পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) উপ-উপাচার্যের একান্ত সহযোগী (পিএ) কর্তৃক শিক্ষক লাঞ্ছিতের ঘটনায় অভিযুক্তের বহিস্কারের দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছে শিক্ষক সমিতি। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ভবনের প্রধান ফটকে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষক সমিতি।
পবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক জেহাদ পারভেজের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদুজ্জানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যানসহ সাধারণ শিক্ষকরা অংশ নেন । বক্তারা অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাবার ঘোষনা দেন। এদিকে শিক্ষক সমিতির চলমান আন্দোলনে সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বিভিন্ন অনুষদের সম্মিলিত ছাত্র সমন্বয় পরিষদ ব্যানারে মুখে কালো কাপড় বেধে ক্যাম্পাসে মৌণ মিছিল করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বেলা ১১টায় টিএসটি চত্ত্বর থেকে সম্মিলিত ছাত্র পরিষদের আয়োজনে দু’শতাধিক শিক্ষার্থী মুখে কালো কাপড় বেধে মৌণ মিছিল বের করে ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জয়বাংলা পাদদেশে সমাবেশ করে। সম্মিলিত ছাত্র পরিষদের সমন্বয়ক কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী রাকিবুল হাসান বলেন, কারো প্ররোচনায় নয়, শিক্ষকের সম্মান রক্ষার দায়িত্ববোধ থেকে আমরা আন্দোলন করেছি। যে কোন মূল্যেই অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমার আজ মঙ্গলবার শেষ দিন ছিলো। কিন্তু বিকেল ৪টা পর্যন্ত তা দাখিল করা হয়নি।
উল্লেখ্য, গত শনিবার(১৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টায় পবিপ্রবির কৃষিকুঞ্জের ডাইনিং রুমে এনএফএস অনুষদের সহকারী অধ্যাপক নজরুল ইসলামকে সম্প্রতি নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক শেখ তানজিলা দোলার পক্ষ নিয়ে প্রোভিসির একান্ত সহযোগী সামসুল রাসেল অকথ্য ভাষায় গালাগালসহ শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। লাঞ্ছিতের শিকার সহকারি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম ঘটনাটি শিক্ষক সমিতিকে লিখিত ভাবে জানানো হলে অভিযুক্তকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ৩দিনের আল্টিমেটাম দিয়ে লাগাতার ক্লাশ বর্জনসহ শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরু করেন।