এবারের বইমেলায় আমার পড়া ‘রাজপুত’ যেমন

উপন্যাস: রাজপুত
লেখক: মাহতাব হোসেন

বাসায় অসুস্থ মা, অন্যদিকে সায়মাকে খোঁজার গুরুদায়িত্ব। উচ্চবিত্ত পরিবারের বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া সায়মা নিখোঁজ। তাকে খুঁজে বের করার দায়িত্ব নেয় অরূপ। বিনিময়ে সায়মার বাবার কাছ থেকে নিয়েছেন পঞ্চাশ হাজার টাকা। কারণ অসুস্থ মাকে চিকিৎসা করাতে হবে। রাজপুত উপন্যাসের মূল রহস্য এই গল্পকে ঘিরে।

উপন্যাসে ক্রমেই লেখক গল্পের মোড় ঘুরিয়েছেন। শুরুর দিকটাতে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর এক যুবকের ঢাকা শহরে লড়ে যাওয়ার সংগ্রাম। যাকে সাংবাদিকতার পাশাপাশি করতে হয়েছে রাইড শেয়ারিং,আবার গোয়ান্দার দায়িত্ব। এছাড়াও ছোটবেলায় যার চিঠি প্রত্যাখান করতেন সেই ইরার কথাও আছে। গল্পের শুরু ও শেষে ইরার আবির্ভাব যেন দেবীর মতোই। সম্ভাবনাময় চরিত্র অরূপের জীবনে আটকে যাওয়া মধ্যবিত্ত চরিত্র উঠে এসেছে প্রকটভাবে। 
 
একইসঙ্গে অরূপের ছোটবেলার শহর পার্বতীপুরে কাটানোর সোনালি অধ্যায়ের বর্ণনা আছে। আছে জয়পুরহাট, সীমান্তবর্তী এলাকা হিলি, সৈয়দপুর বিমানবন্দর ও ওপার বাংলার বালুরঘাট ও পূর্ণিয়া শহরের বর্ণনা। লেখকের চরিত্র যেমন ঘুরেছে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায়, তেমনই ছুটে গেছেন উত্তরাঞ্চলের রেলের শহর, সীমান্তের শহরে। এছাড়াও রাতে বর্ডার পার হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনাও....

আমার মতে, সবচেয়ে সাব্বির চরিত্রটি উপন্যাসকে আরও প্রাণবন্ত করেছে। তার আঞ্চলিক ভাষা আর সরলতা। ওপার বাংলায়  নিখোঁজ সায়মাকে খুঁজে পাবে কী অরূপ? কেন নিখোঁজ ছিলেন সায়মা, তার উত্তর জানতে রাজপুত পড়তে হবে। 

'সায়মা বলে, তার প্রতি আমার প্রেম ভালোবাসা এসব ছিল না, আমার সমস্ত সত্তা জুড়ে একজনের জন্যই প্রেম ছিল, সেই নায়ক'। সায়মাকে খুঁজতে গিয়ে অরূপ যেমন ঘুরেছেন দেশের প্রত্যন্ত এলাকায়, তেমনই রহস্য ভেদ করতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছেন এক নায়ক। কে এই নায়ক?