লেখার গুণগত মানই বৈভবের পুঁজি

২০১৮ সালে যাত্রা শুরু করে ২০১৯ সালে প্রথম অমর একুশে বইমেলায় অংশ নেয় বৈভব। কবিতার বইকে প্রায়োরিটি দিয়ে দ্রুতই আলোচনায় চলে আসে নতুন এই প্রকাশনাটি। বৈভবের প্রকাশক, কবি পাপিয়া জেরীন জানাচ্ছিলেন তার প্রকাশক হয়ে ওঠার গল্প। বলছিলেন, ‘প্রকাশনা ব্যবসায় আসাটা একেবারেই দৈবঘটনা। নিজের প্রথম কবিতার বই ‘ঊনসপ্ততি’ প্রকাশ করতে এসে যখন দেখলাম নামীদামি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলো টাকা চাচ্ছে, তখনই মনে হলো এদেশের প্রকাশক এবং লেখক কেউই প্রফেশনাল না। তখনই এই সেক্টরে প্রফেশনালি কাজ করার কথা মাথায় এলো। এখান থেকেই সূত্রপাত’। বছর পাঁচেকের পথচলায় নিজেদের নামটা অনেক পাঠক লেখকের মাথায় গেঁথে দিতে পেরেছে বৈভব। অর্জন কি জানতে চাইলে পাপিয়া বলেন, ‘প্রকাশনা হিসেবে আমার লক্ষ্য পাঠক-লেখক-প্রকাশক এই ত্রিত্বের সুন্দর সম্মিলন। বুকসাইনিং ইভেন্ট এর মাধ্যমে এই সংযোগ তৈরি করতে চেষ্টা করেছি। আরও কিছু অভিনব ক্যাম্পেইনকে মাধ্যম হিসেবে রেখেছি। এই সংযোগ সফল হলে সেটাকে ‘অর্জন’ বলতে পারব। বৈভবে বই প্রকাশের অন্যতম বিচার্য বিষয় ভালো কন্টেন্ট। এখানে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কবিতা এবং কবির প্রথম বই গুরুত্ব বহন করে, প্রথম বই আমরা আগ্রহ নিয়ে প্রকাশ করি’।

এই বইমেলার প্রস্তুতি নিয়ে জানতে চাইলে পাপিয়া জেরীন জানান, এবার ১৯টি বই প্রকাশিত হয়েছে। মজনু শাহ এর কবিতার বই ‘ধীরে রজনী, ধীরে’, শাহেদ কায়েস এর অনুবাদে মাহমুদ দারবিশের কবিতা ‘মুক্তিকামী মানুষের কবিতা’, বায়েজিদ বোস্তামীর শের নিয়ে বই’ শের-ই-বোস্তামী’, ইমরুল হাসানের কবিতা, মৃদুল মাহবুবের ‘এ-ই সরল পথ’, সালাহ উদ্দিন শুভ্র এর উপন্যাস ‘বেকার বিপ্লব’, সাদী কাউকাবের কবিতার বই’ মাধ্যাকর্ষণের সহজ ভূমিকায়’, রুহুল মাহফুজ জয় এর মুক্তগদ্য ‘তোমার প্রেমের নামে’, ডাল্টন সৌভাত হীরার প্রথম কবিতার বই ‘ডাল্টন মরে যাও’, হাসান রোবায়েতের তিনটি কবিতার বই (কুসুম তার সবটুকু জানে, মীনগন্ধের তারা, ছায়াকারবালা), কাজী ওয়ালি উল্লাহ এর প্রথম বই ‘আমার বোনের মতো’, মাশরুর ইমতিয়াজ এর প্রথম বই ‘সন্তরা পুড়ছে সন্তাপে’ , ইকতিজা হাসানের ‘নদীশাসন ভালো লাগে না’ , রাফাত আলম মিশুর মুক্তগদ্য ‘এইটা কোনো ব্যাকরণের বই না, সুপ্রিয় সাহার ‘২১/১ রজনীগন্ধা আবাসিক এসব বই এরই মধ্যে বেরিয়ে গেছে’।

বইয়ের প্রচারণা নিয়ে কী কী পদক্ষেপ এবার আপনারা নিচ্ছেন জানতে চাইলে পাপিয়া জেরীন জানান, বৈভব লেখক-পাঠকের এঙ্গেজমেন্টের জন্য বুকসাইনিং ইভেন্ট, ইন্টারভিউ, প্রচারণামূলক পোস্টার, বই এর গ্রুপগুলোতে নিয়মিত রিভিউ প্রকাশ করছে, আমাদের প্রচারণায় আমরা সামাজিক মাধ্যমকে সৃজনশীলভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছি।

প্রশ্ন ছিল, ‘সৃজনশীল বইয়ের প্রকাশক হিসেবে আপনি কী কী সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন? কোনো আশার বাতিঘর কি দেখতে পাচ্ছেন?’ তিনি জানালেন, প্রকাশক হিসেবে ডিস্ট্রিবিউশন ভালো করার পরেও নামীদামি বুকশপগুলোর প্রফোশনাল আচরণ পাচ্ছি না। দেশি লেখকের বইয়ের চাইতেও তারা ভারতীয় বইয়ের প্রচার ও বিপণনে আগ্রহী। ফেমাস এই বুকশপগুলো যদি দেশি বইয়ের কদর না করে তবে আশার বাতিঘর কেমন করে দেখব!

জিজ্ঞাসা ছিল, বই প্রকাশে আগ্রহী লেখকদের কাছে আপনাদের প্রত্যাশা কী থাকে? পাপিয়া জেরীন জানালেন, বই প্রকাশে আগ্রহী লেখকদের কাছে বৈভবের একটাই প্রত্যাশা, সেটা হলো ভালো কন্টেন্ট। লেখার গুণগত মানই বৈভবের পুঁজি। এই শর্ত পূরণ হলেই  নিঃসংকোচে বই প্রকাশ করি।

সপ্তম জিজ্ঞাসা ছিল, ‘মেলা আয়োজনে বাংলা একাডেমির ভূমিকা নিয়ে আপনার মন্তব্য কি? তিনি বলেন’ এবারের মেলা আগেরবারের চেয়েও সুপরিকল্পিত। তবে স্টল ম্যানেজমেন্ট এ তাদের আরও দায়িত্বশীল আচরণ আশা করি। বৈভবের বই ১৫০ এর উপরে। সবগুলো শর্ত পূরণের পরও বৈভব এক ইউনিট স্টলের বেশি পায়নি এবারও। বাংলা একাডেমির এই অব্যবস্থাপনা দুঃখজনক।