'সবার প্রতি সম্মান রেখেই বলি, যারা মূলত মেট্রোতে ঘুরতে বা দেখতে যান তারা দয়া করে অফিস পিক আওয়ার বাদে অন্য সময়ে গেলে সবার জন্য সুবিধা হয়। আমরা যারা অফিসগামী যাত্রী এতে আমাদেরও কষ্ট হয় আর আপনাদেরও হয়।'
ফেসবুকের মেট্রোরেলের একটি কমিউনিটি গ্রুপে নাজমুল ইসলাম ফাহিম নামের এক মেট্রো যাত্রীর স্ট্যাটাস এটি। সম্প্রতি ফেসবুকে এই স্ট্যাটাস দেন তিনি। সেখানে অনেকেই কমেন্ট করে বিভিন্ন মতামত দিয়েছেন। কেউ বলছেন, মামা বাড়ির আবদার। কেউ বলছেন, অফিসকে বলুন, অফিসের টাইম চেঞ্জ করে দিতে। কেউ আবার বলেছেন, কষ্ট হলে প্রাইভেটকারে যান।
মারুফ হোসেন লিখেছেন, 'মেট্রো আপনার বাপের?' আতিক হাসান লিখেছেন, 'কি একটা অবস্থা! মামা বাড়ির আবদার। যার যখন সুবিধা সে সেই সময়েই যাবে। এখানে সবার সমান অধিকার। এগুলো আজাইরা যুক্তি দেওয়া বাদ দেন ভাই।' আজিজ রোমান লিখেছেন, 'অফিসকে বলুন, অফিসের টাইম চেঞ্জ করে দিতে। পিক আওয়ারে অফিস টাইম থাকায় আপনার কষ্ট হচ্ছে।'
শাহজাহান ফারহান লিখেছেন, 'কষ্ট হলে প্রাইভেটকারে যান। যার যখন সুবিধা তখন ই যাবে। সবার ই সমান অধিকার। মেট্রো পুরো বাংলাদেশবাসীর জন্য। শুধুমাত্র অফিস যাত্রীদের জন্য না। আপনাদের মত সবারই সমান অধিকার এখানে।' রায়হানুল ফেরদৌস রাজ লিখেছেন, 'ভাই কেউ সকাল ৮-৯টা ঘুরতে বের হয় না। যেদিন কারো ঘুরার মুড হয় সেদিন সে ঘুম থেকে উঠেই দেরি করে।'
অপু খান লিখেছেন, 'অরুচিকর প্রস্তাব।' মোহাম্মদ আলী আকবর লিখেছেন, 'এটা আবার কেমন? তাদের স্বাধীনতা নাই? ঘুড়তে বের হলেও অফিসগামীদের কথা ভাবতে হবে? যারা মেট্রোতে অসুবিধা মনে করবে তাদের জন্য বাসসহ অন্যন্য গনপরিবহন তো বিকল্প হিসেবে আছেই চিন্তা কিসের?' তাশাদ রহমান লিখেছেন, 'একটা মানুষ কোন লেভেলের নির্বোধ হইলে এই ধরনের পোস্ট করতে পারে!'
শাওন লিখেছেন, 'স্বাধীন নাগরিক হিসেবে মেট্রোরেল চলাচল করার যেকোনো সময়ে তাদের চড়ার অধিকার আছে। আপনি যেমন টাকা দিয়ে চড়েন, তারাও টাকা দিয়ে চড়ে। মাগনা চড়েনা বা বিশেষ সুবিধা নেয়না যে তাদেরকে নির্দিষ্ট সময় বেধে দিবেন! আপনার বেশি কষ্ট হলে নিচের রাস্তা তো আছেই। সেটা ব্যবহার করে গন্তব্যে যান!'
জুনায়েদ আহমেদ লিখেছেন, 'যার যখন খুশি যাবে মেট্রোতে চড়তে, আপনি অফিসের জন্য যাচ্ছেন কি পান খেতে যাচ্ছেন এটা অন্য কেউ চিন্তা করবে কেন? টাকা দিয়ে টিকিট নিয়ে এখন নিশ্চয়ই ঘুরতে যাবে না, আর আপনার অফিস থাকলে অন্য যে মানুষের কথা বললেন যারা ঘুরতে মেট্রোতে উঠে তারাও পান খায় না, তাদের নিজেদের কাজ থাকে দেখেই মেট্রোতে উঠে।'
আশফাকুর রহমান লিখেছেন, 'এইভাবেই কোটা সুবিধার উদ্ভব হয়।' রিশাদ কায়সার লিখেছেন, 'মেট্রোতে ভিড় কমানোর জন্য অফিস টাইমটাও পরিবর্তন করে দিলে সুবিধা হয়।' আবু নাইম লিখেছেন, 'আপনি অফিসটাইমে মেট্রোতে না গিয়ে বাইক রাইড নিয়ে যান।' সোহেল গাজী লিখেছেন, 'আপনার প্রতি সম্মান রেখে বলছি, এইরকম আবুল মার্কা প্রশ্ন বা আবদার মাথায় আসে কিভাবে।'
আবু সায়েম মো. আব্দুল্লাহ লিখেছেন, 'বিষয় সেটা না, বিষয় হইলো আপনি এমন কাকে পাইলেন যে সকাল বেলা এতো মানুষের গাদাগাদি খেয়ে ঘুরার জন্য মেট্রোরেলে উঠবে? আর সেকেন্ড পিক আওয়ারে, অর্থাৎ বিকালে-সন্ধ্যায় মানুষ ঘুরতে যেতেই পারে, সেখানে অফিস আওয়ার হিসেব করলে কারো আর ঘুরার সুযোগ থাকবে না। সহজ কথা যে যখন যার সুবিধামত মেট্রোরেল ব্যবহার করবে, এখানে কাউকে অনুরোধ/পরামর্শ/মানা করার কোনো স্কোপ নাই।'
তবে শাহ আলম ইমন লিখেছেন, 'রাইট এবং বাস্তব কথা।' তাশরিফ আব্দুল্লাহ লিখেছেন, 'উনি একটা রিকোয়েস্ট/সাজেশন করসেন। কোনো অর্ডার দেন নাই। মানুষ কমেন্ট বক্সে উনারে নিয়ে এভাবে ছুটতেসেন কেন? কয়েকজন উনাকে আবার ছেঁচড়াও ডাকলেন। উদ্ভট। আর কথাগুলোও একটাও অযৌক্তিক ছিলো না। বাংলা পড়তে কি সমস্যা হয়?'
আল আমিন সোহাগ লিখেছেন, 'ভালো পরামর্শ দিলেন। কিন্তু বাঙালি সবসময় নিজে যা করে সেটাই সঠিক মনে করে। আপনি আমি আমরা যারা অফিসগামী আমাদের কথা তারা ভাববে না, তারাও আমাদের সাথেই যাবে, যত যাই বলুন লাভ নাই। অনেকের কমেন্ট পড়ে তা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন। ৯টার পর যাবে না তারা, আমাদের সাথে ৮টায়ই যাবে ঠেলাঠেলি করে।'