শিশু হত্যা: এক ফাঁসি, এক যাবজ্জীবন

ফরিদপুরে মুক্তিপণের দাবিতে আবু বক্কার (০৮) নামের এক শিশুকে গলা টিপে হত্যার দায়ে এক যুবকের ফাঁসি ও অপরজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

আজ সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩টার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত যুবকের নাম মো. জিন্দার খলিফা (২৬)। তিনি নগরকান্দা উপজেলার মেহেরদিয়া গ্রামের টুকু খলিফার ছেলে। একই সাথে তাকে ৭০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও করা হয়।

অপরদিকে, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মাহাবুল শেখ (৩৯) একই উপজেলার মেহেরদিয়া গ্রামের কাঞ্চু শেখের ছেলে। আদালত মাহাবুলকে যাবজ্জীবনের পাশাপাশি ১ লাখ ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের জুন মাসে ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার মেহেরদিয়া গ্রামের শিশু আবু বক্কারকে অপহরণ করে মুক্তিপণের দাবি করে অপহরণকারীরা। এরপর অপহরণকারীরা মুক্তিপণ না পেয়ে শিশু আবু বক্কারকে গলা টিপে হত্যা করে। হত্যার পর তার লাশটি কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখে তারা। নিহত আবু বক্কার নগরকান্দা উপজেলার মেহেরদিয়া গ্রামের পাচু খলিফার ছেলে। এঘটনার পর শিশুটির পিতা বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন।

মামলার পর নগরকান্দা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুল গাফফার দীর্ঘ তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। এর পর আদালতে দীর্ঘ শুনানি শেষে পাঁচ বছর পর আজ এ রায় দেন ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) স্বপন কুমার পাল জানান, আসামি পক্ষ ন্যায়বিচার পেয়েছে। এ রায়ের ফলে সমাজে অপরাধপ্রবণতা কমে আসবে এবং দেশে আইনের শাসনের পথ সুগম হবে।