গ্রামীণফোনের ওয়েলকাম টিউনে একুশের গান এবং ...

'গ্রামীণফোনের ওয়েলকাম টিউনে না জিজ্ঞেস করে একুশের গান দেয়া ঠিক হয়নি। একটি রিলের মন্তব্যে ৯৯% ছেলেমেয়েরা জানিয়েছেন যে অন্যকে কল দিলে, তাদের চেতনা জাগে না বরং মাথা ব্যাথা করে এসব বোরিং গান শুনলে হুম।'

‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি' গানের সুরকার শহীদ আলতাফ মাহমুদের মেয়ে শাওন মাহমুদের একটি স্ট্যাটাস এটি। একুশে ফেব্রুয়ারির আগের দিন ফেসবুকে এই স্ট্যাটাস দেন তিনি। সেখানে আজ পর্যন্ত প্রায় আড়াইশজন কমেন্ট করে বিভিন্ন মতামত দিয়েছেন।

কেউ বলছেন, ৩০ সেকেন্ডের গানে চেতনা ফিরে না। কেউ বলছেন, বোধশূণ্য জেনারেশন। কেউ বলছেন, কোনো কিছু জোর করে দেখানো, শোনানো বা গেলানোর চেষ্টা করাই অন্যায়। কেউ আবার বলছেন, আমার কাছে তো বোরিং লাগে না।

সেখানে সিনিয়র সাংবাদিক জ.ই. মামুন কমেন্ট করেছেন, 'আমার মাথা ব্যথা করে না তবে আমিও মনে করি অমর একুশের গান ওয়েলকাম টিউনে বাজানোর জিনিস না। কোনো কিছু জোর করে দেখানো, শোনানো বা গেলানোর চেষ্টা করাই অন্যায়।'

আতাউর রহমান খান লিখেছেন, 'সামান্য কয়েক সেকেন্ড বাজে। আমার কাছে তো বোরিং লাগে না। বরং তৃপ্ত হই। তবে জ.ই. মামুন ভাইয়ের সাথে একমত। এসব গান বাধ্যতামূলক কলার টিউনে দিয়ে হালকা করা উচিত না। যার অনুভূতি আছে সে নিজে থেকেই দেবে। আমি যেমন বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণের শেষ অংশ কলার টিউন এ রেখেছিলাম। এই কারণে এক বিএনপি পন্থী ফ্যাক্টরি জিএম ভয়ে আমাকে ব্যবসাই দেয়নি। না দিক। আফসোস নেই।'

রেজানুল বিজয় লিখেছেন, 'আপা, দেশাত্মবোধক গানে অবশ্যই চেতনা জাগে। কিন্তু কথা হচ্ছে জরুরি একটা কাজে একজনকে কল দিলে এই গান কিংবা অন্য যেকোনো গান বাজলে কিছুটা বিরক্ত হওয়া স্বাভাবিক। এই ভাবে গান শুনিয়ে নতুন জেনারেশন চেতনা ফিরাইতে হবে কেন! ইতিহাস, সংগ্রাম নতুন জেনারেশন কে ধারণা করতে হবে। ৩০ সেকেন্ডের গানে চেতনা ফিরে না।'

শর্বরি ফাহমিদা লিখেছেন, 'বোধশূণ্য জেনারেশন। আর এদের অভিভাবকদের প্রকৃতিগতভাবে বুদ্ধিশূণ্য মনে হয় আমার।' তবে পাপ্পু দত্ত বলেছেন, 'গান দেওয়া একদম ঠিক আছে। যত এলার্জি তত চুলকানি।' ক্রয়ী ইসলাম লিখেছেন, 'আমার তো ভালোই লাগে!' আসমা আহমেদ লিখেছেন, 'একটা বিশেষ দিনে এই অমর গানটি রিং টোন বা ওয়েলকাম টিউনে বাজালে মাথা ব্যথা কেন?' শাহ আলম সজীব লিখেছেন, 'আমার কাছে অসম্ভব ভাল লাগে।'

ব্ল্যাট সেইল লিখেছেন, 'সমস্যা হইলো ওইটা ওয়েলকাম টিউনই না। রিং বাজার আগে ওইটা শুনায়। ওয়েলকাম টিউন হইলে এই ঝামেলা টা হইত না। এখন মনে করেন ইমার্জেন্সি কারনে কাউকে ফোন দিছি, কল না গিয়া একুশের গান শোনাচ্ছে। তার পর রিং বাজবে। জিনিসটা উল্টা নেগেটিভ প্রভাব ফেলে।'

