অর্ধশত দোকান-বাড়িঘর ভাঙচুর ৫ পুলিশসহ আহত ৩০

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পূর্ববিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ৫ পুলিশসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় প্রায় অর্ধশত দোকান ও বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ১৫ জনকে আটক করেছে।

গত শনিবার থেকে গতকাল রবিবার দুপুর পর্যন্ত সদর উপজেলার নাটাই দক্ষিণ ইউনিয়নের কালিসীমা-শালগাও গ্রামে দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী, পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কালিসীমা-শালগাও গ্রামে বহু বছর থেকে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দলাদলি, মারামারি হয়ে আসছে। গত ইউপি নির্বাচনের পর থেকেই গ্রামের একটি দল জেলা পরিষদ সদস্য বাবুল মিয়া, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল কাইয়ুমের পক্ষে এবং আরেকটি দল বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলম, সাবেক চেয়ারম্যান হোসেন মিয়া, আরজু মেম্বারের পক্ষে বিভক্ত হয়ে পড়ে। মাঝেমধ্যেই দুপক্ষের সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও হামলার ঘটনা ঘটতে থাকে। পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বারবার তাদের মধ্যে আপস-মীমাংসা করে দিলেও তা কিছুতেই দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।

গত কয়েকদিন ধরে বাবুল মিয়া পক্ষের আবুল বাশার ও শাহ আলম পক্ষের রাশেদের বাড়ির চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে মামলা হলে গত শনিবার সন্ধ্যায় পুলিশ তদন্তে যায়। গ্রামে পুলিশ যাওয়ার অজুহাত তুলে দুই বাড়ির লোকজন সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। একপর্যায়ে দুই বাড়ির মানুষের সঙ্গে গ্রামের বিবদমান দুই পক্ষ সংঘর্ষে যোগ দেয়। সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সংঘর্ষে পুরো গ্রাম রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরে পুলিশ সংঘর্ষ থামায়।

গতকাল রবিবার সকাল ৮টায় দুই পক্ষের কয়েকশ লোক সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। তখন বাড়ি বাড়ি সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের সময় ভাঙচুরের ঘটনা এবং মানুষের চিৎকারে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। সদর থানার পুলিশ ও জেলা পুলিশ লাইনস থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় দুপুর ১২টায় সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনে।

দুই দিনের দফায় দফায় সংঘর্ষে পুলিশের এসআই শ্রীবাস, এসআই সুরজিত, কনস্টেবল বাশার, নাসির, মুজাহিদসহ ৩০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে মামুন, সম্রাট, মনির, রামিম, সাকিব, বাছির মিয়া, সোহেল, তাজিম, সাগর, আশিক, রোকসানা  ও আলম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। আহত অন্যরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে ফালুর বাড়ির মুন্সি মার্কেটের ১০ থেকে ১২টি দোকানসহ বিভিন্ন স্থানে বেশ কিছু দোকানপাট, আব্বাস আলীর বাড়ি, হোসেন মিয়া, রফিকুল ইসলাম, নাজির মিয়ার বাড়িসহ প্রায় অর্ধশত বাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষে লিপ্ত ব্যক্তিরা এ সময় অনেক মালামাল লুট করে।

সদর মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বহুদিন ধরে কালিসীমা-শালগাও গ্রামের মানুষ দুটি দলে বিভক্ত। গত শনিবার রাত ও গতকাল রবিবার কয়েকদফা সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে পুলিশের ৫ সদস্যসহ বেশ কিছু লোক আহত হন। প্রায় ২০টি বাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুর হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১৫ জনকে আটক করেছে। বর্তমানে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ওই গ্রামে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে বলে জানান তিনি।