উপজেলা নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন ও আচরণ বিধিমালা-সংক্রান্ত একগুচ্ছ প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর জামানত যথাক্রম ১০ ও ১৫ গুণ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে ভোটারের সমর্থনযুক্ত তালিকা বিলুপ্ত করাসহ আইনের আরও বেশ কিছু সংশোধনের প্রস্তাব করেছে সাংবিধানিক এই সংস্থাটি। গতকাল মঙ্গলবার ২৮তম কমিশন সভায় সংস্থাটি এসব প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম।
ইসি সচিব জানান, কমিশনের আইন সংস্কারবিষয়ক কমিটি উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা ও আচরণবিধিমালায় কিছু হালনাগাদ করার প্রস্তাব করেছিল। কমিশনের আজকের বৈঠকে এগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়। তিনি বলেন, এগুলো এখনই কার্যকর হচ্ছে না। কমিশন সভায় অনুমোদিত প্রস্তাবগুলো আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে ভেটিংয়ের জন্য। মন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাই করে তা আবার ইসির কাছে ফেরত পাঠাবে। তারপর ইসি পর্যালোচনা করে আবার আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠালে প্রজ্ঞাপন জারি হবে।
যেসব বিধি সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন : উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের জামানত এক লাখ টাকা এবং উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৭৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে কমিশন। বর্তমান নির্বাচন বিধিমালায় চেয়ারম্যান প্রার্থীর ১০ হাজার ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর ৫ হাজার টাকা জামানত রাখতে হয়।
এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ২৫০ ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষর তুলে দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিল বাধ্যতামূলক ও সমভোটের ক্ষেত্রে লটারির মাধ্যমে ফলাফল নির্ধারণের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। প্রদত্ত ভোটের ১৫ শতাংশের কম ভোট পেলে জামানত বাজেয়াপ্তের প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে।
চেয়ারম্যান এবং ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয় ২৫ লাখ এবং মহিলা সদস্য প্রার্থীর খরচ এক লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। মনোনয়নপত্রে লিঙ্গ হিসেবে হিজড়াদের অন্তর্ভুক্তি এবং নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত ও পুনরায় ভোটগ্রহণে কমিশনের ক্ষমতার বিষয়ে প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া আছে মনিটরিং কমিটি গঠন, নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধিত হওয়ায় প্রতীক অন্তর্ভুক্তি/সংশোধনের প্রস্তাব।
উপজেলা পরিষদ (আচরণবিধিমালা), ২০১৬-এর যেসব বিধি সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে, তার মধ্যে পোস্টার, ব্যানার সাদা-কালো অথবা রঙিন করার বিষয়টি রয়েছে। প্রতীক বরাদ্দের আগে জনসংযোগ এবং ডিজিটাল মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে পাঁচজনের বেশি কর্মী বা সমর্থককে নিয়ে জনসংযোগ করা যাবে না। প্রতি ইউনিয়নে একটি এবং পৌরসভার প্রতি তিনটি ওয়ার্ডে একটির বেশি নির্বাচনী ক্যাম্প বা অফিস স্থাপন করা যাবে না।
নির্বাচনী ক্যাম্প বা অফিসের আয়তন ৬০০ বর্গফুটের বেশি হতে পারবে না। নির্বাচনী প্রচারে একটি ও জনসভায় চারটির বেশি শব্দযন্ত্র (হর্ন) ব্যবহার করা যাবে না। শব্দদূষণ প্রতিরোধে শব্দবর্ধনকারী যন্ত্রের শব্দের মান মাত্রা ৬০ ডেসিবেলের অতিরিক্ত হতে পারবে না। পোস্টার বা ব্যানারে পলিথিন ব্যবহার না করার প্রস্তাব করা হয়েছে।