাজ থেমে গেছে। এখন নির্মাণাধীন সেতুর দিকে চেয়ে মানুষ শুধুই হতাশা ব্যক্ত করছেন।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুজ্জামান জুয়েল বলেন, কমসময়ে আমরা ১% এর টাকা দিয়ে রাস্তাটি করেছিলাম। আমরা আশা করেছিলাম দ্রুত বুলি খালের ওপর ব্রিজ নির্মাণ হবে, স্বপ্ন আমাদের বাস্তবায়নের পথে ছিল, পাইলিং হয়েছে গত বছর, হঠাৎ অদৃশ্য কারণে কাজটা এখন বন্ধ আছে। ব্রিজটি হলে আমাদের ইউনিয়নে আর কোনো বিছিন্ন গ্রাম থাকবে না।
সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, নদীর পানিতে পাইলিং করে কাজ বন্ধ রাখার জন্য নদীতে পানির প্রভাবও বন্ধ হয়ে গেছে। পারাপারের সময় কথা হয় আড়ালিয়া গ্রামের কৃষক হোসেন আলীর সাথে তিনি বলেন, ব্রিজের কিছু কাজ হওয়ার পর হঠাৎ করে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। তার পর থেকে ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের ওপর দিয়ে আমাদের পারাপার করতে হচ্ছে। তাও বিরিজটা (ব্রিজ) হইল না।
স্থানীয় জেলে আমির হোসেন জানান, আগে এই খালের প্রভাব মান পানিতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু ব্রিজ নির্মাণে পাইলিং করে কাজ শেষ না হওয়ায় নদীতে এখন পলি মাটিতে ভরাট হয়ে যাচ্ছে।
উপজেলা প্রকৌশলী ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, নতুন করে রি-টেন্ডারের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, অচিরেই পাওয়া যাবে।