আজাদ সুলতান লিখেছেন, 'বুবু! যে জেনারেশন খন্দকার মোস্তাকের মতো বুড়ো এবং নাতনী বয়সী স্ত্রী'র ভিডিও কন্টেন্ট আসক্ত কিংবা কাপড় বিক্রেতা এক বেয়াদব ও অশ্লিল কথা বলা মহিলার ফলোয়ারদের ভিডিও আপলোড দিয়ে পয়সা কামাই করে। তার আলতাফ মাহমুদ সাহেব কিংবা আলাউদ্দিন আলী সহেব, আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল সাহেবের মতো সুরস্রষ্ঠাদের কদর কি বুঝবে? হতাশ হইও না বুবু দেখবে একদিন নতুন প্রজন্ম গুনিজনের সৃষ্টি হন্য হয়ে খুঁজবে।'

নিশান হক লিখেছেন, 'দায়ী আমাদের মূল্যবোধ, সচেত্নতা, আমরা স্মমান দেখাতে জানি না। এগুলা মেরে-পিটায়ে শিখান যায় না। এগুলা বেবী ক্লাস থেকে ভিত্রে দিতে হ্য়। তার উপ্র আমাদের দেশে করিরাইট আইন এর জথাজথ প্রয়গ নাই, কাকে দোষ দিবেন, যেখানে স্কুল গুলা ২১শে ফেব্রুয়ারী পালান করে হিন্দী গান এর সাথে নেচে। শাওন মাহমুদ এই দায় আমাদের প্রত্যেকের, কোনও সরকারকে দায়ী করে লাভ নাই।'

শহীদ শেখ লিখেছেন, 'বর্তমান প্রজন্ম বিদেশমুখি। তারা একুশ-ফেকুশ বোঝে না। আবার গান...। কী নষ্ট ভবিষ্যতের দিকে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। একজন দেশসেরা শহীদ সন্তানকে আমি খুব কাছ থেকে চিনি, যে তার সন্তানকে দেশের প্রতি ঘৃণা জন্মিয়ে বিদেশ পাঠিয়ে দিয়েছেন। একুশে বইমেলায় গেলে বুঝা যায়, বর্তমান প্রজন্মের অধিকাংশই নষ্টের শেষ সীমানায় পৌছে গেছে...।'

সালমা লুনা লিখেছেন, 'আমি জেনারেশনের দোষ দেই না আপা। সবকিছুর বাণিজ্যিকীকরণ করতে নেই, জোর করে কিছু হয় না। স্বাভাবিকভাবে যে শিক্ষা দেয়ার কথা যা আমাদের জানানর কথা ছিলো এদেরকে তা যখন করতে পারিনাই আমরা তখন এইরকম কিছুই শুনতে দেখতে হবে। আমি নিজেদেরই দোষ দেখি। নির্লজ্জ বেহায়া যদি কেউ হয় তবে ওরা নয় আমরা। আমরা কী কী করেছি, আর করে চলেছি তা বলতে গেলে তো আবার দোষঘাটের সীমা থাকেনা। স্বাধীনতা দেশ ভাষা চেতনা সবকিছুকে বেচে খেয়ে এখন জেনারেশনকে বেহায়া আর নির্লজ্জ বলার অধিকার আমাদের নাই।'

ফাতেমা হোসাইন ঊর্মি লিখেছেন, 'অতিরিক্ত কোন কিছুই ভালো না, চেতনা চেতনা করতে করতে শব্দটাকেই হাস্যকর তুলেছে। অথচ আমাদের ছোটবেলায় ২১ শে ফেব্রুয়ারিতে নিজেরাই কাগজ দিয়ে শহীদ মিনার তৈরি করে গান গাইতাম।'

তামান্না নবী চৌধুরী লিখেছেন, 'ব্যাপারটা চেতনার না। খুব জরুরি কাউকে ফোন দিচ্ছি। সে রিসিভ না করলে গাড়ি ছেড়ে দিচ্ছে বা কিছু একটা করে ফেলছে এমন, কিন্তু রিং হবার আগে ৩ মিনিট ধরে গান বাজতে থাকে সকাল, সকাল খুবই সমস্যায় পড়ি আমি।'