বীর মুক্তিযোদ্ধা। প্রকাশনা ব্যবসায় এসেছেন ২০১২ সালে। বলছিলেন, ‘ফেসবুকের মাধ্যমে কয়েকজন তরুণ লেখকের সঙ্গে আলাপ হয়। তাদের লেখা তারা ফেসবুকে পোস্ট করেন। লেখাগুলো যথেষ্ট মানসম্পন্ন কিন্তু তাদের একটাই অভিযোগ যে তারা প্রকাশকদের কাছে গেলে টাকা দিতে হবে, তাহলে তাদের বই ছাপা হবে। তাদের সঙ্গে ছবির হাট, পাবলিক লাইব্রেরি চত্বরে মিলিত হয়ে কয়েকটি বৈঠকের পর একটা ত্রৈমাসিক পত্রিকা বের করার সিদ্ধান্ত হয়। সেই বছরে পরের দিকে তরুণদের অল্প কয়েকটি বই প্রকাশের মধ্য দিয়ে অনুপ্রাণন প্রকাশনের সূচনা হয়।’ জিজ্ঞাসা ছিল প্রকাশনার এক যুগে অনুপ্রাণনের বড় অর্জন কী বলে মনে করেন! আবু এম ইউসুফ বলেন, ‘প্রকাশনা হিসেবে আমাদের বড় অর্জন মনে করি এই কয়টি বছরে শুধু তরুণদেরই প্রায় ২৫০টির বেশি বই প্রকাশ করতে পারা, যারা এখন অন্যান্য প্রকাশনী সংস্থা থেকেও বই প্রকাশ করছেন। পাঠক মহলে কিছু পরিচিতি লাভ করেছেন এবং সাহিত্যচর্চার জগতে নিজেদের একটা জায়গা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। শিল্প-সাহিত্যের মাঠের গতিশীলতা বজায় রাখার জন্য তরুণদের অন্তর্ভুক্তির একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অনুপ্রাণন এই ভাবনাটা মাথায় রেখেই কাজ করে যাচ্ছে।’
এবারের বইমেলার প্রস্তুতি নিয়ে জানতে চাইলে অনুপ্রাণনের প্রকাশক বলেন, ‘এবারের বইমেলায় আমরা প্রায় ৮০টি নতুন প্রকাশিত বই নিয়ে এসেছি। তা ছাড়া আমাদের আগে প্রকাশিত বইগুলো তো আছেই।’ মুক্তিযোদ্ধা এই প্রকাশকের কাছে জিজ্ঞাসা ছিল বইয়ের প্রচার ও বিপণনে কেমন উদ্যোগ প্রকাশনার পক্ষ থেকে নেওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘প্রকাশিত বইয়ের বিপণন ও প্রচার করার কাজে ঢাকায় আমাদের তিনটি বিক্রয়কেন্দ্র আছে। দুটি কাঁটাবনে ও একটি বাংলাবাজারে। তা ছাড়া ঐতিহ্যের ‘নির্বাচিত’কে আমরা পরিবেশক হিসেবে নিযুক্ত করেছি, তাদের মাধ্যমে ছয়টি জেলা শহরে বই বিক্রি হচ্ছে। রকমারি আমাদের অনলাইন পরিবেশক এবং অনলাইনে বিক্রি করার জন্য আমাদের নিজেদেরই একটি ওয়েবসাইট আছে।’ প্রকাশনাশিল্প হিসেবে দাঁড়ায়নি, প্রকাশনার বড় সমস্যা কী মনে করেন জানতে চাইলে আবু এম ইউসুফ বলেন, ‘বই প্রকাশ ও বিক্রির ক্ষেত্রে আমাদের প্রধান সমস্যা হচ্ছে দেশে পর্যাপ্ত লাইব্রেরি নেই। দেশে দেশে কেন্দ্রীয় সরকার ও স্থানীয় সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় এই লাইব্রেরিগুলো গড়ে উঠতে দেখা গেছে। অনেক সময় স্থানীয় সরকার আঞ্চলিকভাবে বইমেলার উদ্যোগ নিচ্ছে, কিন্তু এ ব্যাপারে প্রকাশকদের অংশগ্রহণ খুব সীমিত।’
প্রকাশক হিসেবে লেখকদের কাছে কী প্রত্যাশা করেন জানতে চাইলে এই বর্ষীয়ান প্রকাশক বলেন, ‘লেখকদের কাছে আমরা মৌলিক সৃজনশীল ও মননশীল লেখা প্রত্যাশা করি। লেখকদের মধ্যে প্রধান দুর্বলতা যে তারা ঠিকমতো পড়াশোনাটা করছেন না। অনুপ্রাণন প্রকাশন যে পা-ুলিপিগুলো পায়, সেগুলো থেকে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই বাদ চলে যায়। আবার অনেক লেখকের পান্ডুলিপি দুর্বল হওয়া সত্ত্বেও বই প্রকাশ করার জন্য অনর্থক পীড়াপীড়ি করতে থাকেন। আমরা চাই লেখকরা যেন এটা না করেন; বরং নিজের কাজটার মান উন্নয়নের চেষ্টা করেন।’
অমর একুশে বইমেলা আয়োজনে বাংলা একাডেমির ভূমিকা নিয়ে জানতে চাইলে আবু এম ইউসুফ বলেন, ‘মেলা আয়োজনে বাংল একাডেমি জড়িত না হয়ে এ কাজটা প্রকাশক সমিতির হাতে ছেড়ে দিলে কি সমস্যা হবে? সরকার কী মনে করে, এটা আমাদের জানা দরকার। কেননা বাংলা একাডেমি এ রকম মেলা আয়োজনের জন্য নিজে দক্ষ সংগঠন নয়। তা ছাড়া তারা কোনো দক্ষ সংগঠনকে যে ঠিকাদারি পদ্ধতিতে বেছেও নেয় তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানের কাজের মান রক্ষা করা আমলাতান্ত্রিকতার কারণে তারা সুষ্ঠুভাবে করতে সক্ষম হবেন না। এরপরও বছর বছর এই যে মেলা হচ্ছে নানা রকম বৈষম্য ও অব্যবস্থাপনার মধ্যেও, সে জন্য বাংলা একাডেমিকে ধন্যবাদ।’