নিউমোনিয়ার টিকা সরবরাহ ২ মাস বন্ধ

চট্টগ্রামের টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে দুই মাস ধরে নিউমোনিয়া প্রতিরোধের টিকা সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। প্রতিদিনই অভিভাবকরা তাদের শিশুদের নিয়ে টিকা কেন্দ্রে এসে নিরাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। নির্দিষ্ট সময়ে শিশুদের টিকা দিতে না পেরে উদ্বিগ্ন তারা। শিশুদের অন্যান্য টিকার পর্যাপ্ত মজুদ থাকলেও চহবঁসড়পড়পপধষ পড়হলঁমধঃব াধপপরহব বা নিউমোকক্কাল কনজুগেট ভ্যাকসিনের (পিসিভি) সংকটের কথা স্বীকার করেছেন চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. ইলিয়াছ। কবে নাগাদ টিকার সংকট ঘুচবে সে বিষয়েও স্পষ্ট করে কিছুই জানাতে পারেননি তিনি। অবশ্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পিসিভিসহ যেকোনো ধরনের টিকার সংকট নেই বলে দাবি করেছেন পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামীম আহসান।

জেলা সদরের পাশাপাশি চট্টগ্রামের উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতেও পিসিভির পাশাপাশি অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় টিকারও সংকট আছে বলে জানা গেছে। হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. সোনিয়া বলেন, ‘শুধু পিসিভি নয়, শিশুদের অন্যান্য টিকারও সংকট আছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পিসিভিসহ শিশুদের সব ধরনের টিকা সংকট ঘুচে যাবে বলে আজ (গতকাল সোমবার) জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে আমাদের জানানো হয়েছে।’

সরকারি হাসপাতালে না পেয়ে গতকাল নগরের উত্তর আগ্রাবাদ এলাকায় সূর্যের হাসি ক্লিনিকে শিশুর পিসিভি টিকা নিতে যান সংবাদকর্মী আকমাল হোসেন। তিনি বলেন, শিশুকে পিসিভি টিকা দিতে কয়েক দিন ধরে সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বিভিন্ন টিকাদান কেন্দ্রে ঘুরেছি। কিন্তু মিলছে না টিকা। যেখানেই যাচ্ছি বলছে পিসিভি টিকা নেই।’

উত্তর আগ্রাবাদ এলাকায় বেসরকারি টিকাদান কেন্দ্র সূর্যের হাসি ক্লিনিকের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, ‘দুই মাস ধরে পিসিভি টিকার সরবরাহ নেই। সরকারি হাসপাতালেও মিলছে না এই টিকা। অভিভাবকরা হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।’

নগরের খুলশী এলাকার গৃহবধূ ফারজানা ইয়াছমিন বলেন, ‘আমার ছেলের পিসিভি টিকা নিতে খুলশী এলাকার বেসরকারি একটি ক্লিনিকে গেলেও টিকা মেলেনি। পরে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল গিয়েছি, সেখানেও টিকা মেলেনি।’

নাম প্রকাশ না করে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের দুজন স্বাস্থ্যসহকারী জানান, পিসিভি ভ্যাকসিন না থাকায় শিশুদের নিয়মিত টিকা দিতে পারছেন না তারা। এতে টিকা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

গত রবিবার চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে সাত সপ্তাহ বয়সী সন্তানের জন্য পিসিভি টিকা নিতে গিয়ে নিরাশ হয়ে ফিরে আসেন মুহাম্মদ আবদুল্লাহ নামে এক অভিভাবক। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সরকারি হাসপাতাল ছাড়াও বেসরকারি একাধিক হাসপাতালের টিকা কেন্দ্রে গিয়েছি। কিন্তু তারা বলছে পিসিভি ভ্যাকসিন নেই।’

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় জন্মের এক বছরের মধ্যে শিশুদের বিভিন্ন মারাত্মক রোগের প্রতিষেধক হিসেবে বিসিজি, পেন্টাভ্যালেন্ট, পিসিভি, ওপিভি (ওরাল পোলিও ভ্যাকসিন), আইপিভি (ইনঅ্যাকটিভেটেড পোলিওমাইলাইটিস ভ্যাকসিন), এমআর (হাম-রুবেলা) ও হামের টিকা দেওয়া হয়।

এর মধ্যে পেন্টাভ্যালেন্ট একটি সমন্বিত টিকা, যা ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি, হেপাটাইটিস-বি ও হিমোফাইলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি, ধনুষ্টংকারের প্রাণঘাতী পাঁচটি রোগ থেকে রক্ষা পেতে নবজাতককে সাহায্য করে। শিশুদের সুষ্ঠুভাবে বেড়ে ওঠার লক্ষ্যে সরকারিভাবে বিনামূল্যে জেলার সব সরকারি হাসপাতাল ও বিভিন্ন টিকা কেন্দ্রের মাধ্যমে শিশুদের এই সাত ধরনের টিকা দেওয়া হয়। চট্টগ্রামে এ সাতটির মধ্যে নবজাতকের খুব প্রয়োজনীয় পিসিভি টিকার ভা-ার দুই মাস ধরে শূন্য।