আইসিসি ট্রফি জয়ের পর থেকে ক্রিকেটের বাজার প্রসার পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক কিংবা মহাদেশীয় প্রতিযোগিতায় তেমন কোনো সাফল্য না মিললেও কদর বেশি ক্রিকেটারদের। একটু পিছিয়ে থাকলেও কমতি নেই দেশের ফুটবলারদেরও। তবে পিছিয়ে আছে বাকি খেলাগুলো। যারমধ্যে অন্যতম অ্যাথলেটিক্স। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও অ্যাথলেটরা লড়াই করে যাচ্ছেন।
এশিয়ান ইনডোর অ্যাথলেটিক্সে প্রথমবার ফাইনালে উঠেই পদক এনে দিয়েছেন বাংলাদেশের অ্যাথলেট জহির রায়হান। তেহরানে ৪০০ মিটারের ফাইনালে ৪৮.১০ সেকেন্ড সময় নিয়ে ফিনিশিংয়ে পৌছান তিনি। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও দেশের হয়ে পদক জেতা জহিরের ইচ্ছে এবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করা।
এক অনলাইন গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি নিজের ইচ্ছের কথা জানান। জহির বলেছেন, ‘আমাদের নানা সমস্যা রয়েছে এবং থাকবে। এই নেই-নেই এর মধ্যেও এগিয়ে যেতে হবে। এর মধ্যেও আমি চেষ্টা করি দেশকে কিছু দেয়ার। ওয়ার্ল্ড বিশ্ববিদ্যালয় গেমসের পদকের কাছাকাছি ছিলাম। পদক জিততে পারিনি। এবার পদক জয়ের পর একটাই ইচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার। এটা আমার অনেক দিনের ইচ্ছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চাইলে একটা কিছু অর্জন করতে হবে। এখন অর্জন করায় এই আশা করছি।
২০২১ সালে টোকিও অলিম্পিক খেলে আসার পরপরই ব্যক্তিগত জীবনে একটা বড় ধাক্কা আসে জহিরের। এরপর ফেডারেশন থেকেও নিষিদ্ধ ছিলেন। সেইসব ভয়াল পরিস্থিতি পেছনে ফেলে আজ তিনি এশিয়ার রৌপ্য জয়ী তারকা। কীভাবে এসব সামাল দিয়েছিলেন জানতে চাইলে জহির বলেন, ‘পেছনে আর তাকাতে চাই না। আর সেই বিষয়ে কিছু বলতেও চাই না। ওগুলো এখন সব অতীত। সেই সব কাটিয়ে আমি জাতীয় পর্যায়ে অংশ নিয়েছি দুই বার। জাতীয় রেকর্ড গড়েছি, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভালো টাইমিং করেছি এখন পদক জিতলাম। সামনে আরো এগিয়ে যেতে চাই।’
আউটডোর ও ইনডোর স্প্রিন্টে পার্থক্য এবং চ্যালেঞ্জ কেমন জানতে চাইলে জহিরের জবাব, ‘ইনডোর স্প্রিন্টে ভিন্নতা অনেক। প্রথমত ট্র্যাকের দৈর্ঘ্য অনেক কম। বাকের সংখ্যা বেশি। তাই আউটডোরের চেয়ে ইনডোরে সময় বেশি লাগে। একটু অসচেতন হলে অ্যাঙ্কেল (গোড়ালি) টুইস্ট হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে অনেক। আউটডোরের চেয়ে ইনডোরে চ্যালেঞ্জের মাত্রা বেশি।’
এশিয়ান পর্যায়ে অ্যাথলেটিক্সে বাংলাদেশের তেমন অর্জন ছিল না। গতবার ইমরানের পর এবার দেশের হয়ে পদক জয় করলেন জহির। অ্যাথলেটিক্সের ইতিহাসে যুক্ত হলো তার নামও। এ নিয়ে জহির বলেন, ‘এটা আসলে অনেক ভালো লাগার বিষয়। আমার এত দিনের চেষ্টা এবং পরিশ্রমের ফসল পেয়েছি। সাম্প্রতিক সময়ে এশিয়ান অ্যাথলেটিক্সের সেমিফাইনালে খেলেছি এবং আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় গেমসেও ভালো ফলাফর করেছিলাম। এজন্য ফেডারেশন আমাকে ইনডোরে নির্বাচিত করেছে। তাদের আস্থার প্রতিদান দিতে পেরে সন্তুষ্ট।’